বাঙালিরা আর কবে শিক্ষা নেবে?

দেখে শেখা বাঙালি কি ঠেকে শিখতে চাইছে?
অভিজিৎ রায় 

ছোটবেলায় বাবা বলতেন, পশ্চিমবঙ্গ আজ যা ভাবে ভারত তা ভাবে দশ বছর পর।  আজ বাবা আর নেই।  এই প্রবাদও তাঁরই মতন অন্য কোনও লোকে গমন করে সুখে-শান্তিতে আছে বোধহয়।  কিন্তু বাংলা আজ কোথায় আছে?  
অবিবেচক অথবা চক্রান্তকারী তৃণমূলের অত্যাচারে অতিষ্ট এই বাংলার অশিক্ষিত ধর্মীয় উন্মাদ ভোটারের পাশাপাশি শিক্ষিত বিবেচক ভোটারও আজ যেন-তেন-প্রকারেণ নিজেকে বাঁচাতে তৃণমূল থেকে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।  কিছু মানুষ যে বাম বা কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছেন না এমন নয়, কিন্তু চৌত্রিশ বছরের ভুত তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে চায়ের ঠেক থেকে টিভির পর্দায়।  
এই মুহূর্তে ১৯টি রাজ্যে ক্ষমতায় আছে বিজেপি আর একটিমাত্র রাজ্যে তৃণমূল।   সেই ১৯টি রাজ্যের আর্থিক, সামাজিক সুরক্ষা পরিস্থিতি কি খতিয়ে দেখার সুযোগ হচ্ছে না বাঙালির? গোদি মিডিয়ার মিথ্যে অপপ্রচারের কথা বাদ দিলাম কিন্তু যেটুকু চোখে পড়ছে স্যোসাল মিডিয়া মারফত, রাভিস কুমারের ব্লগ মারফত সেটুকুকেও কেন ভুল প্রমাণিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল বাঙালি?
আসলে নেগেটিভ ভোটিং বাঙালির জন্মসিদ্ধ অধিকার এবং ঐতিহ্য।  সিপিএম থেকে তৃণমূলের পরিবর্তন যেমন  সিপিএমকে ঘৃণার উপর ভিত্তি করে, তেমনই বিজেপির দিকে ক্রমশ ঝুঁকে পড়াও তৃণমূলের প্রতি ঘৃণার জন্য। অবশ্য এরপর কোন অরণ্য বা কোন চিড়িয়াখানা বাঙালির জন্য অপেক্ষা করছে তা দেখার জন্য আমাদের ঘুরে আসতে হবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে।
কিন্তু,  বাঙালির সে অবসর কই? দু'চারদিনের ছুটি পেলে সে পাহাড়, নদী আর সাগর ঘুরে দেখার প্ল্যান করে। যদিও সে জানে না অন্য রাজ্যের পাহাড়, জঙ্গল, নদী বিজেপি সরকার বিক্রি করে দিচ্ছে আদানি, আম্বানিদের।  
শিক্ষা বা কর্মসংস্থান নিয়ে যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বিজেপি তার ভোটের ভাষণে দিয়ে গেল এতদিন তার সত্যতা যাচাই করার জন্য শুধু বিহার, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লির দিকে নজর দিলেই দেখা যাবে।  তৃণমূলের জামানায় যে পরিমাণ স্কুল বন্ধ হয়েছে উত্তরপ্রদেশে এখনও এই বাংলায় তত স্কুল বন্ধ হয়নি। 
যদিও এটা কোনও কাজের কথা নয়।  বাংলায় রেপ হলেই যে তৃণমূল যেমন অন্য রাজ্যের কথা সামনে এনে নিজেদের অক্ষমতাকে লঘু করে দেবার চেষ্টা করে সে ব্যাপারটাও সমানভাবে ধিক্কার জানানোর বিষয়। কিন্তু,  পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে তৃণমূলের বিকল্প কখনোই বিজেপি নয়।  সেক্ষেত্রে আমরা আরও ভয়ঙ্কর অশিক্ষা এবং দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির শিকার হব।
বামেদের প্রতি অনিহা বাঙালির কতটুকু কেটেছে এই নির্বাচন সেটুকুই দেখার।  নতুন মুখ এবং পুরনো ভুল স্বীকার করার দৃঢ়তা দেখিয়ে নতুন বাম কতদূর এগোতে পারবে এই নির্বাচনের ফলাফল সেটুকুই ঠিক করে দেবে।  পাশাপাশি এই নির্বাচন এই পরিসংখ্যান সামনে আনবে আমাদের যে আজকের বাঙালি দেখে শেখার মেধা নিয়ে বাঁচে নাকি ঠেকে শেখার বুদ্ধি নিয়ে?

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর