প্রধান মন্ত্রী সঙ্গে শিলাদিত্য দেব সার্বিক উন্নয়নের ডাক দিলেন
হোজাইতে প্রধানমন্ত্রীর বজ্রকণ্ঠ— উন্নয়নের ডাক, শিলাদিত্য দেবসহ বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ৷৷
------------------------------------------
সঞ্জিত সরকার,হোজাই,৬এপ্রিল: আগামী বৃহস্পতিবার ৯এপ্রিল সারা রাজ্যের সাথে ৬৩নং হোজাই বিধানসভা কেন্দ্রেও ২০২৬ সালের "হাই ভোল্টেজ" বিধানসভা নির্বাচন৷ এই ভোটের আবহে হোজাই বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ঐতিহাসিক জনসভাকে কেন্দ্র করে। দেড় লক্ষাধিক বিশাল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস”-এর মন্ত্রকে সামনে রেখে বিজেপির পক্ষে জোরালো বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। হোজাইকে "মা শীতলা"-র ভূমি এবং রাজ্যকে " মা কামাখ্যা'- ভূমি আখ্যা দিয়ে প্রণাম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্পষ্টভাবে উঠে আসে অসমে গত কয়েক বছরে হওয়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিপুল অগ্রগতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়। তিনি রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান। হোজাই বিধানসভা সমষ্টির বিজেপি প্রার্থী শিলাদিত্য দেব-এর নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার সংগঠন দক্ষতা ও জনসংযোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “শিলাদিত্য দেবের নেতৃত্বে হোজাইতে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় রচিত হবে।”
এছাড়াও অন্যান্য বিজেপি প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও জনসমর্থনের জোয়ার লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রবল আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যায় যে, এবারের নির্বাচনে বিজেপি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী তার প্রায় ৪০মিনিট দীর্ঘ ভাষণে প্রকারান্তরে দিল্লীর "গান্ধী পরিবার" এবং অসমের "গগৈ পরিবার"-কে সবচেয়ে ' ভ্রষ্ট' পরিবার বলে আখ্যা দেন ৷ কংগ্রেস দলকে তীব্র বাক্যবানে বিদ্ধ করে তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস কেবল মাত্র 'পরিবার বাদ'- এর আদর্শে কাজ করে নিজেদের আখের গোছানোর কাজই করে এসেছে এবং করছে ৷ দেশের ও বিশেষ করে অসমের উন্নয়ন কল্পে কংগ্রেস দল ছিটেফোঁটা কাজও করে নি ৷ বিগত ১০বছরে রাজ্যে বিজেপি-র শাসনকালে অসম তথা হোজাইর উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য গতি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে ৷ প্রধানমন্ত্রী এক গুরুত্বপুর্ণ মন্তব্য করে বলেন যে, আগামী ১৬এপ্রিল থেকে ১৮এপ্রিল পর্যন্ত সংসদের বিশেষ 'অধিবেশন' অনুষ্ঠিত হবে এবং এই বিশেষ অধিবেশনে ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য দেশের লোকসভা নির্বাচনে বহু মহিলাদের জন্য আকাঙ্ক্ষিত
"লোকসভা ও বিধানসভা"-য় ৩৫শতাংশ আসন সংরক্ষনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে ৷ এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের কাছে সহযোগীতা করার আহ্বান জানান ৷ সংসদ বা বিধানসভায় মহিলাদের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব হলেই দেশে " নারী শক্তি " আরও গতি পাবে বলে উল্লেখ করেন৷ দেশের ও রাজ্যের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে বিজেপি বা এনডিএ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আজকের ঐতিহাসিক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত আম-জনতাকে বিজেপি প্রার্থীদের বিপুল ও রেকর্ড সংখ্যক ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান ৷ আজকের সভায় নিজের বক্তব্যে হোজাই বিধানসভা কেন্দ্রের 'ফায়ারব্র্যান্ড ' বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শিলাদিত্য দেব বলেন, “বিজেপি শুধু উন্নয়নকেই জানে, উন্নয়নের কোনো ধর্ম নেই। আমরা সব সম্প্রদায়ের সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এবারও বিপুল ভোটে জয়ী হব।” তিনি আরও দাবি করেন যে, সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশও এবার বিজেপির দিকে ঝুঁকছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং শক্তিশালী বার্তা নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই জনসমর্থন ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়। আজকের এই ঐতিহাসিক সভায় উপস্থিত সভার " মধ্যমনি" প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে অসমের সংস্কৃতি মেনে একটি "ফুলাম গামছা" দিয়ে সম্বর্ধনা জানান শিলাদিত্য দেব সহ রাজ্যের মন্ত্রী পীযুষ হাজারিকা, হোজাই জেলা বিজেপি সভাপতি দিলীপ ধর , সাংসদ কামাখ্যা প্রসাদ তাসা সম্বর্ধনা জানান ৷ সভায় শিলাদিত্য দেব সহ লামডিং বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শিবু মিশ্র,কার্বি আংলং জেলার বিজেপি প্রার্থী তথা কার্বি আংলং স্ব-শাসিত পরিষদের সিইএম তুলিরাম রংহাং, বিন্নাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের অগপ প্রার্থী সাহাবুদ্দিন মজুমদার এবং বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী তথা বিধায়ক জীতু গোস্বামীও উপস্থিত ছিলেন ৷ প্রধানমন্ত্রীর হোজাইতে আজকের বিশাল ও ঐতিহাসিক নির্বাচনী জনসভা হোজাই জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র সহ পার্শ্ববর্তী কার্বি আংলং, ডিমা হাসাও জেলার নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সমীকরন পাল্টে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের অভিমত ৷৷
Comments
Post a Comment