বিদেশি বিতরণ ২০ বছর বাদ ইস্যু হতে পারে না
বিদেশি বিতরণ ২০ বাদ কোনো ইস্যু হতে পারেননা
নয়া ঠাহর সংবাদদাতা
বিগত দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে যারা বিদেশি বিতাড়নে সম্পুর্ন ব্যর্থ হয়েছেন তাঁদের এরজন্য আরো পাঁচ বছর সময় চাওয়া হাস্যকর-বিডিএফ।
গৃহ মন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি আসামে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে আবার বলেছেন যে বিজেপি দলকে আরো পাঁচ বছর সুযোগ দিলে তাঁরা আসাম থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশ কারীকে বিতাড়িত করবেন । এইসব রাজনৈতিক মিথ্যাচার ও বিভাজনের রাজনীতিতে প্রভাবিত না হয়ে প্রত্যেক সমষ্টির উন্নয়ন ও জীবন জীবিকার সংস্থানকে প্রাথমিকতা দিয়ে বরাক বাসীকে ভোট দেবার আহবান জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে আশির দশকের আসাম আন্দোলনের মূল ইস্যু ছিল বিদেশি বিতাড়ন। ১৯৮৪ সালে এই নিয়ে আসাম চুক্তি সম্পাদিত হয়। যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিলেন তাঁরা ভোটে লড়ে এরপর বিধানসভা দখল করেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মিলিয়ে দশবছর রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় ছিল অসম গন পরিষদ দল। কিন্তু এই দশবছরে মোট ৭ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে তাঁরা বহিস্কার করেছিলেন। মধ্যে কংগ্রেসের শাসন চলেছে,এবং শেষ দশ বছর আসামের দায়িত্বে রয়েছে বিজেপি সরকার। প্রত্যেক সরকারের আমলেই আসাম চুক্তি রূপায়ণ মন্ত্রক বলে একটি মন্ত্রক কাজ করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এযাবৎ কতজন বিদেশি শনাক্ত তথা বিতাড়িত হয়েছে তা সবাই জানেন।
প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে বিদেশি শনাক্তকরণের জন্য ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করে এন আর সি করা হল। কিন্তু তাতে অবশেষে সামান্য সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হবে বলেই সেই প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে দেওয়া হল। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে রাজ্যের অনুপ্রবেশ ইস্যু চিরতরে সমাপ্ত হত। কিন্তু ভোটের রাজনীতির স্বার্থেই যে এই প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং হবে তা রাজ্যের সমস্ত সচেতন নাগরিকরা ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন। বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক এদিন বলেন যে দশবছর আগে নির্বাচনী জনসভায় যখন আসামে অমিত শাহ এসেছিলেন তখন একই কথা বলেছিলেন এবং এখনও তিনি একই ক্যাসেট বাজিয়ে চলেছেন। অথচ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তে অবরোধ করার মূল দায়িত্বে বিগত একদশক ধরে রয়েছে এই অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন গৃহ মন্ত্রক।প্রদীপ বাবু এদিন বলেন যে ইদানিং জাতিয়তাবাদী রাজনীতির সাথে বিজেপির রাস্ট্রবাদী রাজনীতির মিশ্রণ করতে গিয়ে মিঞা মুসলমানদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মূলতঃ মিঞা মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ন্যারেটিভ চালিয়ে যাচ্ছেন।তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাঁদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবেনা, তাঁদের মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া হবে ইত্যাদি বলে ক্রমাগত বিষোদগার চলছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যে রাজ্যে বিজেপি দল তথা এনডিএর অন্যতম শরিক অসম গন পরিষদ দলের জন্য বিজেপি যে ২৬টি সংখ্যালঘু সমষ্ঠি বরাদ্দ করেছে তাঁর অধিকাংশতেই তাঁরা এই তথাকথিত মিঞা মুসলমানদের প্রার্থী করেছেন। অর্থাৎ নির্বাচিত হলে সেইসব মিঞা মুসলমানদের নিয়েই সরকার গড়ার পরিকল্পনা করছে বিজেপি দল।
প্রদীপ বাবু বলেন যে মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি দলের এই অনুপ্রবেশকারী তথা মিঞা বিরোধী হুঙ্কার যে পুরোপুরি নির্বাচনী স্বার্থে নিয়োজিত এটা তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ এবং জনগন তা সম্যক উপলব্ধি করতে পারছেন। তিনি বলেন তারপরও কেউ যদি সব বুঝেও অন্ধ থাকেন তাহলে তাঁরা নিজের পায়েই কুড়াল মারবেন। তিনি বলেন কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী নয়, অনুন্নয়ন, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি যোগাযোগের সমস্যা, বন্যা এগুলোই আমাদের মূল শত্রু। তাই ধর্মীয় উস্কানি নয় উন্নয়নে পাখির চোখ রেখে ভোট দিতে হবে সবাইকে। অন্যথা আবারও একটি সুযোগ নষ্ট হবে।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য এদিন বলেন যে বরাকের দুটি বিধানসভা আসন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বিগত সরকারের শাসনকালে। ডিলিমিটেশন করে অনৈতিক ভাবে বিভিন্ন সমষ্ঠিকে উলটপালট করা হয়েছিল, যা এই উপত্যকার রাজনৈতিক অধিকারকে প্রশ্নাতীতভাবে সঙ্কুচিত করেছে। কিন্তু এই ইস্যু নিয়ে বর্তমান নির্বাচন প্রার্থীরা সম্পুর্ন নীরব। তিনি বলেন বরাক উপত্যকার জলবাহী খাল সমুহের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ২০২২ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর। আজ অব্দি সেই কাজ শেষ হয়নি। নদী বাঁধের সংস্কার ও স্লুইস গেটসমুহের সংস্কার তথা নবায়নের কাজও হয়নি শেষ বিগত তিন বছরে । এমনকি যা কাজ হয়েছে তাঁর মান নিয়েও জনমনে সন্দেহ রয়েছে। মহাসড়কের কাজ দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে ঝুলন্ত। বরাক উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী এই নিয়ে কদিন দৌড়াদৌড়ি তথা প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন আশ্চর্যজনক ভাবে নীরব। উল্টে প্রধানমন্ত্রী আবার নতুন একটি এক্সপ্রেস হাইওয়ের শিলান্যাস করে গেছেন। যদি পূর্বতন একটি রাস্তার কাজ,যা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্বপ্ন ছিল,তা পঁচিশ বছরে শেষ নাহয় তবে নতুন আরেকটি প্রকল্প শেষ হতে কতো সময় লাগতে পারে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে।
জয়দীপ বলেন যে আসামের জন্য দুইটি মাল্টি মডেল লজিস্টিক পার্কের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। প্রথমটি শিলচরে ও দ্বিতীয়টি যোগীঘোপায়। যোগীঘোপার প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শেষের পথে। কিন্তু লোকসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শিলচরের জন্য বর্তমানে এমন কোন পরিকল্পনা নেই। অথচ এই নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতারা বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিডিএফ আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এদিন বলেন যে একইভাবে গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট প্রকল্প তৎকালীন স্থানীয় সাংসদের অপরিকল্পিত,উন্নাসিক পদক্ষেপ, বর্তমান সরকারের অনাগ্রহ, এখানকার জনপ্রতিনিধিদের নির্বিকার ভূমিকায় আটকে রয়েছে। তিনি বলেন বন্যা নিয়ন্ত্রনে কোন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যেমন বরাক খনন বা বিজ্ঞান সম্মত প্রকল্প রূপায়ন এসব নিয়ে রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার নীরব। বরাকের কৃষি ও চা শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও কোন উদ্যোগ নেই।
হৃষীকেশ বলেন বেকারত্বের পর এসব এই উপত্যকার জ্বলন্ত সমস্যা। কাজেই যে প্রার্থী বা দল এসব সমাধানে গুরুত্ব দেবেন তাঁদের ভোট দেওয়াই প্রাথমিকতা হোক।
বিডিএফ এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক দেবায়ন দেব এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।
Comments
Post a Comment