বিশ্বে ভয়ঙ্কর অবস্থা দেশে দেশে অন্ধকার বাঁচাবে কে ?

এই লেখা হয়তো আপনাদের জন্য নয়
*********************************

নিউইয়র্কে মিছিল হচ্ছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে,  দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে। আর, ভারতে গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ লাফাচ্ছে রামনবমীর মিছিলের ডিজের তালে।  বাংলার এই হালে পানি জোগাচ্ছে দু'হাজার ছাব্বিশের ভোট।  নতুন যাত্রাপালা "মা তুমি কার?" অভয়ার নাকি মৌমিতার।
গত তিনদিন ধরে কিউবা অন্ধকারে ডুবে আছে। এনার্জি লকডাউন শুরু হয়েছে বিশ্বের তেরোটি দেশে।  আমাদের দেশের পেট্রোল পাম্পে লাইন যত দীর্ঘ হচ্ছে সংসদে মন্ত্রীদের ভাষণ ততটাই সংক্ষিপ্ত হচ্ছে গ্যাস সংকট নিয়ে।  ভারতের বিদেশনীতি পুরো ফ্লপ করেছে যদিও ধুরন্ধর টু বক্স অফিসে ব্যবসা করছে ভালই।  দেশপ্রেমের প্রোপাগান্ডায় বলিউড এগোচ্ছে আর মানুষ টাইমমেশিনে চড়ে ভুলে যাচ্ছে কোন রাজার গল্প কোন রাজার শাসনে দেখছে।
বাংলার ভোটারের সামনে এখন কোনও পজিটিভ রাজনৈতিক দল নেই। শুধু একরাশ ছল আর কোলাহল।   অন্ধের নগরীতে আয়না বেচার কাজ করতে নেমে মাঝেমধ্যে ক্লান্ত মনে হয়।  একরাশ সংশয় ভিড় করে আছে যাবতীয় শব্দ, অক্ষর আর যতিচিহ্নের পাড়ায়।  

ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডার, ডিজিটাল আই-ডি, সি.বি.ডি.সি., এবনর্মাল ওয়েদার চেঞ্জ -- এসব এখনও কফিহাউজের আড্ডায় ভিড় জমায়নি।  ডি.এ.'র হিসাব আর ফ্ল্যাটের ই.এম.আই. নিয়ে ব্যতিব্যস্ত বাঙালি এখন ফুড সাপ্লিমেন্টের খোঁজ খবর নিচ্ছে আর ফ্যামিলি বাজেট কষছে নতুন করে।  বিজেপি,  সিপিএম,  তৃণমূলের পরিচয় নিয়ে নিত্যনতুন মিম আর রিলের মাঝে নেতামন্ত্রীদের কেচ্ছা নিয়ে সোরগোল ভারতীয় রাজনীতি।  এপস্টিইন ফাইল থেকে স্মৃতি ইরানির মন্ত্রীত্বের মাঝে ঢুকে পড়েছে অনিল আম্বানির ঋণমুক্তির আশ্চর্য রূপকথা, আদানির ঘর-ঘর কা গ্যাস পাইপ লাইন আর এক টাকা একরের জমি কেনার নাটক।

আমাদের সমস্ত ফাটক এখন বন্ধ।  দলবদলের গণতন্ত্রে আমরা শুধুই খাঁচায় বন্দি সিংহ।  রিং মাস্টার 'মিঁত্রো' বললেই আমরা লাফিয়ে উঠে থালা বাজাই অথবা সিলিন্ডার ; কিংবা আলো জ্বালানো অথবা নেভানোর জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করি।  এনার্জি লকডাউনের জন্য গলা ফাটিয়ে ব্যক্তিগত এনার্জি ধ্বংস করে হাঁপাতে থাকি আর আল্লা, ভগবান, গডকে নাম ধরে ডাকি।  শয়তান প্রস্তুত থাকে এবং নেমে আসে আমাদের ঘরে, পাড়ায়, শহরে।  অবসরে, আমাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে ঘরে বসিয়ে রেখে, ভুখা পেটে রেখে, ডেকে ডেকে দেখায় অনন্তের বিবাহ বাসরে নাচতে থাকা মহানায়িকার অর্ধনগ্ন শরীর।  মুহূর্ত ভুলিয়ে দিয়ে আমাদের সামনে গল্প শোনানো হয় দু'হাজার সাতচল্লিশের বিকাশের।  আজকের বিনাশের, আজকের দুর্নীতির ইস্যুগুলো কেমন যেন ভিখিরির ম্লান পোশাকের মতো চোখ টানে কিন্তু মন টানে না।  আমরা পেরিয়ে যাই প্রত্যেকটা দিন।  রাত দখলের লড়াই এখন অতীত।  এখন দিন দখলের জন্য পথে নামার সময় আমরা ভুলে যাই।  রামনবমীর মিছিল দেখতে দেখতে কেটে যায় আমাদের অনেকেরই বসন্ত-বিকেল।


© অভিজিৎ রায়

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর