সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র দেশ! , ভারত কে বিক্রি করা যায় না

সত্য সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ!!
বাংলাদেশ সোচ্চার ছিল  পাইপলাইনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ভারতের কাছে বাংলাদেশ বিক্রি করে দিয়েছেন । এখন সেই পাইপ লাইনেই ভারত থেকে জ্বালানি গেল বাংলাদেশে‼️

মানস বন্দ্যোপাধ্যায় 
ইসরায়েল - ইরান যুদ্ধ না হলে , মধ্যপ্রাচ্যের তেলের সংকট না হলে অথবা হরমুজ প্রণালী বন্ধ না থাকলে এই বাংলাদেশের মানুষ আবার ভারত এবং শেখ হাসিনার অনেক অবদানের কথা জানতেই পারতো না।
গতকালের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশের চরম সংকটে ১২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ও জ্বালানি দেবার মানবিক পদক্ষেপ লক্ষ্য করুন। নির্বাসিত সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল বাংলাদেশের সংকটে ভারত তাদের ডিজেল ও জ্বালানি দিয়ে সাহায্য করবে। সেজন্য দীর্ঘ পাইপলাইন বসানো হয়েছিল।

১৩১.৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন যার মধ্যে ১২৬ কিলোমিটার হচ্ছে বাংলাদেশে। ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর আসা এই পাইপলাইন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের গুজবের শেষ ছিলো না। কত প্রোপাগান্ডা হলো শেখ হাসিনাকে নিয়ে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা গোপনে ভারতের কাছে বাংলাদেশের তেল ও গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছেন!

২০২২ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই পাইপলাইন উদ্বোধন করলে বিএনপি ও জামায়াত এই পাইপলাইন সহ নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে এতসব আপত্তিকর মন্তব্য করেছিল , যা তাদের নোংরা ও ভণ্ডামির মুখোশ থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ তা বুঝতে পারেনি।এরা তখন হাজারবার শেখ হাসিনা ও ভারতের নরেন্দ্র মোদীর বিয়ে দিচ্ছিল। সেই পঙ্গপালের আজকে শেখ হাসিনার পায়েই পড়তে হলো শেষ পর্যন্ত। ভারতের নরেন্দ্র মোদী ছাড়া রক্ষা হলো না। একেই বলে " রিভেঞ্জ অফ নেচার।" 

বাংলাদেশের পঙ্গপালের উপর প্রকৃতি এক মধুর প্রতিশোধ নিলো। ভারতের তেল কর্পোরেশন ও বাংলাদেশের পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর মধ্যে ১৫ বছরের এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পেরেছিল একমাত্র শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে। বিএনপি ও জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে তা ইহজন্মে ও সফল হতো না। বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও পরবর্তীতে ১০ লাখ টন ডিজেল পর্যন্ত ভারত থেকে আনতে পারবে। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশের পক্ষে শেখ হাসিনা ও ভারতের পক্ষে নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ মোট ১৫ বছর ভারত থেকে একটানা তেল পাবে।

বাংলাদেশের প্রতি বছর প্রায় গড়ে ৪৩ লাখ টন ডিজেলের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ৭০ শতাংশ হচ্ছে ডিজেল।দেশে দৈনিক মোট ১২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের চাহিদা আছে।
প্রতি মাসে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল লাগে বাংলাদেশের। বাংলাদেশের কলকারখানা থেকে শুরু করে পরিবরহন অর্থাৎ অর্থনীতির বড় একটা অংশ ডিজেল নির্ভর।ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে যে বাণিজ্যিক সংকট তৈরি হয়েছে তাই চেয়েছেন বাংলাদেশের দূর্নীতিবাজ রাজনীতিবীদরা। ব্যাবসায়ীরা এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে রাজনীতি করবেন। সরকার জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটবে। বিএনপি ও জামায়াতের জন্য ইরান - ইসরায়েল যুদ্ধ হচ্ছে আশীর্বাদ। দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সেই অর্থ নিজেদের পকেটে ঢুকাবে। বিদ্যুৎ বিপর্যয় করে ২০০১ সালের অন্ধকার যুগে নিয়ে যাবে। ভারতের জন্য টন টন ইলিশ পাঠিয়ে কয়দিন পর পর শেখ হাসিনা বিরোধী স্লোগান দিয়ে মাঠ গরম করে রাখবে। এভাবেই দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাবে দেশের বাইরে।

শেখ হাসিনার সরকার যেখানে ভারত থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল কিনতো তখন বলা হতো শেখ হাসিনা বাংলাদেশেকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন! বর্তমান সরকার ভারতের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল কিনছে অর্থাৎ আরও পঞ্চাশ হাজার টন ডিজেল বেশি কিনছে। এখন আর দিল্লী না ঢাকা স্লোগান শোনা যাচ্ছে না? ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। এখন আর ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখলের যৌন জিহাদের স্লোগান বাংলাদেশের কোথাও শোনা যাচ্ছে না।এই তেল আবার আমদানি করবে শেখ হাসিনার করে যাওয়া ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে। এদের কি নূন্যতম লজ্জা আছে বলে আপনাদের মনে হয়?

ভারত বাংলাদেশে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের মধ্যে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হবে , নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি , কলকারখানা ও কৃষি কাজে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। দেশে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদী সংকটে পড়বে বাংলাদেশের পরিবহন বাণিজ্য।

ভারত থেকে ডিজেল আমদানি না করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল আমদানি করলে ডলারের কিনতে গিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষতি ও উচ্চ পরিবহন ক্ষতির মুখোমুখি পড়বে।এর ফলে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের পরিবহন ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি পেয়ে ডলার সংকটে পড়বে।যার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সহ পুরো অর্থনীতির উপর। তেলের সাথে একটি দেশের সম্পূর্ণ অর্থনীতি জড়িত। শেখ হাসিনা ভারতের সাথে বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক পাইপলাইন তৈরি করে গেছেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারল প্রতি ডিজেলের দাম যেখানে ১০০ ডলারের উপরে সেখানে ভারত থেকে ব্যারেলপ্রতি ডিজেল বাংলাদেশ কিনছে প্রায় ১৭ ডলার কমে মাত্র ৮৩ ডলারে।১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেলের দাম পড়ছে মাত্র ১,৪৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশের এই আমদানি খরচ কমাতে প্রতিই ব্যারল প্রতি ১৭ ডলার কমে তেল কেনার এই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার।একই তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করতে বাংলাদেশের খরচ পড়তো ১৮০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকা কমে ১৫ বছর মেয়াদি তেল পাওয়ার এই সুযোগটাও করে দিয়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এই জন্য বাংলাদেশে সব দোষ শেখ হাসিনার।প্রতি টনে ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হলে একটা সময় ১০ লাখ টন ডিজেল একসাথে নিলে বাংলাদেশের সাশ্রয় হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। অন্যরা যেখানে সারাজীবন ক্ষমতায় থেকে দেশ লুটার কথা ভেবেছে , শেখ হাসিনা সেখানে মায়ের মমতায় বাংলাদেশকে বুকে আগলে রেখেছিলেন। তবুও শেখ হাসিনাকে বারবার দোষী বানানো হলো।বড় বিচিত্র বাংলাদেশের মানুষ।

এজন্য বাংলাদেশের একটি প্রচলিত প্রবাদ হলো: 
উপকারীরে বাঘে খায়। অর্থাৎ কারো উপকার করলে সে বিনিময়ে ক্ষতি ও বেঈমানি করবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের বেশি উপকার করেছেন বলেই মানুষ তার বাড়ি ও ধানমন্ডি ৩২ পুড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তার আগে তিনি যদি পঙ্গপাল টিপে টিপে পাকিস্তানের করাচিতে ও ইসলামাবাদের পাঠিয়ে দিতেন তাহলে তার দীর্ঘ ১৭ বছর শাসনের  পর ,অভূতপূর্ব উন্নয়নের পর দেশের মানুষকে আবার খাম্বা দেখতে হতো না। যতদিন যাবে মানুষ শেখ হাসিনার অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাবে।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যর ঐতিহাসিক কবিতার একটু পরিবর্তন করে বলি," বলরে জামাতে,
 বলরে রাজাকার
তোদের প্রাসাদে জমা রয়েছে
কতো বেইমান কুলাঙ্গার? ( লেখক : বিশিষ্ট সাংবাদিক)

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর