ভারত বিরোধী জিগির থেকে কি সরে আসবে বাংলদেশে
ভারত বিরোধী জিগির থেকে কী সরে আসবে বাংলাদেশ?
প্রদীপ দত্ত রায়
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ভারতের সঙ্গে এই দেশের সম্পর্ক ফের আগের মতই মৈত্রীসুলভ হয়ে উঠবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে। সরকার গঠনের আগে জুলাই আন্দোলনকারীদের নিয়ে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল, সে সরকার ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করা এমনকি দখল করার হুংকার পর্যন্ত দিয়েছিল। চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডর কে দখল করে উত্তর পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুংকার বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে করা হয়েছে। মোহাম্মদ ইউনুস নিজে চীনের প্রতিনিধিদের সামনে অক্লেসে বলেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীল এবং এটা একটু চেষ্টা করলেই বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। বাংলাদেশের তরফ থেকে এ ধরনের হুংকার পাওয়ার পর ভারত চিকেন নেক অঞ্চলে নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও যেসব অর্বাচীন হুংকার ছেড়েছিল আসলে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই তা এবারের নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে। ভারতের মতো শক্তিশালী একটি দেশকে শত্রুতে পরিণত করে আখেরে যেকোনো লাভ হয় না এর জ্বলন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। ওই দেশটি ভারত বিরোধিতা করতে করতে এখন ভিখেরিতে পরিণত হয়ে গেছে। মোঃ ইউসুফ বাংলাদেশকে সেই ভিখেরির সারিতে দাঁড় করিয়ে দিতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এবার নির্বাচনে ইউনুস সহ সেই অপশক্তি গুলোকে পরাজিত করে নিজের দেশকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় একমাত্র গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে লড়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। এই সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত বিরোধী জিগির থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে কেবল তাই নয় ভারতের সঙ্গে আগের সেই মৈত্রীসুলভ সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। কথায় কথায় যারা ভারতকে দোষারোপ করত তারা এখন যথেষ্ট কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রিয় অসংখ্য মানুষ জানেন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে বাংলাদেশের লাভ ছাড়া কোন ক্ষতি নেই। নিরাপত্তার জন্য ভারতের মতো একটি শক্তিশালী দেশ বন্ধু হিসাবে পাশে থাকলে অনেক অপশক্তি বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করতে ৭ বার চিন্তা করবে।
Comments
Post a Comment