শিলং টাইমস সম্পাদকের কলমে অসম বাংলা ভোট রাজনীতি
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পথে পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপির এই রাজ্য জেতার বাসনা উদগ্ৰ, কারণ ২০১১ থেকে এই বাংলা তৃণমূল কংগ্রেসের দুগ, টানা তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ও-দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস জোর গলায় বলে আসছেন যে, তাঁরা বিজেপিকে রাজ্যে এতটুকু জমি দিতে নারাজ। গেরুয়া শিবির ও তাদের বিভাজনমূলক মুসলিম-বিরোধী রাজনীতি যে তাঁর কত অপছন্দ, তার নিয়ে কখনও রাখঢাক করেননি মমতা। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন করে হাতিয়ার করে তৃণমূলের ভোটার বলে পরিচিত মুসলিম ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে ছেঁকে বাদ দেওয়া নিশ্চিত করছে।
ভোট অসমেও। অসমের বর্তমান বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের 'মিঁয়া' আখ্যা দিয়ে একটি ভয়ের পরিমণ্ডল নির্মাণ করছেন। সেখানে এই বিভ্রম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তালিকা থেকে নাম না-বাদ দিলে এই 'মিয়া'রা অসম দখল করে নেবে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রণয়নের পরেও নানা কারণে যাঁদের বৈধ নথি নেই, এখন শয়ে শয়ে মানুষ মাথার উপর ছাদ ও নাগরিকত্ব হারিয়েছেন এবং শরণার্থী শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।
স্বভাবতই, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর অস্থিরতা তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একে 'নিয়মিত' প্রশাসনিক কার্যকলাপ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যে রকম তাড়াহুড়ো করে, প্রখর কৌশলে এই কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দফতরের উপর আস্থাই নষ্ট হতে বসেছে। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নরেন্দ্র মোদী সরকারের বশংবদে পরিণত হয়েছে, অস্বাভাবিক তংপরতা ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ কর্তৃত্ববাদী রাজনীতিকে প্রতিরোধ করেছে। এসআইআর মামলায় সওয়াল করার জন্য আদালতে অবতীর্ণ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। একচ্ছত্রবাদী শাসনব্যবস্থা যে ক্রমবর্ধমান, এবং তা যে বাংলায় প্রভুত্ব বিস্তার করতে চাইছে, সে বিষয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
গণতন্ত্র যদি এই ভাবে কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য যদি হয় কেবল শাসকের দলীয় স্বার্থপূরণ, তবে ক্রমে এ-দেশে যাঁদের কাছে কাগজপত্র নেই তাঁরা হারিয়ে যাবেন, তাঁদের কন্ঠও হারিয়ে যাবে। সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই- বিশেষ নিবিড় সংশোধন বিষয়ে বিজেপির এই অনড়তার মূল হেতু এটাই। (সূত্র এবিপি )
Comments
Post a Comment