"চরণ ছুঁয়ে যায় "শ্রী চরণে ঠাঁই পেলেন শঙ্কর , মনি শংকর মুখ পাধ্যায়

হাওড়া থেকে তারার দেশে পাড়ি দিলেন শংকরদা। জন্মের পর থেকেই হাওড়া শহরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। বরংসাহিত্য পত্রিকার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই 💐🙏
শংকরদা ( জন্ম: ৭ ডিসেম্বর ১৯৩৩) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক। তার আসল নাম মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল চৌরঙ্গী, সীমাবদ্ধ এবং জন অরণ্য। এই তিনটি বই নিয়ে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট সম্মানে ভূষিত হন।

প্রাথমিক জীবন: 

শংকরদা ১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর যশোরের বনগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আইনজীবী বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগেই চলে যান কলকাতার ওপারে হাওড়ায়। সেখানেই শংকরদার বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা ও সাহিত্য সাধনার শুরু। জীবনের শুরুতে কখনো ফেরিওয়ালা, টাইপরাইটার ক্লিনার, কখনো প্রাইভেট টিউশনি, কখনো শিক্ষকতা অথবা জুট ব্রোকারের কনিষ্ঠ কেরানিগিরি করেছেন। এক ইংরেজের অনুপ্রেরণায় শুরু করেন লেখালেখি।

সাহিত্য জীবন: 

তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।অল্প বয়সে কত অজানারে বইটি লিখে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় তার সীমাবদ্ধ এবং জন অরণ্য উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।  চৌরঙ্গী উপন্যাস অবলম্বনেও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এতে মুখ্য চরিত্র স্যাটা বোসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উত্তম কুমার। সেই প্রসঙ্গে শংকরদা বললেন, "সত্যজিৎবাবুই আমাকে সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, ছড়িয়ে দিয়েছে।"২০১২ সাল পর্যন্ত চৌরঙ্গী উপন্যাসের ১১১তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বোধোদয় উপন্যাস প্রকাশের পর শংকরদাকে উৎসাহ-বাণী পাঠান শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়: "ব্রাইট বোল্ড বেপরোয়া"। ভাবনা বা প্রকাশভঙ্গিতে এ-উপন্যাস নিজের অন্য লেখালেখি থেকে অনেকটাই অন্য রকম হওয়ায় তখন তা পড়তে দিয়েছিলেন মুম্বইবাসী শরদিন্দুকে, পড়ে তিনি বলেছিলেন "তোমার এই লেখায় জননী-জন্মভূমিকেই আমি সারাক্ষণ উপলব্ধি করলাম।" এই বই সম্পর্কে শংকরদা বলেন, "পাঠকমহলের নিন্দা ও প্রশংসার ডালি নিয়ে আমি নিজেও একসময় বোধোদয়-কে ভালবাসতে শুরু করেছি।" সত্তর দশকের অশান্ত কলকাতা নিয়ে তার ‘স্থানীয় সংবাদ’ উপন্যাসটি এবং ‘সুবর্ণ সুযোগ’— এই তিনটি উপন্যাস মিলিয়ে আগে প্রকাশিত হয়েছিল যে উপন্যাস-সংগ্রহ জন্মভূমি, সম্প্রতি[কখন?] প্রকাশিত হয় তার ১০২তম সংস্করণ।

গ্রন্থ তালিকা: 

রসবতী, বঙ্গ বসুন্ধরা,চরণ ছুঁয়ে যাই (প্রথম খণ্ড), শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ রহস্যামৃত, মনজঙ্গল, রূপতাপস, মরুভূমি, আশা-আকাঙ্ক্ষা, তীরন্দাজ, পটভূমি, কামনা বাসনা, অনেক দূর, সুখ সাগর, সীমন্ত সংবাদ, চৌরঙ্গী, একদিন হঠাৎ, মুক্তির স্বাদ, কাজ, নবীনা এবিসিডি, যেখানে যেমন, বাংলার মেয়ে, এক ব্যাগ শংকর, ঘরের মধ্যে ঘর, সোনার সংসার, মাথার উপর ছাদ, মানবসাগর তীরে, সুবর্ণ সুযোগ, সীমাবদ্ধ, স্থানীয় সংবাদ, এপার বাংলা ওপার বাংলা, নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি, বোধোদয়, এক দুই তিন, সার্থক জনম, মানচিত্র, যোগ বিয়োগ গুন ভাগ, পাত্র-পাত্রী, পদ্মপাতায় জল,যা বলো তাই বলো, কত অজানারে, বিত্তবাসনা, সম্রাট ও সুন্দরী, মান সম্মান
, হনিমুন, নগরনন্দিনী, জন অরণ্য, এক যে ছিল দেশ, লক্ষ্মীর সন্ধানে, সপ্তসাগর পারে, অবসরিকা, স্বর্গ মর্ত পাতাল, তনয়া, চিরকালের উপকথা, সহসা, চরণ ছুঁয়ে যাই (দ্বিতীয় খণ্ড), অচেনা অজানা বিবেকানন্দ (২০০৩)

সম্মাননা : 
২০১৬ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট সম্মান।
২০১৯ সালে তাকে ১ বছরের জন্য কলকাতার শেরিফ পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
২০২০: একা একা একাশি বইটির জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। 

মৃত্যু : 
২০ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শংকরদা আপনার সাথে আর আমার দেখা হবে না। ভাল থাকবেন ওপারে।শ্রদ্ধা রইল রণজিতের।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর