অরুণ চন্দ্রের ১২৮ তম জন্ম দিবস উদযাপন

*জননায়ক অরুণকুমার চন্দের ১২৮ তম জন্মদিবস পালন শিলচরে*

 শিলচর প্রতিমূর্তি সংরক্ষণ ও স্মৃতিরক্ষা কমিটির উদ্যোগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার জননায়ক অরুণকুমার চন্দের ১২৮ তম জন্মদিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় শিলচরে পালন করা হয়। সদরঘাটে অরুণকুমার পার্কে স্থাপিত অরুণকুমার চন্দের  প্রতিমূর্তির পাদদেশে সকাল সাড়ে আটটায় শহরের বিশিষ্টজনেরা জমায়েত হয়ে এই দেশবরেণ্য নেতার প্রতি পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 
       প্রতিমূর্তি সংরক্ষণ ও স্মৃতিরক্ষা কমিটির সম্পাদক প্রবীর রায়চৌধুরী স্বাগত বক্তব্যে অরুণকুমার চন্দের জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে সমবেত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অধিক সংখ্যায় জনসমাগম হওয়ায় তিনি সন্তোষ ব্যক্ত করেন। ড০ পরিতোষ দত্ত বলেন, অরুণকুমার চন্দ এই অঞ্চলের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও  শ্রমিক আন্দোলনে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে গেছেন তা অতুলনীয়। বরাকবঙ্গের কাছাড় জেলা সমিতির সভাপতি সঞ্জীব দেব লস্কর স্বাধীনতা আন্দোলনে অরুণ কুমার চন্দের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তার প্রয়াত পিতা স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্রমোহন দেবলস্করের সঙ্গে অরুণকুমার চন্দের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তা উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সঙ্গে অরুণকুমার চন্দের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলেন। তিনি বলেন, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বাস্তবায়নে আরও অনেককাল বিলম্ব হত যদি না অরুণকুমার চন্দ এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতেন। কাছাড় কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রমা পুরকায়স্থ জানান,সম্পর্কে তিনি অরুণকুমার চন্দের নাতনি। তিনি বলেন, তার দাদুর ঘর-সংসারের চেয়েও বেশি চিন্তা ছিল দেশ ও সমাজের জন্য।
    শিলচর পুর নিগমের কমিশনার নরোত্তম শর্মা জানান, অরুণচন্দের নামাঙ্কিত পার্কটি বর্তমানে পুর নিগমের পক্ষ থেকে সংস্কার করা হচ্ছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলে পার্কটি জন সাধারণের জন্য সারাদিন খোলা থাকবে। অবশ্য অপ্রীতিকর কোনও  পরিস্থিতি  যাতে না ঘটে,সেজন্য সন্ধ্যাবেলা পার্কটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত  প্রকৌশলী নীহার রঞ্জন পাল অরুণকুমার চন্দের রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোকপাত করেন। এছাড়া গুরুচরণ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে অরুণচন্দের অবদান স্মরণ করে গুরুচরণ কলেজ স্থাপনায় অরুণচন্দের ভগ্নীপতি হেমচন্দ্র দত্ত, কিরণশশী নাগ,সে সময়ে কাছড়ের সাব- ইন্সপেক্টর অব স্কুলস্ বিষ্ণুচরণ দে পুরকায়স্থ প্রমুখের সদর্থক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। সমাজকর্মী সাধন পুরকায়স্থ তার বক্তব্যে বলেন,চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অরুণকুমার চন্দের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি জানান,শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান ছাড়া  অরুণচন্দ শ্রমিক আন্দোলনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে অরুণকুমার চন্দকে একাধিকবার ব্রিটিশের কারাগারে যেতে হয়েছিল। এই ধরনের আত্মত্যাগী নেতাদের আদর্শ অনুসরণ করা আজকের প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য পরম্পরা আজ উপেক্ষিত। তার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে শ্রীপুরকায়স্থ বলেন আজকের বরাক উপত্যকা বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বরাকবঙ্গের কেন্দ্রীয় কমিটির সদ্য প্রাক্তন সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত তার বক্তব্যে দেশবরেণ্য এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর জন্মদিনে রাজনৈতিক নেতাদের অনুপস্থিতির সমালোচনা করেন। 
   সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রবীর রায়চৌধুরী। প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন জেলা বার সংস্থার সভাপতি দুলাল মিত্র,ড০ পরিতোষ দত্ত ও আব্দুল হাই লস্কর। উপস্থিত ছিলেন পীযূষ চক্রবর্তী, উত্তমকুমার সাহা, মহীতোষ পাল, নন্দদুলাল সাহা,সৌরভ দেব,কাজল রক্ষিত,সৌগত পাল ও সোনালী রক্ষিত।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর