অকথিত কাহিনী বিশ্ব রাজনীতি খেলা
বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে হানি ট্র্যাপ একটি কার্যকর হাতিয়ার
সরকার ফেলে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট
মানস বন্দ্যোপাধ্যায়
দিল্লি
আমেরিকা সহ বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশগুলি নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান দের হত্যা অথবা সরিয়ে দিয়ে সরকার ফেলে দিয়ে নিজেদের পুতুল সরকার গড়ে তুলতে নানা ধরনের অভিসন্ধি করে এসেছে। এখনো করছে।
১)সময়টা ছিল ১৯৫৯ সাল।
১৯ বছর বয়সী আমেরিকান মেয়ে হোপ কুক ভারতে এসেছিলেন। তিনি দার্জিলিং-এর একই হোটেলে উঠেছিলেন যেখানে সিকিমের যুবরাজ পালডেন থন্ডুপ নামগিয়াল থাকতেন। তাদের দেখা হয়েছিল...প্রেম হয়েছিল এবং তারপর মাত্র চার বছর পরে একটি বৌদ্ধ বিহারে তাদের বিয়ে হয়েছিল।
এই বিয়েতে ভারতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। এভাবে একজন সাধারণ মেয়ে সিকিমের রানী হয়ে ওঠে। সিকিমের রানী হওয়ার সাথে সাথেই তিনি ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেছিলেন। সিকিম একটি স্বাধীন দেশ এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তার বক্তব্য দেশী-বিদেশী উভয় গণমাধ্যম থেকে ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল। সেই সময় সিকিম কিন্তু তখনও ভারতের সাথে সম্পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
আমেরিকা সিকিমে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে চেয়েছিল যাতে তারা সহজেই চীন ও ভারত উভয়ের উপর নজর রাখতে পারে।সিকিম সিআইএ এজেন্টদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। এখানেই পরিস্থিতি উল্টে গেল... সিকিমের ৭০% এরও বেশি জনসংখ্যা নেপালি বংশোদ্ভূত ছিল। কিন্তু রাজতন্ত্র তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে গণ্য করতো। রাজার উপদেষ্টা মন্ডলী বা মন্ত্রিসভায় তাদের স্থান ছিল নগন্য আধিকারও ছিল সীমিত। তারা চেয়েছিল সিকিম ভারতের সাথে মিশে যাক।
হোপ কুকের আগমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রমাদ গুনলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে হোপ কুক আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এ র প্ল্যান্টেড গুপ্তচর। এতে ভারতের সম্মুখে বড় ধরনের বিপদ আসতে পারে।তিনি নড়েচড়ে বসলেন।
সিকিমের ৭০শতাংশ নেপালিদের অসন্তোষকে তুরুপের তাস হিসাবে দেখলেন ইন্দিরা গান্ধী।
এবার ভারতীয় জেমস বন্ড নামে পরিচিত গোয়েন্দা কর্মকর্তা "অজিত দোভাল" ঘটনাস্থলে প্রবেশ করলেন। তিনি সিকিমের নেপালি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে জনসাধারণকে রাজা ও তার আমেরিকান রানির বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছিলেন... যার ফলে একটি বিশাল জন-আন্দোলন তৈরি হয়েছিল।
হোপ কুক আতঙ্কিত হয়ে তার স্বামী এবং দুই সন্তানকে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। এর ফলে সিকিমে রাজতন্ত্রের অবসান এবং ভারতের সাথে এর একীভূত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।
২) এই সময়ে রাজীব গান্ধী কেমব্রিজে একজন ইতালীয় মহিলা আন্তোনিয়া মাইনোর সাথে ডেটিং করছিলেন। আমরা কেবল এটুকু বলতে পারি যে সিকিমের জনগণ যথেষ্ট জ্ঞানী ছিলেন যে তারা সময়মতো রানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বিদেশী মহিলাকে চিনতে পেরেছিলেন। কিন্তু ভারতে প্রভাবশালী কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার ফলে জনগণ খুব একটা সোচ্চার হতে পারেন নি।
সোনিয়া গান্ধী যখন ভারতে এসেছিলেন তখন তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলেন স্টেরা, যিনি তাঁর স্বামী রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সতীশ শর্মার স্ত্রী।স্টেরাও একজন ডাচ নাগরিক ছিলেন।রাজীব গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রী হন তখন সতীশ শর্মা ছিলেন সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি।
ক্ষমতার আড়ালে কী কী কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল!? একবার সেদিনের ঘটনাক্রম পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায়।
এবারেও ইন্দিরা গান্ধী বিদেশী চক্রের সন্দেহ প্রকাশ করে রাজীবের সঙ্গে সোনিয়ার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন প্রথমে। কিন্তু ইন্দিরার পিসি বিজয়লক্ষী পণ্ডিত ইন্দিরাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করালেন।
রাজীব সোনিয়াকে নিয়ে ভারতে এলেন।
৩ ) এবার আসছি লাদাখে। সেখানে অসন্তোষ উস্কে দেওয়া সোনম ওয়াংচুকের গল্পে রেবেকা নরম্যান নামে একজন আমেরিকান মহিলার নামও জড়িত। বলা হয় যে ১৯৯২ সালে, ওয়াংচুক এই আমেরিকান মহিলার সাথে লাদাখে শিক্ষায় বিপ্লব এনেছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সাল পর্যন্ত সমগ্র লাদাখ অঞ্চলে একটিও বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না।
সোনম ওয়াংচুক নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে উত্তেজিত করেছিলেন। কারণ মোদির প্রচেষ্টায় কয়েক দশক ধরে অবহেলিত লাদাখে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছিল। অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প চালু করেছিল এবং লাদাখকে ভারতের মূলধারায় একীভূত করা হয়েছিল।এখানেও সেই বিদেশী মহিলার কারসাজি ধরা পড়ে যায়।
৪. অসমের প্রাক্তন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের পুত্র গৌরব গগৈয়ের গল্পও একই আন্তর্জাতিক ধারা অনুসরণ করে।
২০১০ সালে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজনৈতিক পরিবারের এই পুত্র জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ভ্রমণ করেন। সেখানে তার সাথে একজন ব্রিটিশ ইন্টার্ন এলিজাবেথ কলবার্নের সাথে দেখা হয়।তারা প্রেমে পড়েন এবং তিন বছরের মধ্যে বিয়ে করেন।
তারপর জানা যায় যে মহিলাটি জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত এবং পাকিস্তানি সংস্থায় কাজ করেন।একজন ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রীর পুত্রবধূ একটি পাকিস্তানি এনজিওতে কাজ করেন... যা পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দ্বারা সমর্থিত বলে ব্যাপকভাবে পরিচিত। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই ইস্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু করেন।
বর্তমান মূখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অজ্ঞাত কাহিনীর তথ্যসহ প্রকাশ করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। তার অভিযোগ ২০১৩ সালে অসমেরপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পুত্রবধূ আটারি সীমান্ত দিয়ে ইচ্ছামত পাকিস্তানে ভ্রমণ করেন...যেন এটি তাদের শ্বশুরবাড়ি বা বাবা-মায়ের বাড়ি। গৌরব গগৈ ২০১৪ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন এবং লোকসভায় প্রবেশের সাথে সাথেই অদ্ভূত প্রশ্ন করতে শুরু করেন লোকসভায়
ভারতের পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম কোথায় সরবরাহ করা হয়!?
মেক ইন ইন্ডিয়ার আওতায় কী কী অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরি হচ্ছে!?
ভারতীয় বিমান বাহিনীর কতটি বিমান স্কোয়াড্রনের প্রয়োজন!?
২০১৮ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের ঠিক আগে... গৌরব গগৈ জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে কাশ্মীর সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি কী। তিনি ভারতের জলসম্পদ এবং নদীর জলের কৌশলগত ব্যবহার সম্পর্কিত প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করেছিলেন।গৌরব গগৈ কেন এই সব জানতে চেয়েছিলেন!?
৫) এরপর পশ্চিমবঙ্গে মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জীকে নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার স্ত্রীও বিদেশী। অভিষেকের বারবার অ্যামেরিকা ভ্রমণ এমনকি নিজের দেশের বিখ্যাত চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও আমেরিকায় গিয়ে চোখের চিকিৎসার ঘটনা অনেকেরই হজম হচ্ছে না।
আবার ডিপ স্টেটের চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশে কী ঘটছে তা বোঝা কঠিন নয়।
তবে দেশে দেশে এইভাবে প্রভাবশালী নারীদের ব্যবহার করে হ্যানি ট্র্যাপ বিছিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করা হয়েছে।
৬) সম্প্রতি বাংলাদেশের ঘটনা তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আমেরিকান নাগরিক মহাম্মদ ইউনূসের স্ত্রী আমেরিকান মহিলা। সেই সুবাদে ইউনূসকে জালে পুরেছে আমেরিকা। বাংলাদেশের আমেরিকার স্বার্থ বিরোধী শেখ হাসিনার সরকার ফেলে দেওয়ার ছক কষে ইউনূসকে ডিপ স্টেটের টাকায় ছাত্র আন্দোলনের বকলমে ঢাকাতে পাঠিয়েছে। তারপর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইউনূস একটানা দেড় বছর অবৈধভাবে বাংলাদেশের শাসনভার দখল করে আমেরিকার স্বার্থ পূরণ করেছেন।
আমেরিকা চেয়েছিল, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর একটি নৌবাহিনীর ঘাঁটি গড়ে তুলতে। শেখ হাসিনার সরকার দেননি। কিন্তু আমেরিকার পুতুল মহাম্মদ ইউনূস সেই আশা পূরণ করে দিয়েছেন।
এছড়াও আমেরিকার নজর রয়েছে চট্টগ্রামের নদী বন্দর ও বায়ুসেনার ঘাঁটি। চিন এবং ভারতের ওপর নজরদারির জন্য যথেষ্ট তাৎপর্যমূলক এই চট্টগ্রাম বন্দর।
ইউনূস থাকাকালীনই বাংলাদেশে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জামাতে ইসলামী নেতা তথা আমির সাহেবকে দূতাবাসে ডেকে এনে এক গুপ্ত বৈঠক করেছেন বেশ কয়েকবার। সেই বৈঠকে স্থির হয়েছিল নির্বাচনে ভারত বিরোধী জামাতে ইসলামীকে জিতিয়ে জামাতের নেতাকে প্রধান মন্ত্রী এবং মহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। সেভাবেই চাল চালানো হচ্ছিল।
কিন্তু ভারতের গুপ্তচর সংস্থা "র" সেটা জানতে পেরেছিল। দ্রুত বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেখা করে তাকে ভারতের পূর্ণ সমর্থন জানান।
উল্টে যায় পাশা। নির্বাচনে ভরাডুবি হয় জামাতের। ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আশাও ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়। আমেরিকার সিআইএর চক্রান্ত মূখ থুবড়ে পড়ে যায়।
মহাম্মদ ইউনূসকে তার লাগেজ গুছিয়ে নিতে হয় শেষ পর্যন্ত ।
## প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাবধান বিদেশী বউকে ঘরে তোলার আগে##
Comments
Post a Comment