জলপাইগুড়ি জেলার জল্পেশ মেলা প্রাচীন সংস্কৃতি অঙ্গ
*জল্পেশ মেলা* :- সঞ্জয় কুমার মিশ্র
গত ১৫ ই ফেব্রুয়ারী রবিবার শিবরাত্রির দিন থেকে রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন মেলা জল্পেশ শৈব তীর্থ মন্দিরে শুরু হয়েছে। এই মেলা ও এই মন্দির এখন উত্তরবঙ্গে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। কলকাতা ছাড়া অসম, ভুটান থেকেও অনেক ব্যবসায়ী মেলায় এসেছেন তাঁদের পসরা নিয়ে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর তাদের স্টল সাজিয়েছেন। মেলায় স্থায়ী সাংস্কৃতিক মঞ্চে বসেছে লোকসঙ্গীতের আসরও।
এই ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যমণ্ডিত মন্দিরটি জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে অবস্থিত। এর পাশেই রয়েছে জর্দা নদী। কারও কারও মতে, দশম শতকে মন্দিরটি গড়ে ওঠে। তবে ইতিহাসবিদরা বলেন, সপ্তদশ শতাব্দীতে যখন এই মন্দির নতুন ভাবে সংস্কার করা হয় সেই সময় থেকেই মন্দির চত্বরে মেলা শুরু হয় শিব চতুর্দশীতে। কোচবিহারের রাজা প্রাণনারায়ণ ১৬৩২ থেকে ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দ এবং তার পুত্র মোদনারায়ণ ১৬৬৫ থেকে ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির সংস্কার করেন। পুরাণ অনুযায়ী, এই মন্দির হাজার বছরের পুরনো। অনেকেই বলেন, দিল্লির মুসলমান স্থপতিরা এই মন্দির তৈরি করেন বলে মন্দিরের চূড়া এখনও গম্বুজাকৃতি। মন্দিরটি ১২৪ ফুট দীর্ঘ এবং ১২০ ফুট প্রশস্ত। এর উচ্চতা ১২৭ ফুট। মন্দিরে রীতি মেনে শিব চতুর্দশীতে মেলা শুরু হয় । মেলা চলবে কমপক্ষে দশ দিন ধরে। দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেলা বসেছে। মন্দির দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা মেলায় ঘুরছেন।
Comments
Post a Comment