ভারতের গৌরব গাথা আজ উপেক্ষিত অবহেলিত
ভারতবর্ষের গৌরব: সম্রাট ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়
(নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। ইন্দ্রনগর,বহরমপুর)।
ভাবলে সত্যিই বিস্ময় জাগে।পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের মানুষ নিজেদের জাতীয় গৌরব,বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মানের সঙ্গে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কৃতিত্ব থেকে প্রেরণা নেয় এবং নতুন প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করে গর্ববোধ করে।
কিন্তু আমাদের দেশে যেন প্রায় উল্টো চিত্র দেখা যায়।বহু ক্ষেত্রে দেশের রাজা ,জমিদার,যোদ্ধা ও সংস্কৃতির ধারকদের বীরত্ব ও অবদান যথাযথ গুরুত্ব পায় না।বরং বিদেশি আক্রমণকারী ,লণ্ঠনকারী ও অত্যাচারীদের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে বড় জায়গা দখল করে থাকে।কেন এমন হয়েছে,তার কারণ হয়তো ইতিহাসচর্চার নানা প্রবণতা ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে লুকিয়ে আছে।
প্রয়োজন হলো একটি সুষম ও সত্যভিত্তিক ইতিহাসচর্চা-যেখানে দেশের গৌরবময় অতীত ,সংগ্রাম,সংস্কৃতি ও কৃতিত্ব যথাযোগ্য মর্যাদা পাবে;আবার ইতিহাসের কঠিন অধ্যায়গুলিও নিরপেক্ষ ভাবে আলোচিত হবে।তবেই নতুন প্রজন্ম আত্মসম্মান ,সচেতনাবোধ ও বাস্তববোধ -এই তিনের সমন্বয়ে নিজেদের জাতীয় পরিচয় বুঝতে শিখবে
সম্রাট ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়।যার নাম ও কৃতিত্বের গৌরবগাথা কথা ভারতবর্ষের স্কুল কলেজের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়নি।ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষ ধ্বজাধারী রাজনৈতিক মতাদর্শের ঐতিহাসিকবৃন্দ ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে পরিকল্পনা মাফিক ষড়যন্ত্র করে হিন্দু রাজা জমিদারদের বীরত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা মুছে দিয়েছে।ইতিহাসের পাতা উল্টালে চোখে পড়ে,বহিরাগত লণ্ঠনকারী,ধর্ষক ও অত্যাচারীদের বড় একটা অংশ দিয়ে রেখেছে।তারা বোঝাতে চায় আরব ও মুঘলরাই প্রকৃত বীর।ভারতবর্ষের হিন্দু রাজারা ভীরু পলায়ণকারী ও কাপুরুষ। ভারতবর্ষের আলেকজান্ডার দি গ্রেট ললিতাদিত্য মুক্তাপীড় ,বিক্রমাদিত্য ও রাজেন্দ্র চোলের মত সম্রাটদের বীরত্বের কথার একটি লাইনও স্থান হয়নি।ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়ের পরাক্রমের ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে একটি পরিপূর্ণ ঐতিহাসিক গ্রন্থ রয়েছে। খ্রিষ্টিয় সপ্তম শতাব্দীতে রাজ্যভার হাতে নেওয়া এই মহান সম্রাটের পূর্ণাঙ্গ জীবনী নিয়ে কাশ্মীরের বিখ্যাত পণ্ডিত ও ইতিহাসবিদ কলহন দ্বাদশ শতাব্দীতে "রাজতরঙ্গিণী" নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। ঐতিহাসিক কলহন সম্রাট ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়ের মৃত্যুর প্রায় পাঁচ শত বছর পর তিনি তাঁর "রাজতরঙ্গিণী"গ্রন্থখানি রচনা করেন। তাতে সহজেই ধরে নেওয়া যায় তাঁর রচিত গ্রন্থের বর্ণনা সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করেই লিপিবদ্ধ করেছেন। সেসময় আরব খিলাফত দুর্বার গতিতে রাজ্যের বিস্তারে এগিয়ে চলেছিল। অভাবিত গতিতে তারা মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য দখল করে ভারতবর্ষের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মহম্মদ বিন কাশেম সিন্ধু প্রদেশ জয় করে ভারতবর্ষের বুকে ইসলামি বিজয়ের সূচনা করে।তবে চিন্তিত তারা ,ভারতবর্ষের মানুষ দুর্বল নয় ।মধ্য এশিয়া বা পারস্যের মত ভারতীয় রাজারা আত্মবিসর্জন দেননি। সিন্ধুর রাজা দাহির শাহ যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের সাথে লড়াই করে প্রাণ দিয়েছেন। এই পরাক্রমশালী যোদ্ধার মৃত্যু আরবশাহিদের ভাবিয়ে তুলেছিল। বারংবার তীব্র থেকে তীব্রতম আঘাত হেনেও ভারতবর্ষের মূল ভূখণ্ডে এক চুল অগ্রসর হতে পারেনি।ক্রমান্বয়ে আক্রমণ চালিয়ে যেতেই এমনি এক শক্তিশালী রাজার সম্মুখীন হয়ে পড়ে ,যার দুর্জয় প্রতিরোধের প্রতাপে পিছু হটতে বাধ্য হয়।দ্বিতীয়বার আক্রমণ করার সাহস দেখানো দূরে থাক আরবশাহি সৈনিকরা তিনশো বছর অবধি ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সাহস হয়নি। তাঁর নাম শুনলে আতঙ্কে বুক দুরু দুরু করত। ভাবতে বিস্মিত হলেও এটাই সত্যি,সেই প্রবল দুর্জয় শক্তির নায়ক রাজা ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়।তিনিই আরবশাহিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন,সিন্ধু জয় করেছ !ভেবোনা সারা ভারতবর্ষ জয় করবে।দেখা যাবে সিন্ধু ক'দিন দখলে রাখবে!সেসময়ে তিব্বত এক শক্তিশালী রাজ্য। বিশাল তাদের সামরিক বাহিনী।তারা তখন এশিয়ার এক বিশাল অংশ দখলে রেখে লাদাখ এবং কাশ্মীরের দিকে অগ্রসরের পরিকল্পনা নেয়।অপর দিকে উত্তর-পশ্চিমের তুর্কিরা নিষ্ঠুরতা ও লণ্ঠনে কুখ্যাত হয়ে উঠে। তারাও ভারতবর্ষের সীমানায় খবরদারি শুরু করে।তখন চীনে তাং রাজবংশ ক্ষমতার উচ্চ শিখরে। ভারতবর্ষের অভ্যন্তরীণ অবস্থা টালমাটাল। সম্রাট হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য ভাঙতে শুরু করে। উত্তর ভারতের গৌরবোজ্জ্বল কনৌজ রাজ্য হয়ে পড়ে অরক্ষিত ।
পশ্চিমে আরব উত্তরে তিব্বত এবং উত্তর-পশ্চিমে তুর্কি,এই ত্রিমুখি অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে প্রয়োজন একজন উপযুক্ত শক্তিশালী লৌহ মানব। কলহনের লেখা "রাজতরঙ্গিণী" গ্রন্থে লেখা বর্ণনা থেকে জানা যায় যে , ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে রাজা দুর্লভ বর্ধন প্রতাপাদিত্য ,কর্কট রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন । রাজা ললিতাদিত্য মুক্তাপীড় রাজা দুর্লভ বর্ধন ও নরেন্দ্র প্রভার সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান। জন্মেছেন ৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দে। বড়দাদা বজ্রাদিত্য ও উদয়াদিত্যের রাজত্বের পর কাশ্মীরের রাজ সিংহাসনে বসেন ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়।তিনি ছিলেন বংশের পঞ্চম রাজা। সিংহাসনে বসেই অনুভব করেন,কেবলমাত্র দূর্গ পাহারায় আত্মরক্ষা করে রাজ্যের সুরক্ষা দেওয়া অসম্ভব।সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত বিপ্লবাত্বক কর্মসূচি রূপায়ণে তৎপর হন।রাজ্যের সর্বত্র নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার প্রয়াসে হানাদার শত্রুর অপেক্ষায় না থেকে আগেই ধেয়ে তাদের দেশে গিয়ে শত্রুর বিনাশ করে আসা।সুকৌশলী সুদক্ষ সেনাবাহিনী নিয়ে আরবের পর তুর্কিস্তান আক্রমণ করেন।অপর দিকে পরিকল্পনা মাফিক ভারতবর্ষের আভ্যন্তরীণ শক্তিকে সুসংহত রাখতেও তৎপর হন।তাঁর প্রথম লক্ষ্য কনৌজ রাজ্য।রাজা হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর কনৌজ রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। রাজা ললিতাদিত্য মুক্তাপীড় ভরসা না থেকে আক্রমণ করে আয়ত্বে আনেন। কনৌজের তৎকালীন রাজা যশোবর্মন সম্রাট ললিতাদিত্যের আনুগত্য স্বীকার করে নেন। কনৌজ তাঁর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।এরপর সমগ্র উত্তর ভারত তিনি দখলে আনেন। দৃষ্টি দেন হিমালয়ের দিকে।রেশম ও বাণিজ্য পথের কাঁটা হয়ে দাড়িয়ে ছিল তিব্বতীরা ।মুক্তাপীড় আক্রমণ চালিয়ে তাদের দূর্গগুলি ধূলিসাৎ করে লাদাখ ও বালতিস্তান পুনরুদ্ধার করেন।তারপর কৌশলগত চিন রাজবংশের সাথে মিত্রতায় জোটবদ্ধ হলে তিব্বতীরা চিরতরে পিছু হঠতে বাধ্য হয়।তারপর অগ্রসর হন উত্তর-পশ্চিমের আফগানিস্তান ও ব্যাকট্রিয়ার পথে ।সেখানকার তুর্কিরা সর্বক্ষণ ভারতবর্ষের ছোট রাজ্যগুলিতে সন্ত্রাসের বাতাবরণ সৃষ্টি করত । রাজা ললিতাদিত্যের সিংহ বাহিনী তাদের একের পর এক শহর ব্যাকট্রিয়া ,পলক এবং কাবুল জয় করে নেন। তুর্কিস্তান আয়ত্বে এনে,সরাসরি আরব খিলাফতের সম্মুখীন হন।পারস্য বিজয়ী আরবীয়ানরা নিশ্চিন্তে ভারত বিজয়ের স্বপ্ন দেখত।এবার ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়ের পরাক্রমের সে প্রত্যাশা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।তিনি কাবুল থেকে অগ্রসর হয়ে তুর্কিস্তানের মধ্য দিয়ে আরব নিয়ন্ত্রিত বুখারা শহর আক্রমণ করেন। আরব গভর্নর মুমিন ললিতাদিত্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন। ঘুম ভাঙে বিলম্বে। সম্রাট ললিতাদিত্যের বিশাল সুদক্ষ সেনাবাহিনী চারটি নির্ণয় যুদ্ধে আরবশাহির সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে।তাদের পরাস্ত করেই ক্ষান্ত না হয়ে দিয়েছেন চরমতম শিক্ষা। সেদিনের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আলবেরুনীর লেখা থেকে জানা যায় ,সম্রাটের নির্দেশে বন্দি আরব সেনাদের অর্ধেক মাথা নেড়া করে তাদের দেশে ফেরত পাঠান।পরাজয়ের চরমতম গ্লানি মুখ বুজে নীরবে সহ্য করা ছাড়া তাদের আর অন্য কোন গত্যন্তর ছিল না।ললিতাদিত্যের বিজয় রথ এখানেই থামেনি,উজবেকিস্তান ,তাজিকিস্তান,গিলগিরিস্তান ও ইরানের সীমানা বয়ে কাশপিয়ান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিলেন। মোঘল সাম্রাজ্যের দ্বিগুণ হয়েছিল তার সাম্রাজ্য। কলহনের "রাজতরঙ্গিণী"র বর্ণনায় জানা যায় ,ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়ের রাজত্বকাল ছিল ৩৬ বছর ৭ মাস ১১ দিন। তাঁর লেখায় আরও উঠে আসে দ্বাদশ শতাব্দীর আগে কাশ্মীর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটা বড় উৎস। সংস্কৃত ভাষায় রচিত গ্রন্থের আঠার অধ্যায়ে ৭৮২৬টি সংস্কৃত শ্লোক রয়েছে। তা থেকে জানা যায় ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে দুর্লভ বর্ধনের প্রতিষ্ঠিত কর্কট রাজবংশের সম্পূর্ণ ইতিহাস। গ্রন্থে লেখা রয়েছে ললিতাদিত্য মুক্তাপীড় ৭২০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭৩৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। অপর দিকে বর্তমানের আধুনিক ঐতিহাসিকদের অনেকের ধারণা তিনি ৭২০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ অবধি রাজত্ব করেন। বছর কম বেশি যাই-ই হোক না কেন আসল ঘটনাবলির সত্যতা নিয়ে কোন সংসয় নাই। তিনি শুধু অপরাজেয় বীর যোদ্ধা ছিলেন না ,স্বধর্মের পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন। যেখানেই গেছেন ,ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দিয়েছেন। বহু মন্দির,বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কাশ্মীরের অনন্তনাগের কাছে পাহাড় আর নীল আকাশের মাঝে প্রতিষ্ঠিত বিশাল উঁচু মনোমুগ্ধকর সূর্য মন্দির তাঁর অন্যতম মহান সৃষ্টি। এই সূর্য মন্দিরের পাথরের উপর সর্বপ্রথম প্রভাতের রঙিন সূর্য কিরণ আছড়ে পড়ে স্তম্ভগুলি রঙিন ঝিকিমিকি সোনালী আলোয় মন্দিরের শোভা বর্ধন করত। দূরদূরান্তের আগত হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত সূর্যদেবের চরণে প্রণাম করে প্রার্থনা জানাতেন। প্রায় তেরশো বছর আগের নির্মিত এই সূর্য মন্দির পরিসরের মাঝে ছিল আরও ছোট ছোট চুরাশিটি মন্দির। এছাড়াও সম্রাট ললিতাদিত্য মুক্তাপীড় কাশ্মীরের বুকে আরও অনেক মন্দির শিক্ষাকেন্দ্র নির্মাণ করেছেন। সময়ের সাথে সাথে ধ্বংসপ্রীয় বর্বর বিধর্মিদের ধ্বংসযজ্ঞে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। সেকেন্ডার বুৎসিকা নামে এক শাসকের নির্দেশে দামি পাথরের বানানো বিশাল মজবুত সূর্যমন্দিরটি দুবছর ধরে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে।
ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়ের মৃত্যু এক রহস্যময় ঘটনা।এশিয়া মহাদেশের অর্ধাংশ বিজয়ী অপরাজেয় বীর যোদ্ধা অকস্মাৎ ইতিহাস থেকে উধাও হয়ে যাবে কল্পনা করাও অসম্ভব। কারও মতে পারস্য ও ইরান জয়ের পথে হঠাৎই তুষারঝড়ের কবলে পড়ে প্রাণ হারান। অন্যদের ধারণা তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন।তাঁর মৃত্যুর পর কর্কট রাজবংশের গরিমা হ্রাস পেতে থাকে। তাঁর বিজয়ী এলাকা ক্রমশ হাতছাড়া হতে থাকে।সব থেকে বিস্ময় জাগে ললিতাদিত্য মুক্তাপীড় কেন ইতিহাসের পাতা থেকে অদৃশ্য হবে ? বহু বছর আগের রহস্য ভরা ইতিহাস নিছক দুর্ঘটনা নয়।ঠাণ্ডা মস্তিষ্কের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন সম্রাট ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়।শত শত বছর ধরে বিদেশি শাসকের মদকে তখনকার দিনের ঐতিহাসিকবৃন্দ ভারতীয়দের হেয় প্রতিপন্ন করতে ইতিহাস নতুন করে রচনা করেন। তাঁরা বোঝাতে চান যে , ভারতবর্ষের ইতিহাস পড়ে নতুন প্রজন্ম জানবে তাঁদের পূর্বপুরুষরা চিরকাল দুর্বল ভীরু ও কাপুরুষ আর খণ্ডিত ছিলেন।ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়ের বীরত্বের কথা মুছে দিয়ে ভারতবাসীর আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস কথা বলে,থেমে নাথেকে সত্য উন্মোচনে মাথাচাড়া একদিন দিবেই দিবে। সম্রাট ললিতাদিত্যের বীরত্ব ও কৃতিত্বের কথা পুরানো সেই পাণ্ডুলিপিতে,খোদাই করা শিলালিপিতে আর মার্তেণ্ড সূর্য মন্দিরের ধ্বংসাবশেষে কান পাতলেই প্রতিধ্বনিত হয় তার জীবনের ইতিবৃত্ত। স্মরণ করিয়ে দেয় সারা বিশ্বের গুরু ঐশ্বরিক শক্তির উৎসস্থল এই ভারতবর্ষ।এদেশের পূর্ব পুরুষেরা শুধু আত্মরক্ষয় নয় ,মাথা উঁচু করে বীর বিক্রমে ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা অর্থাৎ বিজ্ঞান সম্মত জ্ঞান সারা বিশ্বকে উদ্ভাষিত করেছিল।১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ৭০০ বছরের মুসলমান শাসন আর ২০০ বছরের ইংরেজদের গোলামি করে ভারতবর্ষের অনেকে স্বাধীনতার মর্ম বিস্মৃত প্রায়।ব্যাক্তিগত ও দলিয় স্বার্থ চরিতার্থে ধর্মনিরপেক্ষতার নামাবলি গায়ে জড়ানো রাজনৈতিক নেতা নেত্রীর মতাদর্শে অনুগত ঐতিহাসিকেরা গতানুগতিক বিদেশিদের দেখানো পথ অনুসরণ করে দেশের স্কুল কলেজের পাঠ্যসূচির পুস্তকে মামুদ,শের শাহ ,বাবর,আকবর,ঔরঙ্গজেব সহ মোঘল বাদশাহ ইতিহাসের অর্ধেক অংশ জুড়ে থাকলেও ললিতাদিত্য মুক্তাপীড় ,বিক্রমাদিত্য ও রাজেন্দ্র চোলের মত বীর সম্রাটদের জন্য একটি লাইনও বরাদ্দ রাখেনি।
সময় বয়ে যায়। ভাবুন একুশ শতকের আধুনিক সভ্যতার সুধীজনেরা,ভাবি প্রজন্মের ও নিজেদের স্বার্থে দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে যদি আমারা মর্যাদা না দিই,সযত্নে রক্ষা না করি ; তবে কে রক্ষা করবে !কি জবাবদিহি করব আগামী প্রজন্মের কাছে ? তাদের আলোকিত করার কর্তব্য ও দায়িত্ব কে নেবে !
Comments
Post a Comment