অরিজিৎ সফল মানুষ আপোষ করেন না
অরিজিৎ সফল মানুষ, তিনি কমপ্রোমাইজ করেন না। অরিজিৎ সিং একজন সহজ মানুষ, ওরকম সহজ হওয়া সহজ না।
আমির খান জিয়াগঞ্জে এসেছেন। অরিজিৎ সিংয়ের বাড়ির ছাদে বসে মাদুর পেতে বসে গালগল্প করছেন হাসিমুখে। এ দৃশ্য আমাকে বিস্মিত করে না। বরং অরিজিতের ওপরে শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দেয়।
আমির খান পাড়ার কোনও পল্টু–কেল্টু নন। আজও বলিউডের অন্যতম স্তম্ভ। তিনি মুম্বই থেকে কলকাতা অবধি উড়ে এসে ফের গাড়ি করে সড়কপথে ২২৭ কিলোমিটার পথ উজিয়ে এসেছেন অরিজিতের সঙ্গে দেখা করতে।
আমাদের সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে কী হয়? বাড়িতে কোনও সম্মানীয় অতিথি এলে তাঁর ‘অনার’–এ কম ব্যবহৃত ঝকঝকে কাপ–প্লেট বেরিয়ে আসে শো–কেস থেকে। অথবা বেরিয়ে আসে দামী চায়ের পাতা, যা বিশেষ কেউ এলে তবেই খোলা বাতাসে আসে।
আমরা যখন এগুলো করি, তখন আসলে যিনি আমাদের বাড়িতে আসছেন, তাঁর শর্তে কয়েকঘণ্টা বাঁচার চেষ্টা করি। তিনি জীবনযাত্রার যে মান অথবা চটকে বাঁচেন, আমরাও কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের সেই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। এটা এক ধরনের কম্প্রোমাইজ।
কম্প্রোমাইজ যাঁদের করতে হয়, তাঁরা সফল মানুষ নন। সফল মানুষরা শীর্ষে উঠে যাওয়ার পর কম্প্রোমাইজ করেন না। অরিজিৎ চাইলেই আমিরের সঙ্গে খাওয়া–দাওয়াটা কোনও ঝাঁ চকচকে রেস্তোরাঁয়। সেই ক্ষমতা অরিজিতের আছে। কিন্তু ওঁর নিজের জীবনের শর্ত হলো ঘরোয়া ছিমছামভাবে থাকা। এবং স্বয়ং আমির খান এলেও সেই শর্তে নড়চড় হবে না। মেগাস্টার এলেও তাঁকে খাওয়াদাওয়া করতে হবে অরিজিতের ছাদে বসেই। নতুন চায়ের কাপ বেরনোর মতো কোনও স্পেশ্যাল ট্রিটমেন্ট দেওয়া হবে না। অরিজিৎ যে শর্তে বাঁচেন, যে ভাবে জীবনযাপন করেন, সেই ভাবেই অতিথিকেও খেতে হবে, বসতে হবে।
একাধিকবার আলাদা আলাদা প্রয়োজনে অরিজিতের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ আমার হয়েছে। ১৩ বছরের সাংবাদিকতার জীবনে কম তারকার সঙ্গে কথা বলতে হয়নি আমাকে, কিন্তু অরিজিতের মতো এত সরল কিন্তু দৃঢ় অথচ আন্তরিক মানুষ আমি আর একটিও দেখিনি। প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে যে অপার সারল্যে অরিজিৎ ফোনে কথা বলেছে, মেসেজ বিনিময় করেছে— তার পরে মাঝেমাঝে নিজের গায়েই চিমটি কেটে দেখতে ইচ্ছা হয়েছে, যার সঙ্গে কথা হলো, তিনি দ্য গ্রেট অরিজিৎ সিং–ই তো? যদি তাই হয়ে থাকেন, তাহলে ভারতবর্ষের সঙ্গীতমহাকাশের এই মুহূর্তের উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্কটির সঙ্গে কথা বলার সময় কোথায় তারকার দ্যুতিতে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে, তা নয়, বরং নরম মিষ্টি আলোয় তিনি এভাবে ঘর ভরিয়ে দিচ্ছেন কী করে?
অরিজিৎ পারেন। লোকে সফল হতে বাংলা থেকে মুম্বই যায়। অরিজিৎ সফল হয়ে মুম্বইকে বাংলায় টেনে আনছেন। তিনি বলিউডের শর্ত মানেন না। মুম্বই পড়ে থাকেন না। বরং জিয়াগঞ্জ থেকে গেয়ে মুম্বইতে গান পাঠিয়ে দেন। তাঁর গান ছাড়া সিনেমা রিলিজ করে না। আন্তর্জাতিক তারকা এড শেরিন হ’ন বা জাতীয় স্তরের তারকা আমির খান— অরিজিতের সঙ্গে দেখা করতে হলে পাহাড়কেই মহম্মদের কাছে আসতে হয়।
অরিজিৎ ভারতের ধনীতম ব্যক্তি নন। কিন্তু কাজের প্রয়োজনে আমি আমার শর্ত থেকে নড়ব না, আমি কোথাও যাব না, এ মাস্তানি একমাত্র তিনি ছাড়া আদানি কিংবা আম্বানিও দেখাতে পারবেন না। ঠিক সেই কারণেই খ্যাতির চূড়ায় থেকেও হুট করে প্লে–ব্যাক ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত অরিজিৎ অবলীলায় নিতে পারেন।
লোকে বলে, যার যত টাকা, সে নাকি তত সুখী। আমার মনে হয় নিজের শর্তে যে বাঁচতে পারে, সেই সুখী।
এড শিরন কিংবা আমির খানের মতো মহাতারকারাও যাঁকে নিজের শর্ত থেকে টলাতে পারেন না, তাঁর চেয়ে বেশি সুখী মানুষ আর কে হতে পারেন?
🎤🎼লিখেছেন প্রিয়ম সেনগুপ্ত। ছবি গুগল।🎼🎤
Comments
Post a Comment