বাঙালি হিন্দুদের কল্যাণে বিজেপি সরকার কিছুই করেনি
নয়া ঠাহর ,শিলচর, সংবাদদাতা
উত্তর পূর্বের বাঙালিদের উন্নয়নে শাসক দল বিগত শাসনকালে কি করেছে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন আসাম সফরের প্রাক্কালে তা জানতে চাইল বিডিএফ।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় উত্তর পূর্বের বাঙালি প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির দাবি বিডিএফ এর।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আসাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এর প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের একজন বাঙালি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে বিজেপি দলকে প্রায়ই বাঙালিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্বের প্রশংসা ও সম্মান জানাতে দেখা যায়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ' বন্দে মাতরম' নিয়ে বিজেপি দলের উন্মাদনা উল্লেখযোগ্য। রবীন্দ্রনাথকে প্রায়ই তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এর বিপরীতে উত্তর পূর্ব তথা আসামে বাঙালিদের অনুন্নয়ন, সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিরন্তর অবহেলা এসব নিয়ে রাজ্য তথা কেন্দ্রের নেতাদের নীরব ভূমিকা রহস্যজনক। প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে স্বাধীনতার পর থেকেই উত্তর পূর্বাঞ্চল থেকে কোন একজন বাঙালি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্তির রেওয়াজ ছিল। অরুন কুমার চন্দ, মঈনুল হক চৌধুরী,রসিদা হক চৌধুরী, সন্তোষ মোহন দেব, কবীন্দ্র পুরকায়স্থ সহ অনেকে এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন। তিনি বলেন এর একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। যখন ছিন্নমূল উদ্বাস্তুরা বৃহৎ সংখ্যায় এই অঞ্চলে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন তখন তাঁদের তৎকালীন দূরাবস্থার সমাধানে কেন্দ্রীয় স্তরে তাঁদের প্রতিনিধিত্বের একটি অলিখিত চুক্তি ঠিক হয়েছিল। প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে সেই সময় থেকে এখন অব্দি উত্তর পূর্বের বাঙালিদের সার্বিক আর্থ সামাজিক অবস্থার কিন্তু খুব একটা উন্নতি হয়নি। অথচ গত একদশক ধরে এই অঞ্চলের কোন বাঙালি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় ঠাই দেওয়া হয়নি। তাই এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিন্তা ভাবনা করার আহ্বান জানাচ্ছে বিডিএফ। তিনি বলেন বরাক উপত্যকা থেকে বর্তমানে তিনজন নির্বাচিত সাংসদ রয়েছেন। তাই তাঁদের থেকে কোন একজনকে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাচ্ছেন তারা।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য এদিন বলেন যে যদি আসামের বাঙালি হিন্দুদের কথাই ধরা হয় তবে গত দশ বছরের বিজেপি শাসনে তাঁদের অবস্থার বিশেষ কোন পরিবর্তন হয়নি। এখনো বাঙালি হিন্দুদের ডি ভোটারের সমস্যা রয়েছে। অনেকের মামলা চলছে ট্রাইব্যুনালে। এন আর সি তে বাদ পড়া আনুমানিক ছয়/ সাত লক্ষ বাঙালি হিন্দুদের নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেই। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ বাঙালি হিন্দু। অথচ উপত্যকার ১১১ টি বিধানসভা আসনে বাঙালি হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব নগন্য। এবার তাই রাজ্যের ১০ টি বিধানসভা আসনে বিজেপি দলের পক্ষ থেকে বাঙালি হিন্দু প্রার্থী দেবার দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের বাঙালি সংঘটকরা। জয়দীপ বলেন বরাক উপত্যকার মূল সমস্যা হচ্ছে বন্যা, যোগাযোগ ও বেকারত্ব। কিন্তু এই তিন সমস্যা সমাধানে গত একদশকে শাসক দলের ভূমিকা মোটেই সন্তোষজনক নয়। বিকল্প রেললাইন,বিকল্প সড়ক, বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণ, শিল্পদ্যোগ স্থাপন,সরকারি চাকরিতে স্থানীয়দের জন্য সংরক্ষণ, যুবক, যুবতীদের পরিকল্পিত প্রশিক্ষন কোন কিছুতেই অগ্রগতি হয়নি। উপত্যকার চাশিল্প ও কৃষির উন্নয়নে কোন পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই।বরাকের বন্যা প্রতিরোধে নদী খনন সহ শহরের খালগুলির সংস্কার যা জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা জরুরি ছিল,সেসব কিছুই হয়নি।
জয়দীপ বলেন শুধু ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি কতটা ফল দেবে তাতে সন্দেহ রয়েছে। আগামী নির্বাচনে বাঙালি তথা বরাকের এই ইস্যু গুলি নির্নায়ক ভূমিকা পালন করবে । তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এইসব ইস্যুতে পুনরায় তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিডিএফ এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।
Comments
Post a Comment