বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্ব কাটাবেন কি ভাবে?

বৃদ্ধ বয়সের একাকীত্ব কাটাবেন কিভাবে? 
বয়স যখন 60+ বা 70+ হয়ে যায় - তখন আপনাদের সন্তানেরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, নিজেদের সংসার, কর্মজগৎ, তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ লেখাপড়া এসব নিয়ে এতটা ব্যস্ত থাকেন যে - বয়স্ক মা বাবার জন্য তারা সময় দিয়ে উঠতে পারেন না। 

এক্ষেত্রে পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা অনেক সময়ই একাকীত্বে ভোগেন। মনে মনে তাদের অনেক সময় আফসোস হয় - "যাদের জন্য নিজের সেরা সময়, শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছি - তাদের কাছেই আমার জন্য সময় নেই, আমার সাথে কথা বলার সময় নেই।"

সেই সময় তারা ডিপ্রেশনে চলে যান - জীবন থেকে অব্যাহতি পেলেই তারা শান্তি পাবেন এই ভাবনায় দিন কাটান। 
তবে মানুষ চাইলেই তো আর জীবন থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায় না। 

বাস্তবিকই এটা একটা বয়স্ক মানুষের কাছে সমস্যা। 

প্রায় প্রত্যেক সংসারেই যেখানে বয়স্ক বাবা-মা আছেন তাদের এই সমস্যা দেখা যায়। 

আসলে এই সমস্যা যুগ যুগ ধরেই আছে। বর্তমানে এই সমস্যা প্রকট হয়েছে কারণ এখন সব ছোট ছোট পরিবার। যার ফলে সন্তানের সংসারিক দায়দায়িত্ব, কর্ম জগত সাথে তার সন্তানের লেখাপড়া, ক্যারিয়ার এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বয়স্ক বাবা-মা একাকিত্বে ভোগেন। উপরন্তু যদি বৃদ্ধ বয়সে কেউ তার জীবনসঙ্গী হারান - সেক্ষেত্রে এই একাকীত্ব  আরো প্রকট হয়ে দাঁড়ায়। 
যা আগে হতো না - কারণ তখন ছিল যৌথ পরিবার। পরিবারের আরো অনেক বয়স্ক সদস্যরাও থাকতেন - ফলে তাদের সাথে সময় কাটাতে পারতেন। যার ফলে তারা একাকীত্বে ভুগতেন না। 

বর্তমানে ছোট পরিবার হওয়াতেই বয়স্করা বেশি একাকীত্বের সমস্যায় ভোগেন। 

তবে সমস্যা যখন আছে তার সমাধানও আছে -

পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা সন্তানদের দোষারোপ না করে পজেটিভ দৃষ্টিতে বিষয়টা নিয়ে ভাবুন। 

সবার আগে মনে রাখবেন যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আস। বয়স হয়ে গেছে মানে আপনার জীবনের সমস্ত শখ সৌখিনতা, ভালো লাগা মন্দ লাগা বিসর্জন দেবেন -সেটা নয়। যতদিন বাঁচবেন প্রাণ খুলে বাঁচুন। আর তার জন্য আপনাকে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে -

সবার আগে নিজের শরীর ও মনের সুস্থতার কথা ভাবতে হবে - 

১.সারা জীবন সংসার নিয়ে ভেবেছেন -এখন সংসারের মূল দায়িত্ব সন্তানের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকুন। অর্থাৎ সংসারের খুঁটিনাটি বিষয়ে নাক গলাবেন না। 

২.আপনার জীবনে একটা নিয়মানুবর্তিতা আনুন।সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা শরীর চর্চা করুন, হাঁটুন। এভাবে একটা সুন্দর দিন শুরু করুন। 

৩.সঠিক সময়ে ব্রেকফাস্ট করুন - স্বাস্থ্যকর সহজ-পাচ্য খাবার খান। কারণ আপনাকে আগে সুস্থ থাকতে হবে। 

৪.ধর্মচর্চা করুন, পূজা পাঠ করুন, ধ্যান করুন, মঠে বা সৎসঙ্গে যান - যেখানে আপনার মত অনেককে পাবেন। এভাবে আপনি সমবয়সী ও সমমনোভাবাপন্ন সঙ্গী পাবেন। সুন্দর সময় কাটবে - মন ভালো থাকবে। 

৫.নিজের যদি কোন শখ থাকে - সেগুলো নিয়মিত চর্চা করুন - যেমন - বাগান করা, গান শোনা, গল্পের বই পড়া ইত্যাদি। 

৬.বয়স্কদের জন্য অনেক ক্লাব থাকে। 50+ বা 60+ বা 70+ - এই গ্রুপে জয়েন করুন। এরকম গ্রুপের সাথে থাকলে আপনি একদম চনমনে থাকবেন। 

৭.আপনার সাধ্যমত সাংসারিক কাজে সহযোগিতা করবেন - এতে আপনার পরিবারের সাথেও আপনার বন্ডিং ভালো থাকবে। 

৮.সুযোগ ও সাধ্য থাকলে social work করুন।

বয়স বাড়লে শরীর একটু নুইয়ে পড়বেই - কিন্তু মনকে  নুইয়ে  পড়তে দেবেন না। যখনই এসব গ্রুপের সঙ্গে আপনি যুক্ত হবেন - দেখবেন আপনার থেকে শারীরিকভাবে বেশি অক্ষম মানুষ গুলো কতটা পজিটিভ ভাবে জীবন কাটাচ্ছেন - এবং তা দেখে আপনার জীবনে বেঁচে থাকার জন্য পজিটিভিটি আসবে। 

নিরাশাজনক গল্প করবেন না। ছেলেমেয়েদের দোষ ত্রুটি নিয়ে নিজেরা আলোচনা করবেন না। হাসি ঠাট্টা করুন, মজা করুন - নিজের জন্মদিন পালন করুন, নিউ ইয়ার সেলিব্রেট করুন, দেশের কোন সাফল্য সেলিব্রেট  করুন - এভাবে নিজেদেরকে আনন্দে রাখুন। 

মোটকথা নিজের শরীর স্বাস্থ্যের যত্ন নিন, মনের যত্ন নিন। আপনার সমবয়সী ও সমভাবাপন্ন মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, তাদের সাথে মেলামেশা করুন। এভাবেই আপনি আপনার একাকীত্ব কাটিয়ে উঠে প্রানোচ্ছল জীবনযাপন করতে পারবেন। 

আপনিও আপনার ইয়াং বয়সে আপনার সংসার, আপনার কর্মজগৎ ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আপনার সন্তান না ভাগ্যের উপর দোষারোপ না করে পজেটিভ ভাবে জীবনের শেষ দিনগুলো আনন্দে কাটান। জীবন নিয়ে নিরাশ হবেন না। যতদিন শ্বাস ততদিন আশ। 
Happy old age.

✪✪✪✪বৃদ্ধ বয়সে সুখী জীবন যাপন করতে চাইলে তার পরিকল্পনা আপনাকে ইয়াং বয়সেই করতে হবে। আপনি নিজেকে সহায় সম্বলহীন করবেন না। আপনার সারা জীবনের উপার্জন এর কিছু অংশ আপনার ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখবেন। অর্থাৎ নিজের সর্বস্ব সন্তানদের হাতে তুলে দেবেন না। যতদিন বাঁচবেন নিজের হাতে গড়া বাড়ি, সম্পত্তি ও জমানো পুঁজি - নিজের অধিকারেই রাখবেন। 
সন্তানের ভবিষ্যৎ তৈরিতে আপনি লেখাপড়া শিখিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোতে সহযোগিতা অবশ্যই করবেন - কিন্তু সর্বস্ব দিয়ে দিবেন না। যদি এই ভুলটা আপনি করেন তাহলে আপনার শেষ জীবন - কষ্টে কাটবে এটা অবধারিত।

✍️Krishna Das কৃষ্ণা দাস

( লেখা ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন, কপি করলে নামসহ করবে এটা ভদ্রতা ও সৌজন্যতা🙏)

#oldage #happyoldage #positivity #inspiration #krishnadas #followme

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর