নরেন্দ্রপুর নাজিরাবাদ জলাভূমি ভরাট করে কারখানা , আগুন মৃত্যু মিছিল চলছে
মিলল আট দেহাংশ নিখোঁজ ২৩
ধোঁয়ায় মিশে রয়েছে মাংস পোড়া গন্ধ। ছাইয়ের মধ্যে হঠাৎ চোখ পড়েছে মানুষের হাড়।
কানে আসছে স্বজনদের গুমরে ওঠা কান্না।
মঙ্গলবার সকাল। নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে সেই দুই গুদামের ধ্বংসাবশেষের ভিতরে তখনও পুরোপুরি ঢোকা যাচ্ছে না। দমকল তখনও ধিকিধিকি করে জ্বলা আগুন খুঁজে বার করে নিভিয়ে চলেছেএ-দিকে ও-দিকে। তার মধ্যে পা রাখতে এমনই ধাক্কা এসে লাগল চোখে-মুখে। রবিবার রাত দু'টো নাগাদ যে আগুন লাগে পাশাপাশি গুদাম দু'টিতে। মঙ্গলবার বিকেলে পর্যন্ত ৩৮ ঘন্টা পার করেও সেখানে থেকে একটি সম্পূর্ণ দেহ খুঁজে পাননি উদ্ধারকারীরা। ছাই হাতড়ে মিলেছে শুধু হাড়গোড় আর দেহাংশ। দু'টি ব্যাগে ভরে সেগুলি মর্গে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিচয় জানতে সময় লাগবে। সূত্রের দাবি, ডিএনএ পরীক্ষা সম্ভব নয়। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, মোট আট জনের হাড়গোড় মিলেছে। তবে এই সাংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। কারণ, বিভিন্ন সূত্র মিলিয়ে দাবি, এখনও খোঁজ নেই অন্তত ২৩ জনের। পুলিশ শুধু জানিয়েছে, রাত পর্যন্ত ১৪টি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে।
আগুনে পোড়া দেহাংশ। মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুরের আনন্দপুর বাইপাসের নাজিরাবাদের গুদামে।
শ্রীভূমি থেকে নাজীরাবাদের দূরত্ব মেরেকেটে বারো কিলোমিটার। সেই পথ পাড়ি দিতে রাজ্যের দমকলমন্ত্রীর লেগে গেল ৩২ ঘন্টা। মঙ্গলবার দুপুরে অবশেষে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। কিন্তু তাঁর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কোনও ব্যাখ্যা দিতে চাননি তিনি। শুধু বলেছেন, "এখানে আসিনি, তবে রাত তিনটেয় আগুনের খবর পাওয়ার পর থেকেই সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। কাজ চলছিল। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই। বরং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা, মানুষকে উদ্ধার করাটাই কাজ। সেই কাজ হয়েছে। কাজের মধ্যে এখানে এসে বিঘ্ন ঘটিয়ে আমি কী করব?" কলকাতা তে জলাশয় বুজিয়ে নির্মাণ বেআইনি কারখানা গভীর রাতে আগুনে পড়ে মৃত ১৬ ,নিখোঁজ ২৬। দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ৩২ ঘণ্টা পরে যান।
Comments
Post a Comment