১৯৬৯ সালের ২৩ শে জানুয়ারি 🗓️ 
🔵সেইদিন কলকাতায় শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড়ে প্রতিষ্ঠিত হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু'র ঘোড়ায় চড়া পূর্ণাবয়ব মূর্তি 🗿 মূর্তিটি গড়েছেন মারাঠি ভাস্কর নাগেশ যোগলেকর। 
 🟡স্বাধীনতার তখন সবে ২১/২২ বছর হয়েছে! জাতীয় নায়ক নেতাজির স্মৃতি মানুষের মনে তখন আরো তাজা! সকলের বিশ্বাস তিনি একদিন ফিরে আসবেন, হাতে নেবেন স্বাধীন দেশের দায়ভার! 
উক্ত অনুষ্ঠানের কারণে দু দিন আগে থেকে ট্রামের তারগুলো পুনর্বিন্যাস করে সরানো হয়েছে, অনুষ্ঠানের দিন বাসের রুটও সাময়িকভাবে বদলে দেয়া হয়েছে! তাতেও কি আর জনতার আবেগ বাঁধ মানে? মোড়ের অভিমুখী পাঁচটি রাস্তাই জনারণ্যে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে যানবাহন কার্যত: স্তব্ধ। 
তৎকালীন সমস্ত নেতা মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে সেই 🔴অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হবার কথা বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর,উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করবেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু না , দুজনের কেউই সেই ভয়ঙ্কর ভিড় এড়িয়ে সময়মত পৌঁছতে পারেন নি! পৌঁছনো সম্ভবও ছিলো না! এদিকে লগ্ন বয়ে যায়! কাজী অনিরুদ্ধ , তাঁর যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে আজাদ হিন্দ ফৌজের গান বাজিয়ে শ্রোতাদের আনন্দ দিচ্ছেন। ভিড় ঠেলে কোনক্রমে মঞ্চে পৌঁছেছেন কাজী সব্যসাচী ও। তিনি ঘোষণা করছেন - বিজ্ঞানী সত্যেন বসু আর হেমন্ত মুখার্জীর গাড়ি জ্যামে আটকে পড়েছে, তাই আসতে দেরি হচ্ছে!
🟢শ্রোতাদের শান্ত করার জন্যে সব্যসাচী এরপর "কান্ডারী হুশিয়ার" আবৃত্তি করতে শুরু করলেন। ইতিমধ্যে সত্যেন বাবু কোনরকমে এসে পৌঁছলেন। তিনি মূর্তির আবরণ উন্মোচন করলেন। মূল অনুষ্ঠান শুরু হলো। নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকদের ভাষণ ও নেতাজি মূর্তি তে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন চলতে চলতে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি ভিড় ভেদ করে মঞ্চের কাছে পৌঁছলো। উদ্বোধনীর বদলে অনুষ্ঠান শেষ হোলো হেমন্তর অমৃত কণ্ঠের গানে -- "তোমার আসন শূন্য আজি -- হে বীর পূর্ণ করো " 🎵
--------------------------------- ✍🏻

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর