মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাঙালিদের জন্যে কিছু করুন !আবেদন চিত্তরঞ্জন পালের
* ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মা, মুখ্যমন্ত্রী, অসমনা চিত্তরঞ্জন
১৯৮৩ সালে নেলি গণহত্যার তিওয়ারি কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু ১৯৯২ সালে ৭/৮/ ৯ ই ডিসেম্বর সংঘটিত এক তরফা গণহত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ করতে মুখ্যমন্ত্রী কে অনুরোধ জানাচ্ছি। সে বছর সাত ডিসেম্বর অমসু সামাদ গোষ্ঠী অসম বন্ধ ডেকেছিলো।সাত ডিসেম্বরের সকাল নয়টায় শহরের একটি ক্লাবের পঞ্চাশ ষাট জনের দল প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে তাণ্ডব সৃষ্টি করেছিলো। সেদিন নগাঁও শহরের প্রাণকেন্দ্র স্বরূপ ষ্টেডিয়াম মার্কেট, মিশন মার্কেট, নতুন বাজার ও কৃষ্ণাহল চারালিতে হিন্দু বাঙালিদের দোকান ভাঙচূড় করা হয়েছিলো। অবিভক্ত নগাঁও জেলার বর্তমান হোজাই জেলার ডবকা, কুর্কুবস্তি, নমাটি গাঁও, নাহরগাঁও, যমুনামুখের রাজার আলি গ্রাম ও নগাঁও জেলার রূপহী হাট বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কাঞ্চনপুর, সাইদরিয়া অঞ্চলে সংঘর্ষ হয়েছিলো। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ডম্বরুধর পাঠকের নেতৃত্বে একক তদন্ত আয়োগ গঠন করেছিলেন তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত হিতেশ্বর শইকীয়া। জানামতে, তদন্তের প্রতিবেদন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে অর্পণ করেছিলেন। আমি তখন নয়াদিল্লিতে ছিলাম। সারা অসম বাঙালি যুবছাত্র পরিষদের প্রতিনিধি দল নিয়ে আমি ১৯৯৩ সালের ২৭শে জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস বি চ্যবনের সাথে নর্থব্লকের কার্যালয়ে দেখা করেছিলাম। একতরফা গণহত্যার তথ্য সহ স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। ইস্পাতমন্ত্রী সন্তোষমোহন দেব, খাদ্য মন্ত্রী তরুণ গগৈ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পবনসিং ঘাটোয়ার সহ সাংসদ অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫ অশোকা রোডের বাড়িতে দেখা করেছিলাম। বরাক উপত্যকার দুই বিজেপি সাংসদের সঙ্গেও দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। আমি নয়াদিল্লি থাকার দরুন আমার বক্তব্য ডক্যুমেন্ট সহ লিখিত ভাবে নয়াদিল্লির অসম ভবনের রেসিডেন্ট কমিশনারের হাতে কমিশনের উদ্যেশ্যে আবেদন করেছিলাম। তথাপিও আমাকে পাঠক কমিশনে ডাকা হয়ে নি। যদিও শঙ্কর নগরে অনুষ্ঠিত পাঠক কমিশনে প্রতিদিন গিয়ে হাজির হয়েছিলাম। অবশ্য পরিস্থিতি সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে নগাঁও কোর্টে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিলো। এই গণহত্যায় সরকারি মতে ৬৬ জন হিন্দু বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছিলো। কিন্তু বেসরকারি মতে তা শতাধিক বলে লোকমুখে শুনেছি। পাঠক কমিশনে প্রদত্ত সবার বক্তব্য আমি পেয়েছিলাম। ওই ফাইল টি এখন আমার হাতে নেই। "1992 Communal Disturbance" । কারণ তদানীন্তন জেলাশাসক প্রয়াত জ্যোতিপ্রসাদ শইকীয়া ১৯৯২ সালের ঘটনা নিয়ে একটি বই লিখবেন বলেছিলেন। তিনি হোম সেক্রেটারি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তাই আমি ওই ফাইল আমার বড় ছেলের হাতে দিয়ে পাঠিয়ে ছিলাম। তিনি নগাঁও গোপীনাথ বরদলৈ কমার্স কলেজের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে এসেছিলেন। জ্যোতিপ্রসাদ শইকীয়ার আকস্মিক মৃত্যুর পর ফাইলটি আজও আনা হয় নি।
আপনার কাছে আমার বিনম্র অনুরোধ, আপনি পাঠক কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করুন। কারণ আমি পরবর্তী দু'বছর ওই সব গ্রামগুলোতে গিয়ে মানুষের সুখ-দুঃখের খবর নিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরেছি। ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের কমিশনার সেক্রেটারির কার্যালয়ে বহুবার গিয়েছি। অবশেষে ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত হিতেশ্বর শইকীয়া কে বুঝিয়ে প্রাপ্য এক লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। এই বেদনা এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী মহোদয়, আমাকে অসহনীয় অন্তর্জ্বালা থেকে মুক্তি দিন।
চিত্তরঞ্জন পাল।
Comments
Post a Comment