৬০-৮০ বছর পেরোলেও ভাল ,সুন্দর থাকার ৪০ টি উপায়

আজকাল মানুষের গড় আয়ু প্রায় আশি বছর ছুঁয়ে ফেলেছে। এই আশি বছরের পথে কীভাবে জীবনটাকে আনন্দে ভরে তোলা যায়— সেটাই আজকের কথার মূল বিষয়। জাপানের এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, হিদেকি ওয়াদা নামের এক মানুষ, এই নিয়েই লিখেছিলেন এক অসাধারণ বই – “The 80-Year-Old Wall”। বইটা বেরোতেই যেন আগুন লেগে গেল বাজারে, অল্প দিনের মধ্যেই পাঁচ লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। মানুষ যেন নতুন করে ভাবতে শুরু করল— বার্ধক্য মানে ক্লান্তি নয়, বরং জীবনের আরেক রঙিন অধ্যায়।

ওই বইয়ে তিনি বলেছেন, ষাট থেকে আশি বছরের মাঝের জীবনটাকেই সবচেয়ে সুন্দর করে বাঁচা যায়— যদি কিছু সহজ নিয়ম মানা যায়। সেই কথাগুলোর মূল ভাব রাখে এখানে সাজিয়ে দিলাম, একটু আপন করে, আমাদের মতো বাঙালির ভাষায়, আমাদের মাটির গন্ধে মিশিয়ে—

সুখে বার্ধক্য কাটানোর ৪৪টি সহজ উপায়:

১. প্রতিদিন অন্তত কিছুটা হেঁটে বেড়ান। হাঁটা মানেই জীবন চলার ইন্ধন।
২. রাগ এলে চুপ করে গভীর শ্বাস নিন, দেখবেন রাগটা নিজে থেকেই উবে যাচ্ছে।
৩. শরীরটা একটু ঘাম ঝরিয়ে নিন, ব্যায়াম না করলে মনও জমে যায়।
৪. গরমে এসি চালালে জলপান বাড়িয়ে দিন, শরীর শুকিয়ে ফেলবেন না।
৫. যা আছে তা নিয়েই খুশি থাকুন, অতিরিক্ত চাওয়া মনকে ক্লান্ত করে।
৬. হাঁটলে শুধু শরীর না, মাথাটাও তাজা থাকে।
৭. ভুলে যাওয়া বয়সের জন্য নয়, কম চিন্তা করার জন্য— তাই মনটাকে সক্রিয় রাখুন।
৮. যত ওষুধ কম, তত মঙ্গল। প্রয়োজনে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
৯. কৃত্রিমভাবে শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে নিজেকে কষ্ট দেবেন না।
১০. একা থাকা দুঃখ নয়, যদি নিজের সঙ্গ পেতে পারেন।
১১. একটু অলস হওয়ায় দোষ নেই, নিজেকে বিশ্রাম দিন।
১২. বয়স বাড়লে গাড়ি চালানো না করাই নিরাপদ— প্রয়োজনে ছেলে-মেয়ে বা ড্রাইভারকে বলুন।
১৩. যা ভালো লাগে তাই করুন, জোর করে কিছু নয়।
১৪. ইচ্ছেগুলোকে দমন করবেন না— এগুলোই আপনাকে বাঁচিয়ে রাখে।
১৫. সারাদিন ঘরে বসে থাকবেন না, একটু বাইরে যান।
১৬. যা খেতে ভালো লাগে খান, সামান্য মোটা হলে ক্ষতি নেই।
১৭. কাজ হোক ছোট বা বড়, মনোযোগ দিয়ে করুন।
১৮. যাদের সঙ্গে মন মেলে না, তাদের এড়িয়ে চলাই ভালো।
১৯. ঘন্টার পর ঘন্টা টিভি না দেখে, কিছু সময় নিজের সঙ্গে কাটান।
২০. অসুখের সঙ্গে যুদ্ধ না করে, তাকে মেনে নিয়ে বাঁচতে শিখুন।
২১. মনে রাখবেন— ঢালু রাস্তাতেও গাড়ি নিজের পথ খুঁজে নেয়।
২২. প্রতিদিন তাজা ফল আর সব্জি খান।
২৩. স্নানটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলুন, ঠান্ডা লাগার ভয় কমে।
২৪. জোর করে ঘুম আনবেন না, মন শান্ত হলে ঘুম নিজেই আসবে।
২৫. যেসব কাজ আনন্দ দেয়, সেগুলোই বার্ধক্যের আসল ওষুধ।
২৬. মনে যা আসে বলুন, অতিরিক্ত ভেবে থেমে যাবেন না।
27. একজন বিশ্বস্ত পারিবারিক ডাক্তার রাখুন।
28. অতিরিক্ত সহনশীল হওয়ার দরকার নেই, মাঝে মাঝে একটু দুষ্টুমি করাও ভালো।
29. কখনও কখনও জেদ ছেড়ে দেওয়াও একরকম শান্তি।
30. বার্ধক্যে ভুলে যাওয়া খারাপ নয়, বরং ঈশ্বরের দান— কম চিন্তা, বেশি শান্তি।
31. নতুন কিছু শেখা বন্ধ করবেন না।
32. নাম-যশের পেছনে ছুটবেন না, নিজের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটান।
33. শিশুর মতো সরল থাকুন, এতে মন হালকা থাকে।
34. জীবনে সমস্যা না থাকলে, রোমাঞ্চও থাকবে না।
35. রোদে একটু বসুন, রোদ মানেই উষ্ণতা, মানেই জীবন।
36. অন্যের ভালো করতে শিখুন, তাতেই সত্যিকারের আনন্দ।
37. আজকের দিনটাকেই সুন্দর করে কাটান, আগামীকাল নিয়ে ভাববেন পরে।
38. ইচ্ছে থাকা মানেই জীবনের স্পন্দন।
39. সবকিছুর মাঝেও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখুন।
40. খোলা মনে শ্বাস নিন, দম আটকে বাঁচা যায় না।
41. নিজের জীবনের নিয়ম নিজের মতো তৈরি করুন।
42. জীবনের প্রতিটি ঘটনার দিকে শান্ত চোখে তাকান।
43. সুখী মানুষদের সবাই ভালোবাসে, তাই সুখী থাকুন।
44. আর হ্যাঁ, হাসিটাই হল সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ— যত হাসবেন, তত সৌভাগ্য আসবে।

এ জীবনের এই সহজ কথাগুলো হয়তো আপনার দাদু, ঠাম্মা বা বাবা-মায়ের জীবনটাকে একটু হালকা করে দিতে পারে। তাই দয়া করে এই লেখাটা ওদের সঙ্গে শেয়ার করুন— হয়তো কারও একাকী বিকেলটা এই কথাগুলো পড়ে একটু উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

 সংগৃহীত:-😊

#everyoneシ゚ #foryouシ

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর