স্বর্গের ঠিকানা তে ডাক্তার অর্ধেন্দু কুমার দে ,ক্ষমা করে দেবেন ,আপনার বিজয় (ছবি পাঠাও)
স্বর্গের ঠিকানায় ডাঃ অর্ধেন্দু কুমার দে কে
বিজয় চক্রবর্তীর চিঠি;- তাং ২৫/১/'২৬
শ্রদ্ধাস্পদ স্যার,
প্রাত নমষ্কার। ওখানে কেমন আছেন? বৌদি- ননা ভালো আছে? ওখানে ত সবাই ভালো থাকে। শুনেছি, ওখানের আবহাওয়া রোগ ব্যাধির পরিপন্থী, জীবানু - বীজানু মুক্ত। ওখানে না কি ডাক্তার কবিরাজের ব্যবসা নিষিদ্ধ?
স্যার, ওখানেও কি আপনি হোজাই র মত সাধন বাবু, শান্তি বাবুর সাথে একই পাড়ায় থাকেন? ওখানে ত কারোর সাথে কারোর বৈরিতা নেই - রাজা প্রজা সবাই একই নৌকার যাত্রী। হোজাই নিয়ে কথা হয়? আসামের বাঙালির বিষয়ে কি তাঁরা জানতে চান? হিতেশ্বর শইকিয়া, তরুণ গগৈ, সন্তুষ মোহন দেব মহাশয়দের সাথে নিশ্চয় আপনার দেখা হয়, দেখা হলে জমিয়ে রাজনীতর আড্ডা হয় বুঝি? আপনার সুচিন্তক প্রণব মুখার্জির সঙ্গে কি দেখা হয়? তিনি কেমন আছেন?
চিঠি লিখতে বসে খেই হারিয়ে ফেলেছি। কি লিখতে গিয়ে মনের তাড়নায় কি লিখে ফেললাম! সরি। আসল কথায় আসি।
স্যার,
আপনি কি জানেন,আপনার স্বপ্নের হোজাই জেলার আজ (২৫ সে জানুয়ারী) দশম জন্ম বার্ষিকী। হোজাই জেলা প্রশাসন জন্ম বার্ষিকী এবার খুব ঘটা করে পালন করেছে। আপনার কি মনে পড়ে,হোজাই জেলার জন্মের বার্তা আপনার হাতে পৌঁছে দিতে সেদিনের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় তরুণ গগৈ তাঁর সংসদীয় সচিব বিধায়ক শ্রী ডাঃ মান সিং রংপিকে ২৬ জানুয়ারিতে আজকের শ্রীমন্ত শঙ্কর দেব নগর তৎকালীন শংকরদেব নগরে পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি জিলা গঠনের বার্তাটি হাজার হাজার মানুষের সম্মুখে পাঠ করা মাত্র হাজারো কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছিলো হোজাই জিলা জিন্দাবাদ। প্রথম ধ্বনি আমি দিয়ে ময়দানকে মুখরিত করেছিলাম। শঙ্কর মালাকার নিয়ে এসেছিল রঙ বেরঙের আবীরের বস্তা। বাদ ভাঙ্গা আনন্দে আত্মহারা উপস্থিত জনতা যেমনি রঙ খেলায় মেতে ছিলো তেমনি কাতারে কাতারে বোম, তুবড়ি ফুটিয়ে অর্ধেন্দু দে জিন্দাবাদ, তরুণ গগৈ জিন্দাবাদ ধ্বনি দিয়ে দিয়ে নাচতে শুরু করেছিলো। মহকুমাধিপতি শ্রীমতী কাবেরী বরকটকি শর্মাকে আমরা অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলাম ,"আপনি ইতিহাস হয়েগেলেন - শেষ মহকুমাধিপতি এবং প্রথম জিলা উপায়ুক্ত, হোজাই।" " আপনি ভাগ্যবান" বলে তাঁকে আবীর লাগাতে চাইলে তিনি রাগ করায়, আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দেন তাঁকে আবীর না লাগাতে।
স্যার ,আমার আজও মনে পড়ে,ডাঃ দে এবং তাঁর বন্ধু শরৎ বরকটকি র অভিমান ভাঙ্গাতে তরুণ গগৈ হোজাই মহকুমা এবং চড়াই দেও মহকুমাকে জিলায় উন্নীত করেছিলেন। আজ সব ইতিহাস। জানিনা ইতিহাসের রোমন্থন আজকের রাজকীয় বর্ণাঢ্য উৎসবে আলোচিত হবে কি না!!!?? না হওয়াই স্বাভাবিক, কারন বর্তমানের সরকার অতীতকে মুছে ফেলে নতুন ইতিহাস রচনায় ব্যস্ত।
স্যার, আমি দুঃখিত, আজও আপনার শেষ ইচ্ছা আমি পূরণ করতে পারিনি। আপনি চেয়ে ছিলেন শান্তি বনে স্থায়ীভাবে থাকতে , কিন্তু শান্তি বনে আপনার জন্য খানিকটা জায়গা জোগাড় করতে পারি নি। শান্তি বন কমিটি, হোজাই পৌর সভা এমন কি হোজাইর মাননীয় বিধায়ক মহাশয়ও শান্তি বন বা হোজাই শহরের কোনো জায়গায় আপনার জন্য এক ইঞ্চি জমি দিতে নারাজ। শান্তি বন কে আপনার শেষ আস্তানা মনে করে মনমত সাজিয়েছিলেন, কিন্তু নিষ্ঠুর নিয়তি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের অনিচ্ছুক। তবু আশা ছাড়িনি। পথ চেয়ে আছি, যা'তে তাঁদের সুমতি উদয় হয়।
স্যার, আমি লজ্জিত যে আপনার মানস কন্যা হোজাই গার্ল'স কলেজেও কলেজ কর্তৃপক্ষের বাধা ডিঙিয়ে কলেজ চৌহদে আপনার প্রতি মূর্তির স্থাপনের জন্য এক ছটাক মাটিও জোগাড় করতে পারি নি। আপনার আশীর্বাদ পুষ্ট, স্নেহাস্পদ অধ্যাপক গণও অদৃশ্য শক্তির ভয়কে জয় করে মূর্তি স্থাপনের জায়গা করে দিতে এগিয়ে আসেন নি, যদিও আপনার জীবিত কালে কোথায় আপনার মূর্তি বসানো হবে সেই জায়গাটি আপনাকে দুই একজন অধ্যাপক দেখিয়েও ছিলেন। তাঁদের আচরণে আপনার চোঁখের আনন্দ অশ্রু স্রোত সেই দিন দেখেছিলাম। দেখে ছিলাম আপনার শিশু সুলভ আনন্দ। সেই দিন ছিলো সরস্বতী পুজো।
আপনার মানস কন্যা আজ আর আপনাকে মনে করে বলে মনে হয় না। এটাই নিয়তির নির্মম পরিহাস। জন্ম দাতাকে অনেকেই ভূলে যায়। তাবলে কি জন্ম দাতা সন্তানকে অভিশাপ দেয় , দেয় না ত।
তাই,
আমার অনুরোধ,আপনি যেন সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে বা কথাচ্ছলে তাঁদেরকে অকৃতজ্ঞ বলে স্বর্গের শান্তি নীড়ে কারো সম্মুখে নিন্দা না করেন। পিতার কর্তব্য পিতা করে। সন্তান প্রতিদানে কি করলো তা পিতার দ্রষ্টব্য হতে পারে না। আপনিও কর্তব্য করেছেন।
স্বর্গের net work মর্ত থেকে পাওয়া যায় না। তাই চিঠি লিখলাম।
ইতি,
আপনার স্নেহের
বিজয় ।
প্রতি,
ডাঃ অর্ধেন্দু কুমার দে। প্রাক্তন মন্ত্রী, আসাম।
ঠিকানা - শান্তি নীড় কলোনি।
পোষ্ট অফিস -শান্তি ধাম
জিলা স্বর্গ পুরী।
মহাকাশ।
G
Comments
Post a Comment