বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বৃদ্ধদের নাগরিকত্ব পরীক্ষা চরম প্রহসন

গতকাল আনন্দবাজার পত্রিকায় SIR জটে বাংলার বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামীর শুনানিতে ডাক পড়ার খবরটার ঠিক পাশে আরেকটি খবর ছিল। জয়েরই সমবয়সী আরেক নাগরিকের শুনানিতে ডাক পড়ার খবর — কালীতারা সামন্ত।

১৯৫৬ সালে বাবা-মায়ের হাত ধরে এপার বাংলায় আসেন কালীতারা। ধুবুলিয়ার তাতলা উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নেওয়া কালীতারার জেদ ছিল পড়াশোনা করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই ভর্তি হন নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়ে। ১৯৬৪ টেস্টে অকৃতার্য হওয়ায় ম্যাট্রিক দেওয়া না হলেও হাতের কাজ শিখতে ভর্তি হন ফুলিয়া পলিটেকনিক কলেজে। ১৯৬৬ সালে পাশ করে চাকরি না পেয়ে কল্যাণীর আরেক উদ্বাস্তু পরিবারে বিয়ে। ছেলের জন্মের এক বছরের মধ্যেই স্বামীর মৃত্যু।

সারা জীবন লড়াই করে যাওয়া কালীতারা তাই যখন নির্বাচন কমিশন থেকে নোটিশ পান, ঝুঁকে পড়া শরীর নিয়েই বেরিয়ে পড়েন নথি খুঁজতে। অর্ধ শতাব্দী কেটে গিয়েছে মাঝে, অনেক পুরনো নথি খুঁজেও স্কুল থেকে পাওয়া গেল না কিছু। ইতিমধ্যে স্কুলের নাম বদলেছে, অত পুরনো সার্টিফিকেট ইত্যাদি খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।

শেষে একজন শিক্ষক কালীতারার বাড়ি এসে ট্রাঙ্ক ঘেঁটে ফুলিয়া পলিটেকনিক থেকে পাশ করার শংসাপত্রের একটা জীর্ণ ফটোকপি খুঁজে পান। সেই নথি নিয়েই ভোর ৫টায় উঠে কালীতারা হাজিরা দেন ধুবুলিয়ার কৃষ্ণনগর ২ ব্লক অফিসে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে।

বিএলও ফর্মে টিপ ছাপ দিতে বলতেই ফুঁসে ওঠেন কালীতারা - "এত কষ্ট করে লেখাপড়া শিখেছি টিপছাপ দেওয়ার জন্য?" ফর্মে গোটা গোটা ইংরেজি অক্ষরে লেখেন অশীতিপর বৃদ্ধা — KALITARA SAMANTA 

নতুন বছরে এই জেদ, এই প্রত্যয়, আর সব থেকে বেশি এই আত্মভিমান যেন আমাদের সকলের থাকে। এইটুকুই আমার নিউ ইয়ার রেজোলিউশন।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর