কলকাতার দেশ ভাবনার গুয়াহাটিতে জুবিন স্মরণ: গুয়াহাটি প্রেসক্লাব , সোনাপুর জুবিন সমাধিতে স্মরণ

জুবিন গার্গ স্মরণে গুয়াহাটিতে আবেগঘন সভা, উঠল মরনোত্তর ভারত রত্ন প্রদানের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদন: অসমের কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গার্গের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে গুয়াহাটি প্রেস ক্লাবে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। কলকাতার সাহিত্য–সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন দেশ ভাবনা এবং অসমের কৃষ্টি পথার অসম—এই দুই সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সভা পরিণত হয় এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মানপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক দৌলত রহমান, সুদীপ শর্মা চৌধুরী, অরূপ চক্রবর্তী, মৃণাল সরকার, আজহার আলম, অনুপমা ডেকা, রাজীবাক্ষ রক্ষিত, আব্দুল জলিল এবং জ্যেষ্ঠ সমাজকর্মী আব্দুল লতিফ। পাশাপাশি সম্মানিত হন সমাজকর্মী সুজিত নন্দী ও অভিনেতা সিদ্ধার্থ মুখার্জী। সংগীত জগত থেকেও একাধিক শিল্পী—বিজয় বিশ্বাস, মিতুল বর্মন, মালিনা বর্মন, গীতা ছেত্রী ও শুক্লা রানী—এই সম্মান গ্রহণ করেন।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্দুল লতিফ বলেন, “জুবিন ছিলেন একজন মহামানব। তিনি অমর, অজেয়—মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।”
অন্যদিকে সাংবাদিক সুদীপ শর্মা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে জুবিন গার্গকে শুধুমাত্র একজন শিল্পীর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জুবিন মানুষ, প্রকৃতি, গাছপালা থেকে শুরু করে জীবজন্তু—সবকিছুকেই ভালোবেসেছেন। তাঁকে ভুলে যাওয়া অসম্ভব। আগামী প্রজন্ম তাঁর গানকে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।”
স্মরণসভা থেকেই জুবিন গার্গকে মরনোত্তর ভারত রত্ন প্রদানের জোরালো দাবি তোলা হয়, যা উপস্থিত সকলের আবেগে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। বক্তব্য ও সংগীত পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে আবেগে ভিজে ওঠে গোটা মঞ্চ।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে কলকাতা, ত্রিপুরা ও অসমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীরা জুবিনের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। শিশু শিল্পী সায়ন রায়ের পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। পাশাপাশি প্রখ্যাত শিল্পী প্রলয় রায়ের স্বরলিপিতে শিল্পীবৃন্দের গান ও কবিতা পাঠ অনুষ্ঠানের সৌষ্ঠব আরও বাড়িয়ে তোলে।
এই অনুষ্ঠানে কলকাতার অ্যাকশন গ্রুপ অন্যতম সহযোগী হিসেবে পাশে ছিল। দেশ ভাবনার পক্ষ থেকে সংগঠনের অন্যতম প্রধান শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ এই তথ্য জানান। অনুষ্ঠানের শেষে কৃষ্টি পথার অসমের মহানন্দ দত্ত সরকার এবং দেশ ভাবনা কলকাতার দেবকিশোর চক্রবর্তী উপস্থিত সকল অতিথি, শিল্পী ও দর্শকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সার্বিকভাবে, এই স্মরণসভা শুধু এক শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নয়, বরং জুবিন গার্গের মানবিক উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে রইল।  সোনাপুরে জুবিন সমাধি ক্ষেত্র

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর