আজ স্বামী বিবেকানন্দ জন্ম তিথি উদযাপন

আজ যুগনায়ক *স্বামী বিবেকানন্দ* মহারাজের শুভ জন্মতিথি।

নরেন্দ্র [নরেন্দ্রনাথ দত্ত] ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমী তিথিতে জন্মগ্ৰহন করেন। ইনি পরবর্তী জীবনে শ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্ঘে বিশ্ববিখ্যাত স্বামী বিবেকানন্দ নামে পরিচিত হন। পিতা বিশ্বনাথ দত্ত প্রখ্যাত অ্যাটর্নী ছিলেন। তিনি খুব উদার মনোভাবাপন্ন এবং প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। মাতা ভুবনেশ্বরী অতিশয় ভক্তিমতী মহিলা ছিলেন। রামায়ণ-মহাভারত ও পুরাণাদি গ্রন্থপাঠে তাঁর বিশেষ দখল ছিল। বীরেশ্বর শিবের কৃপায় তিনি পুত্র নরেন্দ্রনাথকে পেয়েছিলেন। পুত্রের উপর মায়ের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। নরেন্দ্রনাথ অতিশয় মেধাবী এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ছাত্র ছিলেন। বালক নরেনের বুদ্ধিমত্তায় সকলেই মুগ্ধ ও বিস্মিত হতেন। সমবয়স্ক ছাত্রদের মধ্যে নরেন্দ্রনাথ ছিলেন ধ্যানপ্রবণ, প্রত্যুৎপন্নমতি এবং অসমসাহসিক ও হৃদয়বান নেতা। একাধারে অনেক গুণের অধিকারী। বাল্যকাল থেকে সত্যনিষ্ঠা এবং দেবদেবীর প্রতি অনুরাগ নরেন্দ্রনাথের মধ্যে বিশেষ লক্ষিত হয়। 

কলেজের পাঠকালেই ঈশ্বরান্বেষী যুবক নরেন্দ্রনাথ একজন প্রকৃত ঈশ্বরদ্রষ্টাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। সেই সময়ে ব্রাহ্মধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি বহু মনীষীর সান্নিধ্য লাভেও তৃপ্ত হন নাই। অবশেষে দক্ষিণেশ্বরে নরেন্দ্রনাথ শ্রীরামকৃষ্ণের মধ্যে সেই আকাঙ্খিত ঈশ্বরদ্রষ্টার সাক্ষাৎলাভ করেন। শ্রীরামকৃষ্ণ ওই সাক্ষাৎকালে নরেন্দ্রনাথকে জানতে পারেন যে এই সেই চিহ্নিত ঋষি যিনি লোকহিতার্থে পৃথিবীতে এসেছেন। নরেন্দ্র সেই দিনেই তাঁর এতদিনের প্রশ্নের উত্তর শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট থেকে মহূর্তমধ্যে পেয়ে যান। শ্রীরামকৃষ্ণের দৃঢ়কণ্ঠের উত্তর — তিনি ঈশ্বরকে দর্শন করেছেন; ভগবানকে তিনি নিজেই শুধু দেখেন নি, অপরকেও দেখাতে পারেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার সকল শক্তি নরেন্দ্রনাথকে অর্পণ করে মহাসমাধি লাভ করেন। 

শ্রীরামকৃষ্ণের তিরোধানের পরে শ্রীরামকৃষ্ণের যুবক ভক্তদের একত্র করে বরাহনগর মঠে সন্ন্যাসগ্রহণ করে প্রথমে বিবিদিষানন্দ পরে সচ্চিদানন্দ ও শেষে বিবেকানন্দ নামে তিনি পরিচিত হন। তারপর পরিব্রাজক রূপে ভারতের সর্বত্র পরিভ্রমণ করে দেশের বাস্তবরূপের সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় হয়েছিল। অবশেষে মাদ্রাজের যুবক ভক্তদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিবেকানন্দ আমেরিকার শিকাগো শহরে আয়োজিত বিশ্বধর্ম মহাসভায় যোগদান করতে রওনা হন ১৮৯৩ খ্রীষ্টাব্দের ৩১শে মে। অনেক অসুবিধার মধ্যে অগ্রসর হয়েও শেষ পর্যন্ত তিনি উক্ত সম্মেলনে হিন্দুধর্মের প্রতিনিধিরূপে যোগদান করে হিন্দুধর্মের মহিমা ঘোষণা করেন। উক্ত সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়ে জগৎসভায় ভারতের প্রতিষ্ঠা করে বিপুল সাফল্য লাভ করেন। আমেরিকার নানা স্থানে ঘুরে ভারতীয় ধর্ম, সংস্কৃতি, দর্শন ও বেদান্তের প্রচার করা এই সময়ে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। ইউরোপেও তিনি বেদান্ত প্রচার করেন। ১৮৯৭ খ্রীষ্টাব্দে ভারতে ফিরলে কলম্বো থেকে আলমোড়া পর্যন্ত সর্বত্র অভূতপূর্ব অভ্যর্থনা লাভ করেন। নানাস্থানে বক্তৃতার পরে ভাবী রামকৃষ্ণ মিশন গঠনের কাজে উদ্যোগী হন এবং ১৮৯৭ খ্রীষ্টাব্দের ১লা মে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠা করেন। ৪ঠা জুলাই ১৯০২ মাত্র উনচল্লিশ বৎসর বয়সে তিনি মহাসমাধি লাভ করেন।

এই পূণ্য দিবসে আমরা জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং সংখ্যাতীত প্রণাম।
—•—•—•—•—•—•—•—•—•—•—•—
পরিবেশনা: _স্বামী সোমেশ্বর অনুধ‍্যান_আজ কান্দি রামকৃষ্ণ আশ্রম   জন্ম তিথি উদযাপিত হবে।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর