বাংলাদেশর হিন্দুদের উপর অত্যাচার রাজনৈতিক চক্রান্ত
বাংলাদেশ ও ভারতে খন্ড খন্ড সহিংস ঘটনার পিছনে কী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ?
প্রদীপ দত্তরায়
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতে কিছু খন্ড খন্ড নির্যাতনের ঘটনা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। হিংসাত্মক এইসব ঘটনা মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করছে। বিশ্বের শান্তিকামি এবং প্রগতিশীল মানুষ এইসব ঘটনাকে নিন্দা জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এগুলি দমন করার ক্ষেত্রে ভূমিকাটা খুব ইতিবাচক নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ এসব ঘটনার তদন্ত এবং মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে থাকে এমনটাও দেখা যাচ্ছে। ধর্মের নামে, বর্ণের নামে , অঞ্চলের নামে এই যে বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলা হচ্ছে এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল কেমন হতে পারে এ নিয়ে সচেতন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্থ। বাংলাদেশে এখন কোনো গণতান্ত্রিক সরকার নেই ।একটি উগ্র জাতীয়তাবাদীদের সমর্থনপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার সে দেশে সমস্ত জনগোষ্ঠীর জান- মাল রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। ধর্ম অবমাননার মিথ্যে অভিযোগ তুলে দিপু দাসকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ময়মনসিংহের আরেক যুবককেও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আরেকজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। চট্টগ্রাম এবং পিরোজপুরে ঘরের ভেতর মানুষকে তালাবদ্ধ করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে আরো কয়েকজন আহত।শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেহরভাঙ্গা বাজারে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাজারের ফার্মেসি ও বিকাশ–নগদ ব্যবসায়ী খোকন দাস রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তিনজনের একটি সন্ত্রাসী দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। যারা এসব ঘটনা করছে তাদের পেছনে সংকীর্ণ রাজনীতি কাজ করছে। হামলার তিনদিন পর হাসপাতালে খোকনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের পুলিশ এ ঘটনাগুলি নিয়ে মামলা করেছে কিন্তু বৃহত্তর পরিসরে নিরাপত্তাহীনতার যে দৃশ্য ফুটে উঠেছে তা খুবই হৃদয়বিদারক। বাংলাদেশে যদি সংখ্যালঘু মানুষ নিরাপদে থাকতে না পারে তাহলে এর প্রতিক্রিয়া কিছুটা হলেও ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে পড়তে বাধ্য। অরুণাচল প্রদেশে তাই বাংলাদেশি বিতরণের হুংকার দিয়ে সে রাজ্যের বাসিন্দারা সরাসরি পদক্ষেপ করতে শুরু করেছেন। অন্যান্য রাজ্য অসহিষ্ণুতার কিছু কিছু ঘটনা ঘটে চলেছে। কেবল ধর্মের নামেই নয় আঞ্চলিকতার প্রশ্ন এনেও নির্দোষ, নিরপরাধ মানুষের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হিংসার পরিবেশ গড়ে তুলে ভোট ব্যাঙ্ক অক্ষত রাখার কোনো চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
Comments
Post a Comment