হিন্দু সমাজের আত্ম সমালোচনা প্রয়োজন আছে
বর্ণভেদ শয়তা/*ন মানুষদের দ্বারা সৃষ্টি, ঈশ্বরের নয় : হিন্দু সমাজের আত্মসমালোচনা ও পুনর্জাগরণের দরকার...
হিন্দু সমাজে বর্ণভেদ বা জাতিভেদের যে কঠোর কাঠামো দেখা যায়, তার উৎপত্তি কোনো দেবতাত্মক নির্দেশে নয়, বরং মানুষেরই সৃষ্টি—মানুষের মধ্যকার স্বার্থ, ক্ষমতা ও আধিপত্য রক্ষার প্রবণতা থেকেই এই বিভাজন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা পায়। প্রাচীন বৈদিক যুগে বর্ণ ছিল দক্ষতা ও কর্মভিত্তিক, কিন্তু সমাজের ভেতর কিছু সুবিধাভোগী, ক্ষমতালোভী ও কুপথগামী মানুষ নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখার জন্য এটিকে জন্মগত ও অপরিবর্তনীয় করে তোলে। ফলস্বরূপ সামাজিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, শূদ্র ও নিম্নবর্ণের মানুষকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অবদমন, অবমাননা ও শোষণের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়।
মানুষের সৃষ্টি এই অন্যায় ব্যবস্থা সমাজকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে, দ্বন্দ্ব, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার জন্ম দিয়েছে। অথচ ধর্মের আত্মা এই বিভেদকে স্বীকৃতি দেয় না; উপনিষদ, ভগবদ্গীতা ও বহু শাস্ত্রীয় গ্রন্থেই মানবিক সমতা ও অন্তরের পবিত্রতাকেই আসল ধর্ম বলা হয়েছে। তাই হিন্দু সমাজকে টিকে থাকতে হলে এই কৃত্রিম ও অন্যায্য প্রথা থেকে মুক্তি পেতেই হবে—কারণ প্রকৃত ধর্ম মানুষকে ভাঙে না, যুক্ত করে; বিভেদ সৃষ্টি করে না, ভ্রাতৃত্বের পথ দেখায়।
আজকের যুগে শিক্ষা, যুক্তিবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ আমাদের সামনে নতুন আলো দেখিয়েছে। এই আলোয় দাঁড়িয়ে বর্ণভেদকে অমানবিক, অযৌক্তিক ও অশাস্ত্রীয় বলে প্রত্যাখ্যান করাই হিন্দু সমাজের অগ্রগতির পথ। সমাজকে সুস্থ, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে হলে জন্মের ভিত্তিতে মানুষের মর্যাদা নির্ধারণের এই বঞ্চনামূলক কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে, কারণ মানুষই মানুষকে বিভক্ত করেছে, আর মানুষই এই বিভেদ দূর করতে পারে।
হিন্দু সমাজের মুক্তি ও নবজাগরণের প্রথম শর্তই হচ্ছে মানুষে মানুষে সমতা প্রতিষ্ঠা—এই উপলব্ধিই ভবিষ্যতের পথ দেখায়। হিন্দু সমাজে বর্ণভেদ কোনো ধর্মশিক্ষার ফল নয়, বরং মানুষের স্বার্থসাধনের জন্য গড়ে ওঠা এক অন্যায় প্রথা। আজকের মানবিক ও যুক্তিবাদী যুগে এই কৃত্রিম বিভাজন ভেঙে সত্যিকারের সমতার সমাজ গড়াই হিন্দু সমাজের অগ্রগতি ও ঐক্যের একমাত্র পথ।
✍️ Sufal Sarkar II
#বর্ণভেদ_প্রথা
#জাতিভেদের_বিরোধ
Comments
Post a Comment