বিপন্ন প্রকৃতি দেশের মানুষ প্রকৃতি বিরোধী
বিপন্ন আরাবল্লী
আরাবলী পাহাড় ও পাহাড়শ্রেণির যে সংজ্ঞা কেন্দ্র পেশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে, তা অনুমোদিত হল। আশেপাশের এলাকার চেয়ে অন্তত একশো মিটার উচ্চতার ভূখগুই কেবলমাত্র আরাবল্লী পাহাড় বলে গণ্য হবে - এই ছিল কেন্দ্রীয় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রস্তাবিত সংঞ্জা। আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রেখেও বলা প্রয়োজন, এই সংজ্ঞাটি গৃহীত হওয়ার উদ্বেগের কারণ আছে। কারণ, অনেকে হিসাব কষে দেখাচ্ছেন, এত দিন যে ভূখণ্ড আরাবল্লী পাহাড়শ্রেণি বলে গণ্য হয়ে এসেছে, তার ৯০ শতাংশই আর পরিবেশ সংরক্ষণ বিধির অধীনে সুরক্ষাযোগ্য থাকবে না। বারো হাজারেরও বেশি পাহাড়ের মধ্যে মাত্র হাজারখানেক আদালতের শর্ত পূর্ণ করতে পারবে। ফলে এই সব এলাকায় খনন করা যাবে, পর্যটন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কারণে নির্মাণ করা যাবে। অথচ পরিবেশ সুরক্ষার নিরিখে ছোট পাহাড়, ঝোপ-গুল্ম আবৃত জমির গুরুত্ব কিছুমাত্র কম নয়। ভূগর্ভের জল পূরণ করতে, মাটির ক্ষয় রুখতে, মরুকরণ নিবারণে, ধুলো-বালির ঝড় আটকে দিতে, বন্যপ্রাণীর আবাস এবং যাতায়াতের পথ হিসেবে, ক্ষুদ্র জলবায়ু পরিমণ্ডল ধরে রাখতে এগুলি অপরিহার্য। এই কারণেই অতীতের নানা সমীক্ষা কুড়ি ফুট উচ্চতার পাহাড়, সেগুলির ঢালু অংশ এবং আনুষেঙ্গিক ভূখণ্ডকেও আরাবল্লী পাহাড়শ্রেণির বলেই ধার্য করে এসেছে। সমুদ্রতল থেকে উচ্চতার পরিমাপ না করে আশেপাশের এলাকার থেকে উচ্চতার পরিমাপও ভূগোলের প্রচলিত প্রথার বাইরে। এটা ঠিক যে, রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা, দিল্লি - নানা রাজ্যে নানা ভাবে আরাবল্লীকে সংজ্ঞায়িত করত। কিন্তু, প্রশাসনিক জটিলতা ছড়াকার প্রাকৃতিক সম্পদ, জীবসম্পদ এবং বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে গেলে সার্বিক ভাবেই তাকে দেখতে হবে।
Comments
Post a Comment