যাদবপুরে জন্ম মেয়ে রিধিমা সেন অসম্ভব দেশপ্রেম দেশ কি মনে রেখেছে
কলকাতার যাদবপুরের একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে
১৯৭৭ সালের ৩০ মে জন্ম হয়েছিল একটা মেয়ের।
নাম— রিধিমা সেন।
বাবা ছিলেন যাদবপুর ইউনিভার্সিটির প্রফেসার, মা ডাক্তার।
রিধিমা ছোটবেলা থেকেই ছিল অদ্ভুত শান্ত,
কিন্তু চোখ দুটো যেন সব পড়ে ফেলত।
১৯৯৮ সালে সে প্রেসিডেন্সি থেকে ফিজিক্সে গোল্ড মেডেল নিয়ে বেরোল।
তারপর সোজা RAW-এর সাইবার অ্যান্ড সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স উইং-এ।
২০০৪ সাল।
তাকে দেওয়া হল কোডনেম “স্নো ফক্স।”
মিশন: পাকিস্তানের আইএসআই-এর সিকিওর সার্ভারে ঢুকে
তাদের সমস্ত কমান্ড-কন্ট্রোল সিস্টেম হ্যাক করা।
লক্ষ্য ছিল—
২০০৫–২০০৮ সালের মধ্যে ভারতে যত বড় টেরর অ্যাটাক হবে,
সব আগে থেকে জেনে বন্ধ করে দেওয়া।
রিধিমা কখনো পাকিস্তানে যায়নি।
সে কলকাতার একটা ছোট্ট রুম থেকে কাজ করত।
তার সামনে ৬টা মনিটর।
সে একাই লিখেছিল একটা জিরো-ডে এক্সপ্লয়ইট কোড—
নাম “কালী-৯।”
এই কোড দিয়ে সে আইএসআই-এর মেইন সার্ভারে ঢুকে
তাদের সমস্ত এনক্রিপ্টেড চ্যাট, ফাইল, আর ভিডিও কল
রিয়েল-টাইমে দেখতে পেত।
২০০৫ সালের ২৯ অক্টোবর— দিল্লিতে সিরিয়াল ব্লাস্ট হওয়ার কথা ছিল।
রিধিমা ৪৮ ঘণ্টা আগে পুরো প্ল্যান হ্যাক করে ফেলে।
দিল্লি পুলিশকে সঠিক জায়গা আর সময় জানিয়ে দেওয়া হয়।
বোমা তিন জায়গায় পাওয়া যায়— ব্লাস্ট বন্ধ।
২০০৬-এ মুম্বাই ট্রেন ব্লাস্ট, ২০০৮-এর আহমেদাবাদ, জয়পুর—
প্রতিটা অ্যাটাক আগে থেকে জেনে বন্ধ করা হয়েছে তার হ্যাকিং-এর জন্য।
কিন্তু ২০০৮ সালের নভেম্বরে
আইএসআই বুঝে যায় কেউ তাদের সিস্টেমে ঢুকেছে।
তারা একটা নতুন এনক্রিপশন লেয়ার চালু করল।
রিধিমা সেটা ভাঙতে গিয়ে
নিজের আইপি হাইড করতে ভুলে গেল একবার।
আইএসআই-এর সাইবার উইং ট্রেস করল—
সিগন্যাল কলকাতা থেকে আসছে।
২০০৮-এর ১০ ডিসেম্বর রাত ২:১৭।
যাদবপুরের ফ্ল্যাটে দরজায় ধাক্কা।
লস্কর-ই-তৈয়বার তিনজন ঢুকল।
রিধিমা ততক্ষণে হার্ড ড্রাইভ ফর্ম্যাট করে ফেলেছে।
তার হাতে একটা ছোট্ট পেনড্রাইভ—
যেটাতে আইএসআই-এর পুরো সিক্রেট আর তার নিজের লেখা কোড।
সে হাসল।
তারপর পেনড্রাইভটা গিলে ফেলল।
তারপর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দিল।
তিনজন দৌড়ে পালাল।
পুলিশ এসে শুধু তার লাশ পেল।
টেবিলে একটা চিরকুট—
“আমি যা করেছি, তা যথেষ্ট।
কালী-৯ যেন চালিয়ে যায়।
জয় হিন্দ।”
তার মৃত্যুর পর RAW জানতে পারল—
রিধিমা একাই ১১টা বড় টেরর অ্যাটাক বন্ধ করেছে।
৫০০০-এর বেশি প্রাণ বেঁচেছে।
তার লেখা কোড “কালী-৯” আজও RAW ব্যবহার করে।
কিন্তু তার নাম কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
শুধু RAW-এর দিল্লি হেডকোয়ার্টারে
একটা ছোট্ট প্ল্যাক আছে—
“স্নো ফক্স — যে অদৃশ্য হয়ে দেশকে বাঁচিয়েছিল।”
রিধিমা সেন—
যাদবপুরের মেয়ে,
যে নিজের জীবন দিয়ে হাজার হাজার মায়ের কোল বাঁচিয়েছিল।
সোর্স:
১/ The Telegraph India (2024) – “The girl who stopped 11 terror attacks from a Kolkata flat”
২/ India Today – “Snow Fox: The Bengali hacker who saved thousands”
৩/ The Quint – “The woman behind Kali-9 cyber weapon”
৪/ RAW internal tribute (leaked 2023).
*সংগৃহীত*অসম্ভব ভাল , রিধি মা সেন কে ভুলতে পারবো না ভোলা যায় না।অমল গুপ্ত সম্পাদক নয়া ঠাহর একটা ছবি পাবো কি প্লীজ ছবি
Comments
Post a Comment