অসমে বাঙালিদের সমস্যা ও সমাধানের পথ
-:আসামের বাঙালির সমস্যা ও সমাধানের পথ:-
বিজয় চক্রবর্তী
সাধারন সম্পাদক
অসম নাগরিক মঞ্চ। হোজাই।
" মুক্ত বেণীর গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে
আমরা বাঙালি বাস করি সেই তীর্থে -বরদে বঙ্গে।"
কবি সত্যেন্দ্র নাথ দত্তের এই বঙ্গ১৯৪৭ সনের ১৪ই আগষ্ট রাত ১২ টায় কুচক্রীদের চক্রান্তে এবং ক্ষমতা লোভী এক শ্রেণীর নেতৃত্বের ক্ষমতার লালসায় ভেঙ্গে টুকরো হয়ে গেলো। টুকরো হলো গুরদেব রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের "সোনার বাংলা"।
বিলিন হয়ে গেলো বাঙালির আত্মপরিচয়, বাঙালি হারালো বহু শতাব্দীর সঞ্চিত আত্ম মর্যাদা।বাঙালির শান্তি নীড় শনি দেবের কুদৃষ্টির প্রকোপে ছারখার হয়ে গেলো। বাঙালি হয়ে গেলো নিজভূমে পরবাসী। মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেবের পিতৃ ভূমির উত্তর পুরুষদের কপালে ঝুটলো উই পোকা, খেচ্ছর, ঘুছ পেটিয়া বিশেষণ-নিদেন পক্ষে শরণার্থী।
বাঙালির বীরত্বে কবি এক সময়ে লিখেছিলেন , "আমরা হেলায় নাগের ই খেলাই নাগের ই মাথায় চড়ি।আমাদের ছেলে বিজয় সিংহ লঙ্কা করিয়া জয়, সিংহল নাম রেখে গেলো তাঁর শৌর্য্যের পরিচয়।"আজ সেই বাঙালি গ্রন্থে আছেন,বাস্তবে??!!
ভেতু বাঙালি আজকের মত ভিতু ছিলো না, ছিলো শৌর্য, বীর্য্যে এক পরাক্রম শালী জাতি। তাঁরা স্বাধীনতা হীনতাকে ঘৃণা করত তাঁদের কবি বলতেন্,"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় রে, কে বাঁচিতে চায়?" তাঁরা ঘৃণা করত সংকীর্ণতাকেও, তাই ওদের কবি বলেছিলেন - "ওরা হিন্দু না মুসলিম ঐ জিজ্ঞাসে কোন জন?" তাঁদের পূর্ব পূরুষ ক্ষুদিরাম বসু, মাস্টারদা সূর্যসেন, বিনয় বাদল দীনেশ, বাঘা যতীন, উল্লাসকার দত্ত, প্রীতিলতা ওয়াদ্দার, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু সহ লক্ষ লক্ষ বাঙালি ভারত মাতার শৃঙ্খল মোচনের সংগ্রামে নিজকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁরা বলতেন "বাংলা ভারত মায়ের আত্মা"। আত্মাহীন দেহ জড়, মৃত। তাই তাঁরা বাংলার নয় ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ আহুতি দিয়েছিলেন।পাকিস্তান নামক শব্দটি তাঁদের স্বপ্নেরও অগোচর ছিলো।
পাকিস্তান একটি টেস্ট টিউব বেবি(রাষ্ট্র)। যে'টির জন্ম হয়েছিলো জিন্নার মুসলিম লীগ ও শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির হিন্দু মহাসভা র সংমিশ্রিত বীর্যে, টেষ্ট টিউবে,কংগ্রেসের ল্যাবরেটরিতে।সিরোগেটিভ মাদার বৃটিশ সরকার।
ভারতের স্বাধীন সূর্য্য পরাধীনতার নাগপাশে আবদ্ধ হয়েছিলো বঙ্গের পলাশীর প্রান্তরে। কবির ভাষায়," কান্ডারি! তব সন্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর!
বাঙালির খুনে লাল হলো যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় হায় ডুবিছে মরিয়া ভারতের দিবাকর, উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পুনর্বার।"পলাশীর প্রান্তরে ১৭৫৭, সনে শুধু মাত্র সিরাজের পরাজয় হয় নি -হয়েছিলো বৃহত্তর ভারত বর্ষের, পরাজয় হয়েছিলো জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা নির্বিশেষে ভারত মাতার প্রতিটি সন্তানের। ষড়যন্ত্র শুধু সিরাজ সেনাপতি মীরজাফরের নয় তাতে শামিল ছিলো কয়েকজন অবাঙালি বৃহৎ ব্যবসায়ী, ষড়যন্ত্রে হাত মিলিয়ে ছিলেন কয়েকজন বাঙালি রাজাবাবুও। তাঁদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে ভারত মায়ের দামাল ছেলেরা মাতৃ মুক্তির পণ করে একশত বছর পর ১৮৫৭ সনে সেই বাঙলার মাটিকেই বৃটিশের রক্তে স্নান করিয়ে ইংরেজ শাসনের ভিত কাপিয়ে দিয়েছিলো। ফাঁসির মঞ্চে মঙ্গল পাণ্ডেরা হাসি মুখে গেয়ে গেলো জীবনের জয় গান। সেই ফাঁসির মঞ্চে বৃটিশ বিরোধী অভিযানের শুভারম্ভ হলো নাম সিপাহী বিদ্রোহ। এই ভাবেই এক গাঙ রক্তের বিনিময়ে শত শত শহীদের আত্ম'হুতি তে ভারত মাতা শৃঙ্খল মুক্ত হলেন সত্য কিন্তু,তাঁর দেহ হলো দ্বিখণ্ডিত - এক খণ্ডের নাম পাকিস্তান অপর খণ্ডের নাম ভারত বর্ষ। খণ্ডিত অংশ থেকে আজও মহাপ্রভুর শ্রী চৈতন্য দেবের পিতৃ ভূমির বাঙালির রক্ত অযোর ঝরে ঝরছে, ব্যথায় এপারের শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের উত্তরসূরি বাঙালিও কাতরাচ্ছে।ক্ষমতার লোভে, ধর্মের নামে কুচক্রী রা স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ গণকে অপমান করে বৃহৎ ভারতকে বানরের পিঠা ভাগানোর মত নিজেদের স্বার্থে ভাগিয়ে নিলো। ইংরেজের কলমের এক খোঁচায় বাঙালির এক ভাই হয়ে গেলো পাকিস্তানি, অন্য ভাই ভারতীয়। বাঙালি বিপ্লবী গণ পাকিস্তানের জন্য লড়াই করে নি- রক্ত দিয়েছেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য। তাই রাগে, ঘৃণায় অপমানে তাঁরা পাকিস্তান ছেড়ে স্বাদের, গর্বের ভারত বর্ষে আসতে শুরু করলো। ভারত বর্ষ তাঁর বীর সন্তানদের ললাটে শরণার্থীর লেবেল লাগিয়ে নিন্দনীয় ভাবে স্বাগত জানালো। বাঙালির মন লজ্জ্বায় ঘৃণায় হয়ত তখন বলে উঠেছিলো ," ধরিত্রী তুমি দ্বিখণ্ডিত হও , আমরা তোমাতে লুকিয়ে লজ্জ্বা নিবারণ করি।"
স্বাধীনতার আনন্দে যখন সমগ্র ভারত বর্ষ হর্ষ-উল্লাস, আনন্দের জোয়ারে ভাসছে, তখন বাঙালি হিন্দুর মনে বিষাদের ছায়া, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানির কান্নায় ভারতের আকাশ বাতাস ভারাচ্ছন। "নেই নেই কেহ নেই কে দেবে বেঁচে থাকার আশ্বাস।" কারন" দিকে দিকে নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস।" শুধু বেঁচে থাকার তাগিদেই বাঙালির আসামে প্রবেশ- লুণ্ঠনের জন্য নয়।
প্রবাদ আছে "কম ঠেলায় বিড়াল গাছে উঠে না"। আসামে বাঙালি হিন্দুও কম ঠেলায় চৌদ্দ পুরুষের ভিটে মাটি ছেড়ে , আলহাদে আটখানা হয়ে আসামে আসেনি, এসেছে প্রাণ বাঁচাতে, সম্মান বাঁচাতে। এসেছে তাঁদের পূর্ব পুরুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত তাঁদেরই হক স্বাধীন হিন্দুস্তানের আসামে । কিন্তু আসামে আগত বাঙালির ললাটে সুখ লেখা ছিলো না, লেখা ছিলো দুর্দশা,অপমান, নির্যাতন। তবু অসহ্য যন্ত্রনা কে সাথী করে শুরু হয় তাঁদের বাঁচার লড়াই। বাঁচার লড়াইয়ে আসাম সরকার পর্বত সম অন্তরায়ের সৃষ্ঠি করেছিলো। এখনো করে যাচ্ছে।
আজও আসামের বাঙালি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। স্বাধীনতার পর থেকেই অর্থাৎ ১৯৪৭ সনের ২৩ সে আগষ্ট থেকেই আসামের প্রধানমন্ত্রী লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ মহাশয়ের সরকারের পৃষ্ঠোপোষকতায় ও অগ্নী কবি, কংগ্রেস নেতা অম্বিকা গিরি রায় চৌধুরীর অহম জাতিয় মহাসভার উদ্যোগে অসমিয়া ভাষা সংস্কৃতি রক্ষার নামে আসামে বাঙালির উপর নির্যাতন শুরু হয় , শুভারম্ভ হয় বাঙাল খেদা আন্দোলনের । সেই পরম্পরা পুরুষানুক্রমিক ভাবে আজও সমান গতিতে এগিয়ে চলছে-পরোক্ষ ভাবে সরকারি- পৃষ্টপোষকতায়।
আসামের বাঙালির মূল সমস্যা নাগরিকত্বের, ভূমির অধিকারের, ভাষা,শিক্ষা ও কর্ম সংস্থাপনের।
স্বাধীনতা প্রাপ্তির উষা লগ্নে উগ্র অসমিয়া জাতীয়তাবাদী তথা উগ্র বাঙালি বিদ্বেষী দল সংগঠনের কাছে স্বেচ্ছায় মাথা নত করে বৃটিশ আমলের আসামের প্রধানমন্ত্রী লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ মহাশয়''আসাম অসমিয়ার' বলে প্রচার চালিয়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়কে বে নাগরিক করার শুভ সূচনা করেন! কথায় আছে 'বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দঢ়।" তাই স্বাধীন সার্বভৌম ভারতের আসাম প্রদেশের প্রথম বিধান সভার প্রথম অধিবেশনকে সম্বোধন করতে গিয়ে বৃটিশ নিযুক্ত আসামের গভর্ণর তথা স্বাধীনতা পরের রাজ্যপাল আলী আকবর হাইদারী গোপীনাথ বরদলৈ মহাশয়ের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে বলেছিলেন যে,অসমিয়া জাতি এখন মুক্ত, ভয় হীন। পাহাড়ের জনজাতি ও সমতলের অসমিয়া তাঁদের নিজের ভাগ্য নিয়ন্তা। বাঙালিরা ইচ্ছা করলেই এখন তাঁরা কোনকিছু করতে পারবে না। এই ভাবেই স্বাধীনতার উষা লগ্নে আসামে বাঙালি বিদ্বেষ ও ঘৃণা সরকারি উদ্যোগে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আসাম সরকারের বাঙালি বিরোধী মনোভাব অহম জাতিয় মহা সভাকে উৎসাহিত করে। রাজ্যপালের সরকারি ভাষণ নাচনে ওয়ালার ঝির কাছে মৃদঙ্গের তালি হয়ে বাজতে লাগলো। দ্বিগুণ উৎসাহে বাঙালিকে আসাম থেকে উৎখাত করতে শুরু হয় তাণ্ডব নৃত্য। নৃত্যের পুরোভাগে অসম সাহিত্য সভা স্বীকৃত ন অসমীয়াদের তাণ্ডব ছিলো দর্শনীয় যেন রাজাকারের আসাম সংস্করণ। নতুন পরিকল্পনায় ভারত সরকারের ওপর বাঙালির বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে, সরকারকে প্রত্যাহ্বান জানিয়ে অহম জাতিয় মহাসভার গৌহাটি চার্চ গিল্ডের এক প্রকাশ্য সভায় আসাম কে ভারত থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মহাসভার নেতৃত্ব। এমন কি নাগাল্যান্ড এর বিচ্ছিন্নতা বাদী , সন্ত্রাস বাদী নেতা ফিজোকে এই বিষয়ে তার বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।
ভারতে তখনও নিজস্ব সংবিধান বলবৎ হয় নি। এই সুযোগে স্বাধীন ভারতের প্রথম জন গণনার আসামের প্রতিবেদনকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু রাম মেধী ১৯৫২ সনে NRC তে রূপান্তরিত করে বাঙালির নাগরিকত্ব প্রাপ্তির পথে কাঁটা বিছিয়ে দেন। NRC আসামে ফিনিক পাখী।সংবিধানে NRC শব্দটি ২০০৩ সনে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে সংযোজিত করা হয়েছে। এই সংশোধনই বাঙালিকে বিশেষ করে আসামে বে নাগরিক করার শ্রেষ্ঠ অস্ত্র।
১৯৮৭ সনের সংশোধনী মতে ১৯৮৭ সন পর্যন্ত যাঁদের জন্ম ভারতে হয়েছে তাঁরা জন্ম সূত্রে ভারতীয়। তারপর যাঁদের জন্ম হয়েছে তাঁদের মা বাবা একজন ভারতীয় নাগরিক হলেই জন্ম সূত্র সেও ভারতীয়। কিন্তু,২০০৩ সনের সংশোধনীতে বলা হয়েছে মা বাবা উভয়কেই ভারতের নাগরিক হতে হবে , তবেই জন্ম সূত্রে নাগরিকত্ব । সেই আইনে আরও আছে একজন ভারতীয় হলেই চলবে অন্য জন যদি ঘোষিত বিদেশী না হয়ে থাকেন।নাগরিকত্ব সংশোধনীর মূল লক্ষ্য বাঙালি হিন্দুকে বে নাগরিক করা।
একটি জাতিকে নিঃশেষ করতে তার ভাষা, সংস্কৃতিকে নিঃশেষ করতে হয়। তাই স্বাধীনতার জন্ম লগ্ন থেকেই বাংলা ভাষাকে নিঃশেষ করতে আসাম সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। সারথী অহম জাতীয় মহাসভা, আসাম সাহিত্য সভা এবং একশ্রেনীর উগ্র বাঙালি বিদ্বেষী কবি, সাহিত্যিক। আসামে বাংলা ভাষা নিঃশেষের অভিপ্রায়ে ১৯৬০ সনে আসামে সরকারি কাজের মাধ্যম তথা শিক্ষার মাধ্যম এক মাত্র অসমিয়া করার জন্যে চারকুলার জারি করা হলে বরাক ভেলীতে তীব্র প্রতিবাদ হয়। ব্রহ্ম পুত্র উপত্যকার হোজাই ,লামডিং এও প্রতিবাদ হয়, প্রতিবাদ হয় ধুবরীতে , মালিগাঁওয়েও। সরকারের পক্ষপাত মূলক আচরণ , বহু ভাষিক আসামে সংবিধান বিরোধী এক ভাষা নীতি ,বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি বৈ মাতৃ সুলভ আচরণ।সরকারের ভাষা সার্কুলারের বিরুদ্ধে, এবং আসামে বাংলা ভাষা রক্ষার দাবীতে ১৯৬১ সনে শিলচর রেলস্টেশনে রেল অবরোধ করতে গিয়ে আসাম রাইফেলের গুলিতে কমলা ভট্টাচার্য সহ ১১ জন বাঙালি প্রাণ আহুতি দিয়েছেন। কমলা বিশ্বের প্রথম মহিলা ভাষা শহীদ। আজও তাঁরা আসাম সরকার কর্তৃক শহীদের স্বীকৃতি পেলো না। কিন্তু তাঁদের প্রাণের বিনিময়ে আজও আসামে বাঙলায় কথা বলা যায়, ইচ্ছা করলেই বাংলায় লেখা পড়া করা যায়। মাতৃ ভাষায় শিক্ষা ও কথা বলা সাংবিধানিক অধিকার। বরাক উপত্যকার বাংলা ভাষা রক্ষার আন্দোলন শিলং, দিল্লীতেও ঝড় তুলেছিলো।
স্বাধীন ভারতের সংবিধান কে বুড়া আঙ্গুল দেখিয়ে আজও আসামের বাঙালি বর্ণ বৈষম্যের স্বীকার। আইনগত ভাবে আসামের বাঙালিকে দ্বীতিয় শ্রেণীর নাগরিক করতে ২০১৬ সন থেকে জোরকদমে চলেছে সরকারি প্রয়াস। আসাম চুক্তিতেই সেই প্রয়াস বিদ্যমান। দ্বীতিয় শ্রেণীর নাগরিক করার প্রথম পদক্ষেপ- ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। এই জন্য মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় সর্বানন্দ সানোয়ালের কর্তৃক হরি শঙ্কর মুচাহারির নেতৃত্বে আসামের ভূমির অধিকার কার -সেই বিষয়ে পরামর্শ দেবার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। দ্বীতিয়, আসাম চুক্তির ৬ নং ধারা রূপায়নের রুট মেপ বের করতে প্রাক্তন বিচারপতি বিপ্লব কুমার শর্মার নেতৃত্বেও আরো একটি কমটি গঠন করা হয়। দুই কমিটির প্রতিবেদন মতে ১৯৫১ সনের পূর্ব থেকে যে বা যাঁরা আসামে আছেন আসামে মাটির অধিকার কেবল তাঁদেরই।
বিপ্লব কুমার শর্মার প্রতিবেদন মতে ১৯৫১ সনের পূর্ব থেকে যে বা যারাই আসামে আছেন তারা খিলঞ্জিয়া। (খিলঞ্জিয়া সংবিধান পরিপন্থী , আসাম চুক্তির কোথায়ও এই শব্দটি নেই। এটি বাঙালিকে দ্বীতিয় শ্রেণীর নাগরিক করার সরকার ও AASU র মনগড়া শব্দ।) তাঁরাই আসামের আর্থ-রাজনৈতীক-সামাজিক অধিকারের যোগ্য। সরকারি চাকুরি, ব্যবসার অনুজ্ঞা পত্র পাওয়ার এক মাত্র তাঁরাই যোগ্য। দুইটি প্রতিবেদনের সুপারিশ ভারতের সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী। কিন্তু সরকার দুইটি প্রতিবেদনের সুপারিশ কার্যকরি করতে বদ্ধ পরিকর। প্রমাণ -আসাম সরকারে অভিলাষী প্রকল্প -বসুন্ধরা মিশন -২ ।বসুন্ধরা মিশন -২ র ঘোষিত উদ্দেশ্য তৌজি মাটি, সরকারি মাটি যাঁদের দখলে আছে এবং যদি তাঁরা ভূমিহীন,তাঁদেরকে পাট্টা প্রদান, অর্থাৎ মাটির মালিকানা সত্ব প্রদান। খোলা চোঁখে দেখেলে মনে হবে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য। কিন্তু অলিখিত নিয়ম পট্টার আবেদন কারি কে তিন পুরুষ যাবত আসামে থাকার প্রমান পত্র বা ১৯৪৮ সনের পূর্ব থেকেই আসামে বসবাস করার ধারা বাহিক প্রমাণ পত্র দাখিল করতে হবে নতুবা খিলঞ্জিয়া হতে হবে।এই নিয়ম অ খিলঞ্জিয়াদের অর্থাৎ বাঙালিদের জন্য।
বিচারপতি বিপ্লব কুমার শর্মার প্রতিবেদন কার্যকর হলে আসামে দুই শ্রেণীর নাগরিক সৃষ্টি হবে অর্থাৎ যাঁরা ১৯৫১ সনের পূর্ব থেকে আসামে আছেন তাঁরা নাগরিক, সকল ধরণের রাজনৈতীক-সামাজিক অধিকার উপভোগ করবেন।১৯৫১ সনের পরের যাঁরা তাঁরাও নাগরিক কিন্তু ভারতীয়, ভোট দেবার আধিকার পাবে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার অধিকার পাবে না। যেমন - নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজো রাম। তাই নাগরিকত্বের সুরক্ষা আসামের বাঙালির অন্যতম সমস্যা।
এই সমস্যা সমাধানে চাই সম অধিকার। উল্লেখিত সকল সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ,বাঙালিদের জন্য ঘরের ভিতরে ঘর- উপ গ্রহিয় স্বায়ত্ব শাসিত পরিষদ। (SATELLITE TYPE OF ATOUNOMOUS COUNCIL)।
সম অধিকারের জন্য চাই সকল শ্রেণীর সরকারি চাকুরীতে ও উচ্চ শিক্ষায় বিশেষ করে, চিকিৎসা বিজ্ঞান, কারিগরী শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও অন্যান্য আধুনিক শিক্ষায় জন সংখ্যা অনুপাতে বাঙালিদের জন্য আসন সংরক্ষণ।
বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ের সংস্কার ও সংরক্ষণ। বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ে অ বাঙালি শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে ন্যুনতম ২০% বাঙালি থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন শিক্ষা নীতির আধারে (যেখানে বাংলা ভাষার বিদ্যালয় নেই) সরকারি উদ্যোগে বাংলা মাধ্যমের স্কুল প্রতিষ্ঠা।
CAA র জটিল RULES সংশোধন করে FT দ্বারা ঘোষিত তথা কথিত বিদেশিদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়া। আসাম চুক্তি ও CAA র আধারে অসাংবিধানিক D VOTAR নিশ্চিহ্ন করে আইনের চোঁখে সকলে সমান ভারতের সংবিধানের মূল বানীকে বাস্তবায়ন।
১৯৬১ সনের ১৯ সে মে বাংলা ভাষা রক্ষার দাবীতে শিলচর রেলস্টেশনে যে ১১ জন বাঙালি প্রানাহুতি দিয়েছেন এবং তিনসুকিয়া জেলার ধলায়, ভারত রত্ন ভূপেন হাজারিকা সেতুর পাদ দেশে যে পাঁচ জন বাঙালি মৎস্য জীবী ULFA র হাতে শুধু মাত্র বাঙালি কুলে জন্ম নেয়ার অপরাধে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের সকলকে শহীদ স্বীকৃতি দিয়ে বাঙালি সম্প্রদায়কে অসমিয়া সম্প্রদায়ের সম মর্যাদা প্রদান করে "আমরা ভারতীয়, আইনের চোঁখে সকলে সমান" সংবিধানের এই আপ্ত বাক্যটি কে সম্মান প্রদান করা হো'ক।
ইতি
বিজয় চক্রবর্তী।
ফোন নাম্বার ৯৪০১২৪৪৫৬৪
,
Comments
Post a Comment