শতায়ু শিক্ষকের সঙ্গে সাংবাদিক সঞ্জয় কুমার মিশ্র র বার্তালাপ

👆
*শতায়ু অ্যালুমিনি পেনশনারের সঙ্গে*  :-
সঞ্জয় কুমার মিশ্র, প্রাক্তনী '১৯৭৯ কান্দি রাজ হাইস্কুল এবং প্রাক্তনী '১৯৮১ কৃষ্ণনাথ কলেজ , বহরমপুর 
     যখন কোনো ব্যক্তি  চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন তখন তাঁকে অন্যান্য উপহারের সঙ্গে সচরাচর যে মানপত্র খানি দেওয়া হয় সেই মানপত্রের শেষ দিকে সাধারণত লেখা হয়  আপনি সুস্থ শরীরে দীর্ঘ জীবন লাভ করুন বা শতায়ু হন । ওটা যে কথার কথা নয় তার স্বচক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেল কান্দি শহরে । 
      গত সপ্তাহে কান্দি মহকুমা ট্রেজারির পক্ষ থেকে কান্দি কালীবাড়ি রোডের স্থায়ী বাসিন্দা মাননীয়
গিরিজা প্রসন্ন চক্রবর্তী মহাশয় কে সম্বর্ধনা দিয়ে আসা হয় একশো বছর বয়স পূর্ণ করার জন্য। সম্বর্ধনা হিসেবে ফুলের তোড়া,মিষ্টির প্যাকেট , একটি গীতা বই সেই সঙ্গে পেনশন দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার আদেশনামা । ট্রেজারি কতৃপক্ষের কোনো একজনের কাছ থেকে জানতে পারলাম সরকারি নিয়মানুযায়ী পেনসনারের ৮০ বছর বয়স পূর্ণ হবার পর প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বেসিক পেনসনের কুড়ি , ত্রিশ, চল্লিশ , পঞ্চাশ শতাংশ করে পেনসন বর্ধিত হবার পর বয়স একশো বছর পার করলেই সেই পেনসন মূল পেনসনের দ্বিগুণ হয়ে যায় মানে একশো শতাংশ উপঢৌকন দেওয়া হয় , যেটা অনেকের কপালেই জোটে না । সেই হিসেবে গিরিজা বাবু একজন সৌভাগ্যবান।
     কান্দি রাজ হাইস্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিগত সম্মেলনের সময় নিরানব্বই বছর পূর্ণ করে একশো বছরে পা দেওয়ার কারনে সম্মেলন মঞ্চে ঘটা করে শততম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয় । রত্নগর্ভা কান্দি রাজ হাইস্কুল থেকে 1943 সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পর মুর্শিদাবাদ জেলার আর এক রত্নগর্ভা কলেজ বহরমপুরের কে এন কলেজ থেকে আই এস সি ‌পাশ করার পর পদার্থ বিদ্যার সাম্মানিক স্নাতক (ফিজিক্স অনার্স ) হন । অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অনটনের কারনে তা আর বাস্তবায়িত হয় নি । তারপরে যাদবপুর কলেজ ( তখন যাদবপুর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হয় নি ) থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে  বি ঈ ইলেকট্রিক্যাল ডিগ্রি লাভ করেন । বাবা মারা যাওয়ার কারণে সংসারের হাল ধরতে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর জিঈসি তে চাকরি শুরু করেন । শৈশবে পিতৃহারা গিরিজা বাবু কষ্ট করে লেখাপড়া শেখায়  পৈতৃক জমিজমা রক্ষা করার তাগিদে পশ্চিম বঙ্গের বাইরে কোনোদিন চাকরি করতে যেতে চান নি । তাই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি করার পর অবশেষে  রাণীগঞ্জ ইনস্টিটিউট অফ মাইনিং কলেজের Principal হন । শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেই  ১৯৮৭ সালে ৬২ বছর বয়েসে অবসর গ্রহণ করেন । অধ্যাপনার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ধরে রাখতে চাইলেও জমিজমা দেখভালের জন্য স্বভূমে প্রত্যাবর্তন করেন । 
    বর্তমানে কান্দি শহরের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও গিরিজা বাবুর আসল বাড়ি ভরতপুর থানার হামিদপুর গ্রামে । ১৯২৫ সালে ওখানেই জন্মগ্রহণ করেন । বিপত্নীক গিরিজা বাবু দুই কন্যা এক পুত্রের জনক । পুত্র দুর্গাপুরের আর ঈ কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর চাকরি সূত্রে কোলকাতা বাসী হলেও মাঝে মাঝেই বাবা কে দেখতে আসেন । বিবাহ সূত্রে দুই কন্যা কান্দির বাসিন্দা হওয়ায় নিত্যদিন পালাক্রমে তাঁরাই বাবার দেখভালের দায়িত্বে আছেন । ২০১৮ সালে স্ত্রী গত হবার পর ২০২০ সালে ঘরের মধ্যেই পড়ে গিয়ে হিপ জয়েন্ট ভেঙে যাওয়ার কারনে বর্তমানে ওয়াকার নিয়ে চলাফেরা করলেও নিজের সমস্ত কাজ নিজেই এখনো পর্যন্ত করে যাচ্ছেন। সচরাচর বাড়ির বাইরে আর বের হন না বললেই চলে তবে কেউ যদি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যায় তাহলে তিনি মহাখুশি। বিভিন্ন গল্পে এমনভাবে মাতিয়ে রাখেন যে তাঁকে ছেড়ে আসাই যায় না । কান্দি রাজ হাইস্কুলের এবং বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজের বর্তমানে সর্ববরিষ্ঠ প্রাক্তনীর সঙ্গে আমিও ঐ স্কুল এবং কলেজের একজন প্রাক্তনী হিসেবে তাঁর স্নেহ ভালোবাসায় কিছু টা সময় কাটিয়ে এলাম , ছবিও তুলে ফেললাম। গিরিজা বাবু আমাদের অনুপ্রেরণা, তিনি দীর্ঘায়ু হন , সুস্থ থাকুন এই কামনাই করে কান্দি বাসী ।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর