কবিরাজ দিলীপ সেনগুপ্ত প্রয়াত
*প্রয়াত হলেন জেলার বরিষ্ঠ কবিরাজ*
অমল গুপ্তের প্রতিবেদন : গত নয়ই ডিসেম্বর কান্দীর মহকুমা হাসপাতালে প্রয়াত হলেন কান্দী পৌরসভার বিজয়নগর নিবাসী, মুর্শিদাবাদের বরিষ্ঠ আয়ুর্বেদ চিকিৎসক দিলীপ সেনগুপ্ত।সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশভাক ব্রিটিশ সরকারের কারাবন্দী, তাম্রপদক প্রাপ্ত স্বনামধন্য কবিরাজ কানাইপদ সেনগুপ্ত ছিলেন তাঁর পিতা।আজন্ম নীতিনিষ্ঠ পরিবারের ঐতিহ্য মেনেই বড় হয়েছেন। মিষ্টভাষী ,মিতবাক, সুভদ্র স্বভাবের,সৌম্যদর্শন ,আগাপাশতলা বাঙ্গালী, ধূতি-পাঞ্জাবী পরিহিত দিলীপ সেনগুপ্ত ছিলেন নিয়মনিষ্ঠ স্বল্পাহারী।পিতৃদেব স্বর্গত 'কানাই কবিরাজ' তাঁকে হাতে ধরেই শিখিয়েছিলেন বংশগত শাস্ত্র আয়ুর্বেদ। কান্দী বাজারের লিচুতলায় তাঁর *আয়ুর্বেদ কুটির* মহকুমা তো বটেই আরও অনেক অনেক দূরের মানুষের কাছেই বিশ্বস্ত আয়ুর্বেদ চিকিৎসা-কেন্দ্র, যেন আরোগ্য নিকেতন । মহকুমার সর্বস্তরের মানুষেরই, বিশেষত হতদরিদ্র মুসলিম সমাজের অগাধ আস্থা এই আয়ুর্বেদ কুটিরের চিকিৎসায়। এই আয়ুর্বেদ কুটিরে তাঁদের ভিড় সেই সত্যটিই যেমন প্রকটিত করে তেমনই কবিরাজ মশায়ের ধর্মবিদ্বেষবিহীন সদাশয়তার পরিচয় বহন করে। শিক্ষিত অভিজাত বর্ধিষ্ণু পরিবারের বহু রোগীর চিকিৎসা করতেন দিলীপ সেনগুপ্ত। বর্তমান সমাজের উগ্রতা,রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচার, অবক্ষয়ে কবিরাজ মশাই অত্যন্ত বিষণ্ণ ও উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর আয়ুর্বেদ কুটিরের সান্ধ্য আড্ডাটি ছিল কান্দীর বিশিষ্ট ভদ্র,পরিশীলিত রুচির শিক্ষিতজনের।এই স্বল্প দিনের রোগশয্যায় তিনি বেশ বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গেই একটি ঐতিহ্যের অবসান হয়ে গেল বলে সমাজের বিশিষ্টজনেদের অনেকের অভিমত।
Comments
Post a Comment