শকুন্তলা দেবি বিরল প্রতিভা অধিকারী জন্মদিনের প্রনাম

♦️সেই এক বিরল মুহূর্ত—যখন মানুষের মস্তিষ্কের গতির সামনে থেমে গেল কম্পিউটার!
১৯৭৭ সালে সাদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটি, টেক্সাসে ঘটে সেই ঐতিহাসিক ঘটনা। এক ভারতীয় নারী মাত্র ৫০ সেকেন্ডে সমাধান করলেন এমন একটি জটিল সমীকরণ, যা কম্পিউটারের লেগেছিল আরও ১০ সেকেন্ড বেশি।
তিনি হলেন—শকুন্তলা দেবী, যিনি সারা পৃথিবী জুড়ে পরিচিত “হিউম্যান কম্পিউটার” নামে।

♦️শকুন্তলা দেবীর জন্ম ১৯২৯ সালে ভারতের কর্ণাটকে। তাঁর শৈশব কেটেছে সার্কাসের তাঁবুতে—বাবা ছিলেন ট্রাপিজ শিল্পী ও সিংহ প্রশিক্ষক। প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ না থাকলেও মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি মুখে মুখেই যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ করে সবাইকে চমকে দেন।
বাবা তাঁর প্রতিভা চিনে ফেলেন, সার্কাস ছেড়ে মেয়ের গণিত প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য শুরু করেন দেশজুড়ে রোড শো।

♦️যেখানেই যান, শকুন্তলার মাথায় যেন সংখ্যার সুর বাজত।
কোনো ক্যালকুলেটর নেই, কোনো কাগজ-কলম নেই—শুধু স্মৃতি আর মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য ক্ষমতা।

♦️১৯৪৪ সালে বাবা-মেয়ের পাড়ি লন্ডনে।
সেখানে ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিজ্ঞানসম্মেলনে ও গণিত প্রতিযোগিতায় তিনি মন্ত্রমুগ্ধ করে তুললেন তাবড় অধ্যাপক, গবেষক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের।

♦️বিশ্বের নামী প্রতিষ্ঠানগুলিতে তাঁর গণনার ক্ষমতা যাচাই করা হয়—এবং ফলাফল, সবখানেই একটাই:
“Unbelievable but True!”

 ♦️অবিশ্বাস্য মুহূর্ত – যখন কম্পিউটার হার মানে

♦️সেই বিখ্যাত ঘটনাটি ঘটে ১৯৭৭ সালে—
তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় সংখ্যাটি:
916748676920039158098866092758538016243... (একটি বিশাল ২০১-অঙ্কের সংখ্যা!)
এর ২৩তম মূল কত?

♦️মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে শকুন্তলা দেবীর উত্তর:
 ৫৪৬,৩৭২,৮৯১

♦️কম্পিউটারের উত্তর আসতে সময় লেগেছিল ৬০ সেকেন্ড!
এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর নাম ওঠে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (1982) — “Fastest Human Calculator on Earth” হিসেবে।

♦️১৯৮৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড. আর্থার জেনসেন তাঁর মানসিক ক্ষমতা পরীক্ষা করেন।
তিনি দুটি প্রশ্ন দেন—
১️⃣ ৬১,৬২৯,৮৭৫-এর ঘনমূল (Cube root)
২️⃣ ১৭০,৮৫৯,৩৭৫-এর সপ্তম মূল (7th root)

♦️প্রশ্ন শেষ করার আগেই শকুন্তলা দেবী বললেন—
উত্তর: ৩৯৫ এবং ১৫।
ড. জেনসেন নিজে পরে বলেন, “মানব মস্তিষ্কের ক্ষমতা এতদূর পর্যন্ত যেতে পারে, তা আমি কল্পনাও করিনি।”

♦️লেখিকা: ‘The World of Homosexuals’, ‘Astrology for You’, ‘Puzzles to Puzzle You’ সহ বহু বইয়ের লেখক।

♦️জ্যোতিষী: তাঁর জন্মছক বিশ্লেষণ আজও জনপ্রিয়।

♦️রাজনীতিবিদ: ১৯৮০ সালে বেঙ্গালুরু থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।

♦️রান্নাবিদ: ভারতীয় খাবার নিয়ে রেসিপি বইও লিখেছিলেন।

♦️২০২০ সালে তাঁর জীবনী নিয়ে বলিউডে তৈরি হয় “Shakuntala Devi: The Human Computer” চলচ্চিত্র, যেখানে তাঁর চরিত্রে অভিনয় করেন বিদ্যা বালান।

♦️এই সিনেমা শুধু একটি প্রতিভার গল্প নয়, এটি মানুষের মস্তিষ্কের সম্ভাবনার জয়গান।

♦️ “যন্ত্র মানুষের সহায় হতে পারে, কিন্তু মস্তিষ্কের বিকল্প হতে পারে না।”

আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা শ্রদ্ধা জানাই সেই প্রতিভাকে, যিনি প্রমাণ করেছিলেন—একটি মানুষের মাথার ভেতরই লুকিয়ে আছে অজস্র সুপার কম্পিউটার। (সুজন মজুমদারের সৌজন্যে)

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর