রবীন্দ্র নাথ কে অপমান মেনে নিতে পারছেন না অসম বাসী
, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মহাশয় না। "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি" /রবীন্দ্র সঙ্গীতের উপর আপনার ফতুয়া অসম নাগরিক মঞ্চ মেনে নিতে পারছে না। আমরা গনতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের নাগরিক।আমাদের দেশে মত প্রকাশের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। এবং গীতো রবীন্দ্র সঙ্গীতটি ভারতবর্ষে নিষিদ্ধও নয় । আমরা ফতুয়া জারি করা কে কঠোর ভাষায় নিন্দা করি। এইটি মৌলবাদী তালিবানি প্রথা।
যাঁরা গান টি গেয়েছিল তাঁদের উপর দেশ দ্রোহী তকমা লাগিয়ে আপনি তৎকালীন বৃটিশ সরকার, বাংলা ভাষা বিদ্বেষী বাংলাদেশের জামাত ইসলামী তথা তাঁদের ও পাকিস্তানি মদত পুষ্ট ইউনুস সরকার, পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানি মুসলীম লীগের সম পর্য্যায়ে নিজেকে নামিয়ে নিলেন। আপনার এই অধঃপতিত মানসিকতাকে আসামের কোনো শুভ বুদ্ধী সম্পন্ন ব্যাক্তি মেনে নিতে পারছে না, বিশেষ করে বাঙালি/ বাংলাভাষী হিন্দু। অসম নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে আমি আপনার ও সরকারের এই সঙ্কীর্ণ রাজনীতিকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করছি। কারন,আসামের বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় অপনার দল ও আপনাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে।
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি গানটি কুচক্রী বৃটিশ ভারতের দ্বিখণ্ডিত বাংলাকে পুনঃ ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তাই, এই গানটি শুনা মাত্র বৃটিশ শাসকের গায়ে আগুনের সেকার মত ফুস্কা ফুটত। জামাত ইসলামী, উর্দুবাদী, ভারত বিদ্বেষী তৎকালীন পাকিস্তান সরকার অবিভক্ত পাকিস্তানে গানটি নিষিদ্ধ করেছিল। গানটি ছিল ভারতের সাধীনতা সংগ্রামীদের হাতিয়ার। এই গানের প্রাবল্যে পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়ে, ভারতের সর্বিক প্রচেষ্টায় স্বধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র "বাংলাদেশ "জন্ম নিয়েছিল ১৯৭১ সনে।১৯০৫ সনের রচিত এই রবীন্দ্র সঙ্গীত টি কেই তাই বাংলাদেশ সরকার জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করে ভারতীয় কবিকে সম্মানিত করেছে। এই সম্মানে ভারতও সম্মানিত, গর্বিত।এই সংগীত গেলেই যদি অপরাধ হয় তাহলে ভারতের প্রায় দশ কোটি বাঙালি তথা সারা বিশ্বের বাঙালি অপরাধী, অপরাধী আমিও- যেহেতু আমি বাংলা ভাষী ভারতীয় অসমিয়া।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মহাশয়,
আপনি আসামের একটি সভ্রান্ত পরিবারের উচ্চশিক্ষিত সুসন্তান। সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা আপনার পরিবারের ঐতিহ্য। সেই পরিবারের সন্তান হয়ে আপনি বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি কে অপমান করে পক্ষান্তরে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ও সারা বিশ্বের বাঙালিকে অপমান করেছেন। ভারতীয় আসাম বাসী বাঙালি হিসেবে আমার দাবী যে, আপনি আপনার ফাতুয়াটি প্রত্যাহার করে যাঁরা গানটি গেয়েছিল তাঁদের উপর থেকে দেশ দ্রোহী মামলা প্রত্যাহার করে বিশ্বকবি ,গুরুদেব রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসাম সরকারের প্রধান হিসেবে আসাম বাসীর ঐক্য, মৈত্রী ও ভাতৃত্বের মন্ত্রকে সম্মান জানাবেন। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর কেবল ভারত বা এশিয়ার মধ্যেই প্রথম নোবেল পুরষ্কার প্রাপক নন, তিনি বিশ্বের নান ইউরোপিয়ান মধ্যেও প্রথম নোবেল পুরষ্কার প্রাপক। তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীত বিশ্বের কোন দেশেই নিষিদ্ধ নয়, শ্রদ্ধার সঙ্গে পঠিত ও গীতো হয়। ব্যতিক্রম পাকিস্তান। আসাম ও কি তাই? ব্যতিক্রম বিজেপি ও ভারতের বিজেপি শাসিত গুটিকয় রাজ্য।এটি দৃষ্টি কটু ও নিন্দনীয়।
অসম নাগরিক মঞ্চ পশ্চিম বঙ্গের বিপ্লবী বাঙালি জনগণকে লাখ লাখ কুর্নিশ জানায়, তাঁদের এই বিষয়ে প্রতি বাদী কণ্ঠের জন্য , এই কুর্নিশ বরাক বাসীকেও। তাঁরা আবারো প্রমাণ করলেন," মা গো,আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি । তোমার ভয় নেই মা।"
অসম নাগরিক মঞ্চ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বিশেষ করে বিজেপি শাসিত প্রদেশে বাংলা ভাষা ও বাঙালির উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন দেখে গাভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। এই বিবৃতির মাধ্যমে ভারত সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে বাঙালি নির্যাতন বন্ধ করতে অনুরোধও জানাচ্ছি।
ইতি
বিজয় চক্রবর্তী
সাধারন সম্পাদক
অসম নাগরিক মঞ্চ।
হোজাই।
Comments
Post a Comment