জহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী সংঘর্ষ পূর্ণ জীবনের বৃত্তান্ত

‎ ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনি - বিজয় চক্রবর্তী
‎                                 লেখক:- বিজয় চক্রবর্তী।
‎                                  যোগীজান , হোজাই।
‎ জন্ম :- ইতিহাস সৃষ্টি কারি নবেম্বর বিপ্লব বর্ষের নবেম্বর মাসের ১৭ তারিখ। জন্ম স্থান :- বৃটিশ ভারতের  তৎকালীন যুক্তরাজ্যে, স্বাধীন ভারতের উত্তর প্রদেশের গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী-ট্রিবেণী সঙ্গম স্থলের অভিজাত ঐতিহাসিক শহর, যোগীর প্রয়াগ রাজে,সেই দিনও শহরটির নাম ছিলো এলাহাবাদ । 
‎ জন্ম সূত্রে কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ কিন্তু সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে, উদার পন্থি । প্র পিতামহ  গঙ্গাধর নেহেরু ছিলেন দিল্লীর কোতোয়াল (মূখ্য পুলিশ আধিকারিক)। জন্ম কুঠী:- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রকাশ্য আড্ডাখানা, ভারত বিখ্যাত ঐতিহাসিক আনন্দ ভবন। মৃত্যু:- প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, নতুন দিল্লী। তাং -৩১/১০/৮৪ইং।
‎   দাদু বৃটিশ ভারতের প্রখ্যাত আইনজীবী,স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা লগ্নের নেতৃত্ব বহন কারি, দুদে ব্যারিস্টার মতিলাল নেহেরু। বাবা ব্যারিস্টার, সুলেখক, ইংরেজী সাহিত্যে তুখর ব্যক্তিত্ব, জেল খাটা স্বাধীনতা সংগ্রামী , পরাধীন ও স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী । মা ঐতিহ্যশালী পরিবারের সাধারন গৃহ বধূ কমলা নেহেরু। এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন আমি কার কথা বলছি। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, তিনি আর কেউ নন ঠাকুর দা-ঠাকুমা ও বাবা-মার আদুরে ইন্দু, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইন্দিরা প্রিয় দর্শিনি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ,প্রয়াত ভারত রত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ির "মা দূর্গা", বাংলাদেশের জন্ম দাত্রী, বিশ্ববাসীর লৌহ মানবী শহীদ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
‎   আজ তাঁর ১২৬ তম জন্ম বার্ষিকী । সোনার চামুস মুখে নিয়ে তাঁর জন্ম হয়েছিল। মতিলাল রুপো র বংশের প্রথম নাতনির জন্মে আনন্দ ভবন বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো। 
‎    প্রাথমিক শিক্ষা:-তৎকালীন ভারতের অভিজাত শ্রেণীর শিক্ষা পদ্ধতি, গৃহ শিক্ষকের হাতে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে মাধ্যমিকে মাঝে মধ্যে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ গ্রহণ করে প্রবেশিকায় প্রবেশ, অসুস্থ মা এর সেবা যত্নের র ব্যস্ততার জন্য প্রথম বার সাফল্যের মুখ দেখেন নি আদুরে ইন্দু। দ্বীতিয় চেষ্টায় প্রবেশিকা উত্তীর্ণ হয়ে দেশ  বিদেশের বিভিন্ন অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতনেও বছর খানেক শিক্ষা গ্রহণ করে আবারও অসুস্থ মা র স্বাস্থ্য উদ্ধারে সাইবেরিয়া চলে যান। এইভাবেই শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডে ভর্তি হন, কিন্তু অসুস্থ মা র সেবা যত্নের জন্য আবারও শিক্ষা গ্রহণে চ্ছেদ। অসুস্থ মাকে নিয়ে বছর খানেক বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনে স্বামী রঙ্গনাথানন্দ  মহারাজের তত্বাবধানে কাটিয়ে ছেন।এই ছিলেন বাবা-মা র আদুরে ইন্দু - স্নেহ মায়া মমতায় পরিপূর্ণ এক স্নেহময়ী ভারতীয় নারী। সময় তাঁকে বদলে দিয়ে ইন্দু থেকে ইন্দিরা তে উন্নীত করে লৌহ মানবী ইন্দিরা গান্ধীতে রূপান্তরিত করে।
‎   ইন্দুর ইন্দিরা গান্ধী হওয়ার যাত্রা পথ রোমাঞ্চ কর - সিনেমাটিক। অকালে (৩৬ বছর) যক্কা (TB) তাঁর মাকে ছিনিয়ে নেয় ১৮ বছরের সৌদ্ধ যৌবনা  কিশোরী  ইন্দিরার সম্মুখ থেকে- সুইজারল্যান্ডে। বাবা জহরলাল নেহরু তখন দেশে। তার মাত্র ৫ (পাঁচ)বছর আগে দাদু মতিলাল নেহেরু ৬৯ বছর বয়েসে ১৯৩১ সনে দেহ রাখেন । স্নেহের সকল আধার হারিয়ে যৌবনে একাকিত্বের দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয়েছে লৌহ মানবী ইন্দিরাকে ।
‎ কারন,বাবা জহর লাল নেহেরু দেশের স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত প্রান,যাঁর দ্বিতীয় ঠিকানা ছিলো বৃটিশের জেলখানা। পিসিরাও দেশ উদ্ধারে ব্যস্ত। বাবা জেলের বাইরে থাকলেও দলীয় কাজ, স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য থাকতে হয়েছে বাড়ির বাইরে। মেয়ে ইন্দিরার দেখভালে চাকর বাকর ও আত্মীয় স্বজন। চিঠিই ছিলো বাবা মেয়ের একমাত্র যোগসূত্র। এই একাকীত্বের জীবনের ইতি পড়ে ১৯৪২ সনের মার্চ মাসে। ইন্দিরা তাঁর অক্সফোর্ডের পরিচিত বন্ধু জর থ্রুস্ট পন্থী পার্সিয়ান গুজরাটি ফিরোজ গ্যানদী খানের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ে হয় সম্পূর্ণ হিন্দু রীতি মেনে, অগ্নীকে স্বাক্ষী করে। জর থ্রুষ্ট পন্থীরাও অগ্নির উপাসক।
‎ এলো ১৯৪৭ সনের ১৫ ই আগষ্ট। বৃটিশ তার ইউনিয়ন জেক নামিয়ে চলে গেলো ব্রিটেনে, আকাশে উড়লো ভারতের বিজয় কেতন -সূর্য্য বীর্যের প্রতীক অশোক চক্র সুশোভিত ত্রীরঙ্গা। দেশ হলো স্বধীন। কংগ্রেস তথা মহাত্মা গান্ধীর ইচ্ছানুসারে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্বধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ভারত বর্ষের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন। শুরু হলো নতুন যাত্রা। ইন্দিরার জীবনেও উদিত হলো নতুন প্রভাত। প্রধান মন্ত্রী বাবার অঘোষিত আপ্ত সহায়ক। রুটিন করে ঘুম থেকে উঠা, বাবার সকল সরকারি কাজের তত্বাবধান করা। আমলা থেকে নেতা, মন্ত্রী সকলকে সামলাতে ব্যস্ত ইন্দিরা গান্ধী।বাদ জান না বিদেশী কূটনীতিকরাও। বড় ছেলে রাজীবের বয়স তখন সবে তিন এবং ছোট ছেলে সঞ্জয়ের মাত্র এক বছর। সকল কাজের ফাঁকে স্নেহময়ী মা এর ভূমিকাও সুচারু রুপে করতে হচ্ছে।
‎   আমি আগেই উল্লেখ করেছি এলহাবাদের আনন্দ ভবন ছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আড্ডা খানা। মহাত্মা গান্ধী থেকে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সেই বাড়ীতে ছিলো আনাগুনা। গুণী জনের স্পর্শে ইন্দিরাও গুণবতী হয়ে উঠেন। তাই প্রধানমন্ত্রী বাবার কাজ অনায়াসেই করতে পেরেছেন । প্রধান মন্ত্রী বাবার বিদেশ সফরেরও অন্যতম সঙ্গী ছিলেন তিনি। বাবাকে সময় দিতে গিয়ে জীবন সঙ্গীকে সেভাবে সময় দিতে পারেন নি।
‎  জহর নন্দিনী ইন্দিরা গান্ধীর A ICC  তে ছিল অবারিত দার। কংগ্রেসে তখনও সিন্ডিকেট পন্থী ও উদার পন্থী দুটি গ্রুপ ছিলো। কামরাজের উদ্যোগে দলের সকল সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট নিত। তাঁরা সকল কাজে বিশেষ করে সাংগঠনিক কাজে ইন্দিরার হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ইন্দিরাও তাঁদের সিদ্ধান্ত তেমন ভাবে মেনেনিতে পারতেন না। এই দ্বন্দ্বে ই ইন্দিরার AICC তে অনুপ্রবেশ।
‎    ১৯৫৯ সনে প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর তৎপরতায় AICC র সভাপতি পদ প্রাপ্তি। শুরু হয় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই।AICC র সভাপতি হয়েই  কেরলের নির্বাচিত কমরেড নাম্বুদ্রিপাদের কইউনিস্ট সরকার ভেঙ্গে দিয়ে লৌহ মানবী হওয়ার পথে পা বাড়ান । তখন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন "জয় জওয়ান, জয় কিষান" এর প্রবক্তা লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন ড: রাজেন্দ্র প্রসাদ।
‎  জহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সনে ইন্দিরা গান্ধী রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। লালবাহাদুর শাস্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পদে আসিন হলে ইন্দিরা গান্ধী কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর পর ১৯৬৬ সনে ইন্দিরা গান্ধী কংগ্রেস সংসদীয় পরিষদে লড়াই করে প্রধানমন্ত্রী পদে আসিন হন। কংগ্রেস সংসদীয় পরিষদে প্রধান মন্ত্রী পদের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট মোরারজি দেশাই কে প্রার্থী করছিলো। শুনা যায় সিন্ডিকেট পন্থীদের নেতা কামরাজ ইন্দিরাকে সমর্থন করায় মোরারজি দেশাই হেরে যান।
‎ শুরু হয় ইন্দিরা গান্ধীর নতুন জীবন।কংগ্রেসের সিন্ডিকেট বাদীদের প্রত্যাহ্বান মোকাবিলার লড়াই।১৯৬৭ সনের লোকসভর সাধারন নির্বচনে সিন্ডিকেটের মতের বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে দলের লাগাম নিজের হাতে তুলে নেন। দল ইন্দিরার নেতৃত্বে প্রথম নির্বাচনে অসাধারন সাফল্য লাভ করায় দল ও সরকার পরিচালনায় তাঁর হাত আরো শক্তি শালী হয়। তিনিও আরও কঠোর ভাবে দল ও সরকার পরিচালনা করতে লাগলেন।১৯৬৭ লোকসভার সাধারন নির্বচনের পর ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কামরাজের মত বিরোধ তুঙ্গে ওঠায় কামরাজ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (সাংগঠনিক) নামে নতুন দল তৈরি করে কংগ্রেস ত্যাগ করেন। দলটি কামরাজ কংগ্রেস নামে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করে। দলের নির্বাচনি প্রতীক "জুড়া বলদ"নিয়ে ইন্দিরার নেতৃত্বের কংগ্রেস ও কামরাজের  কংগ্রেসের মধ্যে আইনি লড়াইয়ে ইন্দিরা গান্ধী হেরে যান এবং তাঁর দলের প্রতীক "জুড়া বলদ" এর পরিবর্তে "গাই বাছুর" হয়। তখন অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামী , প্রবীন কংগ্রেস নেতাও ইন্দিরার সঙ্গ ত্যাগ করেন। দমার পাত্রী নন ইন্দিরা। তিনি নিজের মত করে দাবার গুটি সাজালেন।
‎     এরি মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতীক অশান্তি শুরু হয়ে গেছে। যে অশান্তি জন্ম দেবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক নামক নতুন রাষ্ট্রের।    
‎           এরই মধ্যে পাকিস্তানের সাধারন নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের তুখোড় ছাত্র নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের আওমীলীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হোয়া সত্বেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি তাঁকে সরকার গঠন করার সুযোগ নাদিয়ে জুলফিকার আলীর সংখ্যা লঘু পাকিস্তান পিপুল পার্টিকে সরকার গঠনে আমন্ত্রণ জানালে পূর্ব পাকিস্তানে জনমানসে প্রচণ্ড ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তাঁরা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে, শুরু হয় পাকিস্তানের কব্জা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির আন্দোলন।বাঙালির স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন।পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তি যুদ্ধ বিরোধী  একটি নাৎসী বাহিনী জামাত ইসলামের নেতৃত্বে গঠন করে- নাম রাজাকার বাহিনী। রাজাকর বাহিনী পাকিস্তানি সৈন্যদের মদতে স্বাধীনতকামি বাঙালির উপর শুরু করে পৈশাচিক অত্যাচার, বিশেষ করে হিন্দুদের উপর।বাংলাদেশে গঠন হয় মুক্তি বাহিনী। হিন্দু যুব সম্প্রদায় দলে দলে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেয়।বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে লক্ষাধিক বাঙালি বিশেষ করে হিন্দু প্রাণ হারিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ মা বোন ধর্ষিতা হয়েছেন-  রাজাকার ও পাকিস্তানি নরপিশাচ সৈন্যদের হাতে। এই ঘটনা ইন্দিরা গান্ধীর মমতা ময়ী মননে আঘাত দেয়। তিনি বর্ডার উন্মুক্ত করে নিপীড়িত, নির্যাতিত বাঙালিদের ভারতের মাটিতে আশ্রয় দেন। এক কোটি হিন্দু শরণার্থীকে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বিশেষ করে ত্রিপুরা, আসাম, পশ্চিম বঙ্গ, বিহারে শিবির গড়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশর মুক্তি বাহিনীকে সামরিক ও আর্থিক সাহায্য প্রকাশ্যে দিয়ে ছিলেন। তিনি তৎকালি আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নিক্সনকে অনরোধ করেছিলেন যে,আমেরিকা যেন পাকিস্তানকে নিরস্ত্র করে।আমেরিকা উত্তরে বলেছিল যে, তাঁরা পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না। ভারতকেও নক না গলাতে আমেরিকা কঠোর ভাষায় সতর্ক করে ছিল। ইন্দিরা গান্ধী আমেরিকাকে বলেছিলেন পাশের বাড়ীতে আগুন লাগলে সে আগুন নিভাতে ঝাঁপিয়ে পড়া প্রতিবেশীর কর্তব্য। ভারত মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে আছে থাকবে।পাকিস্তানের সংখ্যা লঘু হিন্দুদের কাছে এটা ভারতের জাতীয় প্রতিশ্রুতি ছিলো, ভারত তা পালন করবে।
‎   আমেরিকা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না বললেও তারা পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে ছিলো। ইন্দিরা গান্ধী তখন পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে আন্তরজাতিক সমর্থন আদায় করার জন্য প্রায় ৬৫ টি দেশ ভ্রমণ করেছিলেন এবং লোকসভার জনসংঘী সাংসদ মাননীয় অটল বিহারী বাজপেয়ি মহাশয়কে রাষ্ট্র সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান/ বাংলা দেশের মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে  ভারতের স্থিতির সমর্থনে ভাষণ দিতে পাঠিয়ে নজীর সৃষ্টি করেছিলেন। ক্ষুব্ধ আমেরিকা ভারত আক্রমণ করতে বোম্বে উপকূলে তাঁদের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ নৌবহর "সপ্তম নৌবহর " পাঠিয়েছিলো। ইন্দিরা গান্ধী তার পূর্বেই USSR (সংযুক্ত সোভিয়েত রাশিয়ার)সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি করে রেখেছিলেন। তিনি তাই রাশিয়ার সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠাতেই রাশিয়ার "অষ্টম নৌবহর" যেটি আমেরিকার নৌবহরের তুলনায় আরও অনেক বেশী শক্তি শালী ছিলো সেই নৌবহর বোম্বে উপকূলে নোঙর করিয়ে দেয়ায় আমেরিকার নৌবহর পালাতে বাধ্য হয়। আমেরিকা পিছু হটে। তের দিনের যুদ্ধে পাকিস্তানকে পর্যদুস্ত করে ভারতীয় সৈন্য বাহিনী পাকিস্তান কে দ্বিখণ্ডিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। ইন্দিরার ভারত জিতে যায় পরোক্ষ ভাবে নিক্সনের আমেরিকায় হেরে যায়।  যুদ্ধে পাকিস্তানের প্রায় এক লাখ সৈন্য তেলে গোবরে হয়ে ভারতের কাছে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আত্ম সমর্পণ করে। তখন ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল মানিক শাহ।
‎  সেই সময় ইন্দিরা গান্ধীর সাহস ও পরাক্রম দেখে লোকসভায় মাননীয় অটল বিহারী বাজপেয়ি তাঁর ভাষণে ইন্দিরা গান্ধী কে "মা দূর্গা" বলে সম্বোধন করে ছিলেন।
‎   বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে white House এ নিক্সনের রাঙা চোঁখে উপর দ্বিগুণ রাঙা চোঁখ দেখিয়ে গটগট করে বেরিয়ে এসেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। নিক্সনের হয়ে বিদেশ মন্ত্রী কিসিঞ্জার র পিছন থেকে বলেছিলেন ," মেডাম কাজটা ভালো হলো না।" নির্ভীক ইন্দিরা দেহের ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যা করছি ভালো করছি। বিশ্বময় সেদিন ইন্দিরার সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও কূটনৈতিক চালকে কুর্নিশ জানানোর সংবাদে সংবাদ পত্রের শিরনাম দখল করেছিলো।১৯৭১ সনের ২৬ সে মার্চ পৃথিবীর বুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বীরত্বে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দেশটি বাঙালির স্বাভিমান,বাঙালির আত্ম পরিচয়।
‎    বাঙালির সেই বাঙলাদেশ, ইন্দিরা সৃষ্ট বাংলাদেশ আবারো পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর দখলে - মদতে ট্রাম্প এর আমেরিকা। শাসনে জামাত ইসলাম, রাজকার দের পুতুল ইউনূস। হিন্দু সম্প্রদায় আবারো সে'দেশে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছে। তাঁদের কান্না শুনার জন্য আর একজন ইন্দিরা গান্ধী নেই। ভারত সরকারের স্নেহ মায়া মমতার দুয়ার তাঁদের জন্য রুদ্ধ। ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত শিল্ড।বাংলাদেশের হিন্দুদের চারদিকে " নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস।" রব উঠেছে " নেই নেই কেহ নেই কে দেবে বেঁচে থাকার আশ্বাস।"   বার বার ইন্দিরা গান্ধীর অভাব সকল মানবতাবাদী বিশেষ করে বাঙালিকে মন কষ্ট দিচ্ছে। ভারতের  হিন্দুত্ব বাদী মোদি সরকার নির্বাক। শুধু শেখ হাসিনা কে আশ্রয় দিয়েই তাঁরা ক্ষ্যান্ত ।
‎   বাংলাদেশ সৃষ্টির পর ইন্দিরা গান্ধীর জনপ্রিয়তা বিশ্বের তাব্বর তাব্বর নেতাদের জনপ্রিয়তাকে হারমানিয়ে স্নেহময়ী ইন্দিরা গান্ধীকে লৌহ মানবী ইন্দিরা গান্ধী বলে কূটনৈতিক মহলে পরিচিতি দিয়েছে। 
‎  ইন্দিরা গান্ধী মানে-সিদ্ধান্তে অটল,আপোষ হীন সংগ্রামী, পরাজয়েও হার  না মানা, পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে শত্রুপক্ষকে পুনঃ প্রত্যাহ্বান।
‎ ১৯৭২ সনের লোকসাভা নির্বচনে "গাই বাছুর" চিহ্ন নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে সকল বিরোধী পক্ষ কে কুপোকাত করে আবারো সরকার গঠন করে। এবারের শ্লোগান "গরিবী হটাও।"সরকার গড়েই তাই সংস্কারে মনোনিবেশ। প্রথমেই দেশের ১৭ টি বেঙ্ক জাতিয় করণ করে সাধারন মানুষের গচ্ছিত ধনরাশির নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে সেই ধন রাশি দেশের কাজে বিনিয়োগ। তখন বেঙ্ক ছিলো এক ধরেন চিটিং এজেন্সি। কয়েক দিন পর পর বেঙ্ক মালিক বেঙ্কে লালবাতি জ্বালিয়ে, গনেশ উল্টে জনগণের টাকা মেরে হাফিস হয়ে যেত। তাই বেঙ্ক জাতিয় করণ।
‎    দ্বীতিয়, রাজন্য ভাতা বিলোপ। দেশ স্বাধীনের আগে ভারত বর্ষ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের সমষ্টি ছিল। বৃটিশ সরকার ভাতা দিয়ে তাদের রাজ্য নিজের দখলে নিয়েছিলো। দেশ স্বাধীন হবার পরও রাজারা কোন কাজ নাকরে সেই ভাতা পেতেন। রাজন্য ভাতায় রাজ কোষ থেকে কোটি কোটি টাকা বের হয়ে যেত। সৌদ্ধ স্বাধীন দেশের উন্নয়ন সেই জন্য থমকে ছিলো।
‎  তৃতীয়, সামন্ত প্রথা বা জমিদারি প্রথা সম্পূর্ণ বিলোপ করার জন্য ভূমির ঊর্ধ সীমা নির্ধারণ করে ভূমি শিলিং আইন করে বাস্তবায়িত করতে আরম্ভ করেন। তখন হাজার হাজার একর জমি জমিদারদের হাতে থাকতো। কৃষকরা ছিলো তাঁদের রইয়ত।শিলিং বহির্ভূত মাটি ভূমিহীন কৃষক পরিবারের মধ্যে বিতরণ করে তিনি কৃষিতে আমূল পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন।
‎    ইন্দিরা গান্ধীর এইসব বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তে দেশর রাজন্য বর্গ, যাঁরা স্বেত হস্তি সম ছিলেন, সামন্ত প্রভু ও জমিদার গণ, বেঙ্ক মালিক গণ ক্ষেপে উঠে জায়গায় জায়গায় সরকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা করেন।
‎     উল্লিখিত সম্প্রদায়ের ক্ষোভ কে পঞ্জীভূত করে আজকের বিজেপি তৎকালীন জনসংঘ জল ঘোলা করতে শুরু করে।
‎  এতসব জন হিতকর কাজ করেও শুধু মাত্র জরুরী অবস্থা ঘোষনার জন্য তিনি নিন্দা ও বিতর্কের আবর্তে প্রবেশ করেন। 
‎   জরুরী অবস্থা ঘোষনার তাৎক্ষণিক কারন - ১৯৬৯ সনে ইন্দিরা গান্ধী রায় বেরেলি কেন্দ্র থেকে উপ নির্বাচনে জয়ী হয়ে লোক সভায় প্রবেশ করেন। পরাজিত হয়েছিলেন রাজ নারায়ন। পরাজিত প্রার্থী রাজ নারায়ন সরকারি যন্ত্রের অপ ব্যবহার করে ইন্দিরা গান্ধী লোক সভায় জয়ী হয়েছেন বলে এলহাবাদ হাই কোর্ট এ মামলা দায়ের করেন। রাজ নারায়নের পক্ষে উকিল ছিলেন শান্তি ভূষণ। মামলায় ইন্দিরা গান্ধীর পরাজয় হয়। তিনি সুপ্রীম কোর্ট আপিল করেন, সেখানেও তিনি হেরে জান। কোর্ট ছয় বছরের জন্যে তাঁকে নির্বচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ক্ষেত্রে প্রতি বন্দকতা জারি করে। কোর্ট জমিয়ে ছিলো ইন্দিরা গান্ধীর পরিবর্তে অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।
‎   সহজে হাল ছেড়ে দেবার পাত্রী নন ইন্দিরা। তিনি তাঁর আজ্ঞাবহ উপদেষ্টাদের উপদেশে ১৯৭৫  সনের ২৫ সে জুন জরুরী অবস্থা জারী করেন। তাঁর অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বাঘা ব্যারিস্টার সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়।
‎  জরুরী অবস্থা ঘোষণার অন্যান্য কারন - বাংলাদেশের যুদ্ধ, খরা,আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রো পণ্যের, (জ্বালানির) অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি জনিত কারনে দেশর আর্থিক মন্দার জন্য সৃষ্ট অভাব, দারিদ্রতা, বেকারত্ব, খাদ্য সংকট,নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশ চুম্বী মুল্য বৃদ্ধি।
‎  তাছাড়াও পূর্বে উল্লেখিত রাজা, সামন্ত জমিদার, বেঙ্ক মালিকদের বিদ্রোহ। দেশে দেখাদেয় অভূতপূর্ব অস্থিরতা। এই সময়ে বিহারের সমাজ বাদী নেতা জয়প্রকাশ নারায়নের নেতৃত্বে শুরু হয় " সম্পূর্ণ বিপ্লব" নামক আন্দোলন। সেই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রেল শ্রমিকরাও ধর্মঘটের ডাক দেয়।কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে শুরু হয় নাঙ্গল যার জমি তার আন্দোলন। শ্রেণী শত্রু খতমে নকশাল আন্দোলনও দুর্দমনীয় হচ্ছিল।
‎  জরুরী অবস্থার সময় মানুষের নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়। বিরোধী রাজনৈতীক নেতাদেরকে জেলে পুরে দেয় হয়। প্রায় একলক্ষ বিরোধী নেতাকে জেলেপুরা হযেছিল।এই সময়ই ইন্দিরা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ কিছু নেতার স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন। তখন ইন্দিরা তনয় সঞ্জয় গান্ধী ইন্দিরা গান্ধীর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিলেন।
‎      ১৯৭৭সনের মার্চ মাসে ইন্দিরা গান্ধী সাধারন নির্বাচন ঘোষনা করেন।নির্বাচনে জয় প্রকাশ নারায়নের নেতৃত্বে জনতা পার্টি নামে একটি নতুন খিচুড়ি রাজনৈতিক দল গঠন করে ইন্দিরা বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি। এই দলে বিলিন হয় অটল বিহারী বাজপেয়ির জন সংঘ, সমাজ বাদী পার্টি। বাবু জগজীবন রাম কংগ্রেস ত্যাগ করে কংগ্রেস ফর ডেমোক্রেসি গঠন করে জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন।CPI(M) এর নেতৃত্বে বাম ফ্রন্ট গঠন হয় এবং জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়।নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করে জনতা পার্টি ২৯৮ লোকসভার আসন দখল করে প্রথম বারের মত কংগ্রেসকে ক্ষমতা চ্যুত করে। কংগ্রেস পেয়েছিল ১৫৩ আসন। নির্বচনে রায় বেরেলী কেন্দ্রে ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হন।
‎    মোরারজি দেশাইর নেতৃত্বে প্রথম অকংগ্রেসী সরকার গঠন হয়। ইন্দিরা গান্ধীকে জেলে পাঠানো হয়।
‎ ইতিমধ্যে জনতা পার্টিতে আদর্শগত সংঘাত শুরু হয়। এবং১৯৮০ সনে জনতা পার্টির সরকারের সামগ্রিক পতন হয়। তার পূর্বেই ১৯৭৮ সনে কর্নাটকের চিকমাগলুর  লোক সভা সমষ্টির উপ নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচিত হয়ে হয়ে লোকসভায় সগৌরবে প্রবেশ করেন।
‎১৯৮০ সনে জনতা পার্টির সরকারের পতনের পর জনতা পার্টি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। অটল বিহারী ও লালকৃষ্ণ আদবানী র নেতৃত্বে বিজেপি দলের জন্ম হয়।
‎ প্রধানমন্ত্রী পদে ইন্দিরা গান্ধীর প্রত্যাবর্তন- ১৯৮০ লোকসভা নির্বাচনে ভারত বাসী পুনরায় ইন্দিরা গান্ধীর দল ইন্দিরা কংগ্রেসকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে কেন্দ্রের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। ইন্দিরা গান্ধীর এই সময়ের শাসন কালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অকংগ্রেসি সরকার হয় এবং বিচ্ছিন্নতা বাদী আন্দোলন শুরু হয়। বিচ্ছিন্নতা বাদের সাথে সমান তালে মাথা চড়া দেয় সন্ত্রাসবাদী কার্য্য কলাপ। পাঞ্জাবী বিচ্ছিন্নতা বাদী কট্টর সন্ত্রাসী ভিন্দ্রেওয়ালা অমৃতসরের শিখ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান তীর্থ স্বর্ণ মন্দির দখল করে নেয়। লৌহ মানবী ইন্দিরা গান্ধী বিচ্ছিন্নতা বাদের কোমর ভাঙতে স্বর্ণ মন্দিরে সামরিক অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ মন্দির সন্ত্রাস বাদীদের কব্জা থেকে উদ্ধার করার নির্দেশ দেন। সামরিক অভিযানে ভিন্দ্রেওয়ালার মৃত্যু হয়। স্বর্ণ মন্দির সন্ত্রাসবাদীদের কব্জা থেকে মুক্ত হয়। কিন্তু শিখ ধর্মাবলম্বীগণ স্বর্ণ মন্দিরে সামরিক অভিযানে ক্ষুব্ধ হন।
‎ এই অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই পাঞ্জাবী সন্ত্রাসবাদীরা ইন্দিরা গান্ধীর ব্যাক্তি গত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিং কে ব্যবহার করে।১৯৮৪ সনের ৩১, অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টায় বিয়ন্ত সিং এবং সতবন্ত সিং এর সার্ভিস রাইফেল AK 46 এর ধরসার গুলি বর্ষন করে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কে হত্যা করে। শহীদ হন ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী , তথাপি বিচ্ছিন্নতা বাদী, সন্ত্রাসী দের কাছে মাথা নত করেন নি। তিনি প্রকৃত বীরাঙ্গনা। তাইত জনগণ তাঁকে লৌহ মানবী বলে ভূষিত করছে। মরনোত্তর ইন্দিরা গান্ধী কে BBC ১৯৯৯ সনে  "সহস্রাব্দের শ্রেষ্ট নারী"র স্বীকৃতি দিয়েছে।২০১০ সনে অক্সফোর্ড বিশ্ব বিদ্যালয়  " Best among oxoasian"   সম্মানে সম্মানিত করেছে।"TIME MEGAZIN  ২০২০ "শতাব্দীর সেরা নারী"র স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
‎ তাঁকে আন্তরিক সশ্রদ্ধ প্রণাম। জয়তু প্রিয় দর্শিনি ইন্দিরা গান্ধী(। মতামত এর জন্য সম্পাদক দায়ী নয়)
‎ 
‎  
‎ 
‎   

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর