শিলং এর বিধানচন্দ্র রায়ের বাড়ি সার্কিট হাউস গুড়িযে দেওয়া হবে
শিলংয়ে বিধানচন্দ্র রায়ের বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত মেঘালয়ের
শিলং শহরে লাবানে কেনচেস ট্রেস এলাকায় অবস্থিত সার্কিট হাউস ভেঙে ফেলতে চলেছে রাজ্য সরকার। ওই বাড়ি ভাঙা হলে নাশ্চিহ্ন হবে বাড়ির সঙ্গে জড়িত বাঙালির বহু ইতিহাসও।
এখন যা সার্কিট হাউস নামে পরিচিত, আদতে তা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আধুনিক শিলংয়ের অন্যতম রূপকার বিধানচন্দ্র রায়ের বাড়ি। ১৮৮২ সালে বিহারের পটনায় জম্ম হয়ে বিধান রায়ের, তবে তাঁর পৈতৃক শিকড় বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। তাঁর বাবা প্রকাশচন্দ্র রায় শিলংয়ে ব্রক্ষ সমাজের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন এবং এই সূত্রেই রায় পরিবারের শিলংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।
১৯২০ সালে শিলংয়ে এসে বিধান রায় পাহাড় ও বনভূমি পরিবেষ্টিত শান্ত লাবান তা বিধান ভবন বা রায় ভিলা নামে পরিচিত ছিল। শিলং তখন ছিল অবিভক্ত অসমের রাজধানী। শুধু চিকিৎসাক্ষেত্রে নয়, উল্লেখযোগ্য ভুমিকা নিয়েছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। তিনি জলপ্রপাতে টারবাইন বসিয়ে তৈরি করেন শিলং হাইড্রোইলেকট্রনিক কোম্পানি, যা পরবর্তী কালে মেঘালয় বিদ্যুৎ বোর্ড নামে পরিচিত হয়। ১৯২৩ সালে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ময়ূরভঞ্জের মহারানি সুচারু দেবী।
শিলংয়ে ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলির সংরক্ষণ নিয়ে লড়াই চালানো মালবিকা বিশারদ জানান, ওই বছরই মে মাসে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলংরই মে মাসে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলংয়ে 'জিংভূমি' বাংলোয় থাকতে এসেছিলেন। তিনি বিধান ভবনেও যেতেন। সে বছর বিধান ভবনেই রবীন্দ্রনাথের জম্মদিনও উদযাপন করা হয়েছিল। ১৯২৯ সালের জুন মাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তৃতীয় বার শিলং সফরে এসে বিধান ভবনেই ছিলেন এবং এই বাড়ি থেকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের স্ত্রী বাসন্তী দেবীকে চিঠিও লিখেছিলেন। মালবিকার মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ভবনকে সংরক্ষণের বদলে ভেঙে ফেলা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। প্রয়োজনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ নিয়ে হস্তক্ষেপ করুক।
উল্লেখ্য, ঐতিহ্যবাহী তারাঘর ভেঙে নতুন স্টেট গেস্ট হাউস নির্মাণ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। সম্প্রতি শিলংয়ের মণিপুর রাজবাড়ি ভেঙে ফেলা নিয়ে চলছে প্রতিবাদ।
পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানান, বর্তমান সার্কিট হাউসটি ভেঙে নতুন কংক্রিটের বিল্ডিং গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও ভবনের কিছু অংশে এখনও পুরনো স্থাপত্যের ছাপ রয়েছে, কিন্তু দফায় দফায় সরকারি ব্যবস্থাপনা ও আধিকারিকদের থাকার সুবিধা জন্য সেখানকার ঘরগুলির গঠন ও নকশায় নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু জায়গায় চাহিদা বাড়তে থাকায় আর পুরনো আমলের সার্কিট হাউসটি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। (শিলং এর সমাজকর্মী,লেখিকা মালবিকা বিশারদ এর সৌজন্যে)
Comments
Post a Comment