প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরল প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন

কিংবদন্তি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কাছে একজন সাংবাদিক জানতে চাইলেন গায়িকাদের মধ্যে কার গলাটি তাঁর সবচেয়ে সুরেলা লাগে, তিনি এক ঝটকায় বলে দিলেন, ‘‘প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ বিম্মিত হয়েই তাঁর প্রশ্ন-  লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের চেয়ে আপনি প্রতিমাদিকে এগিয়ে রাখছেন! উত্তর শুনে নিশ্চিত সাংবাদিকটি  আর একবার স্তম্ভিত হয়েছেন! ‘‘প্রতিমার গানের কলি লতা নিজের বিশেষ সংগ্রহে রেখেছে। ওরা বলে, প্রতিমা মানুষই নয়। ও তো পাখি!’’
©  ধ্রুবতারাদের খোঁজে 

'একটা গান লিখো আমার জন্য,না হয় আমি তোমার কাছে ছিলেম অতি নগণ্য' অথবা 'বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই’  সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় দুটি বাংলা গান যার কণ্ঠে কালজয়ী হয়েছে তিনি প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। আটপৌরে চেহারা, কপালে টিপ, তাম্বুল রাঙা ঠোঁট, সাদামাঠা শাড়ির এই বঙ্গনারী সঙ্গীতের জগতে এক অনন্যা। প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্ল প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বলেন- উনি যে কী বিরাট শিল্পী ছিলেন, নিজেই জানতেন না। সেই সময়ে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে যান, জনতা কাকুতি-মিনতি করে প্রথমেই ‘বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ' গানটি গাইবার জন্য। সে গানে বাজাতে গিয়ে সহযন্ত্রীরা স্পষ্ট নিজের হৃদ্স্পন্দন শুনতে পেতেন। শ্রোতৃকুলের মন চুঁইয়ে পড়ত বেদনার অশ্রুতে।

অকালে বাবাকে হারিয়েছেন,অনটনও নেমে এসেছিল পরিবারে। কিন্তু জননী কিছুতে ভেসে যেতে দিলেন না সংসার। তাঁরই চেষ্টায়, উৎসাহে কণ্ঠে তুলে নিলেন একরত্তি প্রতিমা। রোজকার খরচ থেকে বিন্দু বিন্দু করে টাকা বাঁচিয়ে তিনি মেয়েকে একটি হারমোনিয়ামও কিনে দিলেন মা জননী। গুণবতী কমলা প্রথম দিকে নিজেই মেয়েকে গান শেখাতেন। পরে তাকে নিয়ে গেলেন প্রকাশকালী ঘোষালের কাছে। খুকির কচি গলার দু’কলি শুনে দারুণ খুশি প্রকাশকালী। বললেন, ‘গান এর রক্তে!’ এরপর  ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গানের তালিম। শৈশবে ছুটিতে এক বার ঢাকায় আত্মীয়বাড়ি গিয়েছেন, আশপাশের লোকজন তাঁর গান শুনে তাজ্জব। এক গুণগ্রাহী ঢাকা রেডিয়োয় যোগাযোগ করিয়ে দিলেন। সেখানে শিশুবিভাগে গাইবার পরপরই ডাক এল কলকাতা বেতার থেকে। মাত্র এগারো বছর বয়সে ১৯৪৫-এ সেনোলা থেকে প্রথম রেকর্ড বেরিয়ে গেল ‘কুমারী প্রতিমা চ্যাটার্জী’ নামে। 
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 

অবশ্যই প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল পিনাকী মুখোপাধ্যায়ের ‘ঢুলি’ ছবিটি। ১৯৫৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঢুলি’ ছিল তখনকার দিনের মাল্টিস্টারার, মিউজ়িক্যালি হিট ছায়াছবি। ছবি বিশ্বাস, সুচিত্রা সেন, অনিল চট্টোপাধ্যায়, মালা সিনহার অভিনয়ে ঋদ্ধ এই ছবিটি ‘পথের পাঁচালী’রও আগে বাঙালি গ্রামের নিসর্গ ও জীবনযাত্রাকে নায়কের আসনে বসিয়েছিল। সেই ছবির টিকিট কাটতে যে দীর্ঘ লাইন পড়ত, তারই দর্শক মোহাবিষ্টের মতো সিনেমাশেষে বেরিয়ে আসতেন রাজেন সরকারের সুরে অনবদ্য গানগুলি গাইতে গাইতে। ‘ঢুলি’র রেকর্ড বিকিয়েছিল মুড়ি-মুড়কির মতো। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, যূথিকা রায়ের মতো বাঘা শিল্পীর পাশে সেখানে চমকে দিয়েছেন প্রতিমা। তারপরের ইতিহাস আমাদের সবার জানা।

সঙ্গীতের জগতে বহুমুখী প্রতিভার নাম প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভক্তিরসাত্মক গান থেকে অতুলপ্রসাদী, নজরুলগীতি, লোকায়ত গান, আধুনিক রম্যগীতি সবেতেই তিনি মুক্তো ছড়িয়েছেন। আমন্ত্রণেও বিদেশে গিয়ে গাইলেন না। ‘‘বললেন, প্লেনে উঠতে বড় ভয়। আর ওখানে পান পাওয়া যায় না। রয়্যালটি বাবদ কত টাকা পাবেন, মনে রাখতেন না। সহজ সরল মনের মানুষ ছিলেন। 
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 

#PratimaBandopadhyay
#playbacksinger
#musical 
#HemantKumar 
#legendary
#tribute 
#dhrubotaraderkhonje 

তথ্যঋণ,আনন্দবাজার পত্রিকা,চিরশ্রী মজুমদারের প্রতিবেদন

Immage courtesy - Anandabazar Patrika

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর