জুবিন গর্গ ছিলেন জাত ধর্মের উর্দ্ধে তার সুস্মৃতি রক্ষায় সংহতি সভা

*জাত-ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্খার প্রতিভূ আসামের প্রয়াত মহান শিল্পী ও গায়ক জুবিন গার্গের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছিল গত ১৯সেপ্টেম্বর।* 

*আসুন, আগামী ১৮ই অক্টোবর সমবেত হই তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঐক্যের ও সংহতির আওয়াজকে দৃঢ় করতে।* 

**জুবিন গর্গের আসামে জাতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা নয়**

**সব ধরনের বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তুলুন**

স্থান- গোলদিঘি মল, শিলচর 
সময়- দুপুর ১২টা 
তারিখ- ১৮ অক্টোবর ২০২৫

আসামের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও চিত্রপরিচালক জুবিন গর্গ তাঁর সমস্ত জীবনব্যাপী কর্মকাণ্ডে মানুষে-মানুষে ঐক্যের সেতু তৈরি করে গেছেন। সাধারণ জনগণের জন্য নিবেদিত প্রাণ এই সংগীত শিল্পী সবরকম  শোষণ, নিপীড়ন, বিদ্বেষ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরে প্রতিবাদ করে গেছেন। তাঁর এই আদর্শকে পাথেয় করে আসুন আমরা ঐক্য ও সংহতির জন্য মিলিত হই। এটাই হবে এই জনদরদী শিল্পীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আসাম রাজ্যে বর্তমান সময়ে জাতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভারতীয় নাগরিকদের ধর্ম, জাতি ও অন্যান্য পরিচয়ের ভিত্তিতে  বিভক্ত করে অত্যাচার ও নিপীড়ন চলছে। রাজ্য জুড়ে চলছে উচ্ছেদ অভিযান। দরিদ্র গৃহহীন মানুষ খোলা আকাশের নীচে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ঘরদোর, প্রার্থনার স্থানও রক্ষা পায়নি।  তার সাথে চলছে পুশব্যাক। রাজ্যের বৈধ নাগরিকদের রাতের অন্ধকারে পার্শ্ববর্তী দেশে বেআইনি ও অমানবিক ভাবে  ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যের ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘুদের  "অনুপ্রবেশকারী", "বাংলাদেশি", "রোহিঙ্গা" ও "অচেনা মানুষ" হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে । এসবের মাধ্যমে রাজ্যের বৈধ  নাগরিকদের ভারতের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। জনগণের ঐক্যই এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও জাতি বিদ্বেষ প্রতিহত করতে পারে।

আমাদের দাবি-

১. জুবিন গর্গের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে হবে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সাব‍্যস্ত করতে হবে।
২. ⁠রাজ্যজুড়ে বেআইনি উচ্ছেদ অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। 
৩. ⁠ভারতের বৈধ নাগরিকদের রাতের অন্ধকারে পুশব্যাক বন্ধ করতে হবে। 
৪. ⁠রাজ্যের ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর শব্দ প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে ও সহ নাগরিক হিসেবে পূর্ব নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রদান করতে হবে। 

জনগণের ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করতে সর্বস্তরের জনসাধারণকে এই কর্মসূচিতে যোগদান করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আহ্বায়ক 

বরাক ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিস (৯১২৭৭৫৪৫৬৪)।
ফরাম ফর সোশ্যাল হারমনি (৬৯০০৪৩১৩২৫)।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর