জুবিন এর মৃত্যু। তুরুপের তাস

জুবিনের মৃত্যু কান্ড হতে পারে  ২৬ এর ভোটে তুরুপের তাস
প্রদীপ দত্ত রায় 
সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনীতি। শাসক এবং বিরোধী পক্ষ এই মৃত্যুর ঘটনাকে নিজেদের মতো করে কাজে লাগানোর জন্য ইতিমধ্যে ময়দানে নেমে পড়েছে। অসমে শাসক বিজেপি দল। আবার এই দলের এই রাজ্য সভাপতি দিলীপসইকিয়া বলেছেন তার দল জুবিনের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন নিয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। বিষয়টা এখানে যথেষ্ট গোলমেলে লাগে। নিজের দলের বিরুদ্ধে এই চাপ সৃষ্টির প্রশ্নটি কোথা থেকে আসে? কারণ রাজ্য সরকার তো মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। পুলিশ বিভাগের এই দলটি বহু কাট খড় পুড়িয়ে জুবনের মৃত্যু স্থল সিঙ্গাপুরের সেই জায়গায় গিয়ে সিঙ্গাপুর পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তাও বলে এসেছে। এখানেও অভিযুক্ত শ্যামকানু মহন্ত সহ অন্যান্যদের আটক করেছে এবং অনেক মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এরপরও শাসকদলের পক্ষ থেকে জুবিনের সুবিচার চেয়ে জনসমাবেশ করা এবং আমরা জুবিনের পক্ষে প্রচার চালানো পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করছে তা কারো বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। দলের কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল গান্ধী স্বয়ং জুবিনের বাড়িতে এসেছেন সহানুভূতি জানাতে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গোগৈ দলের ভিতকে মজবুত করতে রাহুলকে ডেকে এনে জুবিন অনুরাগীদের মধ্যে দলের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বামপন্থী এবং আঞ্চলিক দলগুলো জুবিনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি আমজনতার সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় উঠে পড়ে লেগেছে। সংবাদ মাধ্যমে তাদের বক্তব্যগুলি এমন অভিপ্রায় কে প্রতীয়মান  করায়। যদিও শাসক দলের পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে মৃত্যুর ঘটনা বিচার ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে করা এবং তদন্তের কাজ দ্রুত করার দাবিতে জনসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। আর এই জন সমাবেশে প্রকৃত জুবিন অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করছেন। ওদের বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া বলেছেন জুবিনের সুবিচার চেয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে তার দল। আবার তিনি বলেছেন ন্যায় সরকার দেয় না এটা আদালত দেয়। কাজেই আদালতের কাজ যাতে দ্রুত হয় সেজন্যই তাদের এই জনসমাবেশ ডাকা। জুবিনের জন্য ন্যায়ের দাবিতে যে সমাবেশ ডাকা হচ্ছে এতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা , রাজ্যের মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়া , পীযুষ হাজরিকা , চন্দ্র মোহন পাটোয়ারী সহ বিধায়করা অংশ নিচ্ছেন।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর