শিলচর কলকাতা রুটে আরো বিমান বাতিল হওয়ার পথে
, নায়া ঠাহর ,সংবাদদাতা শিলচর
এয়ার ইন্ডিয়ার পর এবার বন্ধ হতে চলেছে এ্যলায়েন্স এয়ারলাইন্সের কোলকাতা শিলচর ইম্ফল পথের বিমান পরিষেবা - এভাবে অবহেলা চলতে থাকলে একদিন বরাকেও পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে - বিডিএফ।
শিলচর কোলকাতা আকাশপথে এয়ার ইন্ডিয়ার ঐতিহ্যবাহী দীর্ঘকালীন বিমান পরিষেবা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আবেদন নিবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। এবার আগামী ২৬ শে অক্টোবর থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে কোলকাতা শিলচর ইম্ফল পথের এ্যলায়েন্স এয়ারলাইন্সের বিমান পরিষেবা। এমনি এদিন সরব হল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য এদিন বলেন যে গৌহাটি,ডিব্রুগড় ইত্যাদি শহরে যেখানে বিমান পরিষেবার সংখ্যা বাড়ছে সেখানে শিলচরে একের পর এক পরিষেবা বন্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন এয়ার ইন্ডিয়ার পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় এমনিতেই অসুবিধা ভোগ করছেন স্থানীয় বিমান যাত্রীরা। এবার এ্যলায়েন্স এয়ারলাইন্সের কোলকাতা শিলচর ইম্ফল পথের পরিষেবাও যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে পরিস্থিতি আরো জটিল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন সেইক্ষেত্রে একমাত্র ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের পরিষেবা চালু থাকবে। এবং একাধিপত্যের জন্য হয়তো তাঁরা আবারো বিমান ভাড়া বাড়িয়ে দশ/ পনের হাজার টাকা করবেন, যা গুনতে হবে সাধারণ বিমানযাত্রীদের।
জয়দীপ বলেন যে এ্যলায়েন্স এয়ারলাইন্সের এই পরিষেবা কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকিতে চলত। এই ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এই পরিষেবা বন্ধের কারণ বলে জানা গেছে। তিনি বলেন এই পরিষেবা বন্ধ হলে মনিপুর এবং বরাক উপত্যকার মানুষ বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হবেন। ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের চাকুরী জীবি তথা মুমুর্ষ রোগীর যাতায়াত কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই কেন্দ্রীয় ভর্তুকি না পেলেও উভয় রাজ্য সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে এই পরিষেবা চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন এই ব্যাপারে স্থানীয় বিধায়ক বা সাংসদরা এখনো নির্বিকার। অবিলম্বে তাদের এনিয়ে সোচ্চার হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জয়দীপ এদিন আরো বলেন যে উড়াল সেতুর ব্যাপারে সরকারি বরাদ্দ ধার্য্য হলেও প্রকৃত কাজ কবে শুরু ও শেষ হবে তা সময়ই বলবে। তিনি বলেন যে তারাপুরের সিঙ্কিং জোনের কাজ এখনো ঝুলন্ত। যে গ্রীনফিল্ড এয়ারপোর্টের জন্য ৩০ লক্ষ চারা গাছ উপড়ে ফেলা হল, শ্রমিকদের উচ্ছেদ করা হল ,সে বিষয়ে কোন অগ্রগতি নেই। পাঁচ গ্রামের পরিত্যক্ত জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। উপত্যকার ব্যাপক বেকার সমস্যা সমাধানেরও কোন উদ্যোগ নেই। জয়দীপ বলেন অরুণোদয় প্রকল্পের ১২০০ টাকা মাসিক ভাতা দিয়ে হয়তো ভোট কেনা যেতে পারে, কিন্তু তাঁতে প্রকৃত সমস্যা থেকে কোন উত্তরণ হবে না, কোন সম্পদও সৃষ্টি হবে না। তিনি বলেন এভাবে অবহেলা,বৈষম্য চলতে থাকলে হয়তো একদিন বরাকেও যুবসমাজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে।
বিডিএফ এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক দেবায়ন দেব এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।
Comments
Post a Comment