নেতাজি ,লালবাহাদুর শাস্ত্রী ,অজানা সাধু ,কেন পোস্টমর্টেম হল না? সবই রহস্যে ঘেরা

১৯৬৪ সালের জুন মাস | মাত্র ৫ ফুট উচ্চতার এক ব্যক্তি ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছিলেন | নাম লাল বাহাদুর শাস্ত্রী | শপথ গ্রহণ করার পরের দিনই প্রেস কনফারেন্স স্থগিত রেখে কয়েকদিনের জন্যে নিরুদ্দেশ হয়ে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী | পরে জানা যায় কংগ্রেস নেতা অতুল্য ঘোষের সঙ্গে তিনি রাতের অন্ধকারে সেদিন গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটার সন্নিকটে শৌলমারী আশ্রমে | প্রধানমন্ত্রী হয়ে শপথ গ্রহণের পরের দিনই দিল্লি থেকে হঠাৎ শৌলমারী কেন ছুটে এসেছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ? কি এমন জরুরি দরকার হল যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আলিপুরদুয়ারের এক অখ্যাত গ্রামে ছুটে আসতে হয়েছিল ? তিনি কি এমন কিছু জানতেন যা অনেকেই জানত না! 

শৌলমারী আশ্রমের প্রকৃত (ডামি নয়) সারদানন্দজী মহারাজ লাল বাহাদুর শাস্ত্রী-র আগমনের কথা জানতে পেরেছিলেন | সারদানন্দজী মহারাজ তাঁর খুব কাছের শিষ্যদের বলেছিলেন, রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে আমি কারও সাথে দেখা করি না | কে ছিলেন এই প্রকৃত (ডামি নয়) সারদানন্দজী মহারাজ ? লাল বাহাদুর শাস্ত্রী কি বুঝতে পেরেছিলেন সারদানন্দজী মহারাজের প্রকৃত পরিচয় ? প্রশ্ন অনেক, উত্তর হয়ত জানা কিংবা অজানা..

১৯৬৬ সালের জানুয়ারি মাস | ১০ তারিখ | সোভিয়েত রাশিয়ায় তাসখন্দ চুক্তি সাক্ষর করলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী | তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আয়ুব খান-ও সাক্ষর করেন সেই চুক্তিতে | তারপর ছবিও তুললেন সকলের সঙ্গে | সেই ছবিতে দেখা যায় পিছনের দিকে দাঁড়িয়ে আছেন এক ব্যক্তি | চোখে চশমা | মুখে হাসি | তাসখন্দ ম্যান | না ওনার প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়নি | উনি তখন তথাকথিত "সাংবাদিক" | প্রশ্ন জাগে যেখানে বিশ্বের তাবড় তাবড় নেতা রয়েছেন, সেই একই জায়গায় এক নাম পরিচয়হীন মানুষ কি ভাবে উপস্থিত থাকতে পারে ? লাল বাহাদুর কি জানতেন সেই সাংবাদিকের আসল পরিচয় ! প্রশ্ন অনেক, উত্তর হয়ত জানা কিংবা অজানা |

১১ তারিখ | ঠিক পরের দিন | সেই দিন রাত ১১:৩০ নাগাদ এক গ্লাস দুধ চেয়েছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। সেই সময় তাঁর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন রাশিয়ার প্রতিনিধিরা। রাত ১:২৫ থেকেই শুরু হয় আচমকা অসুস্থতা | সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের ঘরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী | শোনা যায়, মৃত্যুকালে 'রাম' শব্দটি আলতো স্বরে উচ্চারণ করেছিলেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। তিনিই এখনও পর্যন্ত ভারতের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি বিদেশে মারা গিয়েছিলেন | সরকারি ভাবে জানানো হয় তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। কিন্তু সত্যিই কি তাই..!

শাস্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত তৎক্ষণাৎ দাবি করা হলেও পরিবারের সেই ডাকে সাড়া দেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গুলজারিলাল নন্দা। সরকার সূত্রে জানানো হয়, তাসখন্দে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর। অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরেও কেন ময়নাতদন্ত হল না লালবাহাদুর শাস্ত্রী-র | তিনি তো তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী | একজন প্রধানমন্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ময়নাতদন্ত হবে না..🌿

মৃত্যুর ঘণ্টাখানেক আগেই তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় লালবাহাদুরের নাতি সঞ্জয়নাথ সিং-এর। সেই সময়ে নয় বছরের বালক সঞ্জয় জানিয়েছিলেন যে, লাল বাহাদুর দেশে ফিরে কোনও গোপন কথা সবাইকে জানিয়ে দেবেন বলেছিলেন। কি গোপন কথা জানতে পেরেছিলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ? আর জানতে পেরেছিলেন বলেই কি তাঁকে সরিয়ে দিতে হল ? প্রশ্ন অনেক, উত্তর হয়ত জানা কিংবা অজানা |

লালবাহাদুর পুত্র অনিল শাস্ত্রী কয়েক বছর আগেও সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবার দেহ যখন দিল্লি বিমানবন্দরে নামানো হয় তখন গোটা শরীরটা নীল হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। লালবাহাদুরের মুখটা পর্যন্ত নীল হয়ে গিয়েছিল। কপালের দু’পাশে স্পষ্ট সাদা ছোপও দেখেছিলেন অনিল। তাঁর মা ললিতাদেবী নাকি তখনই বলেছিলেন, এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।

কেন স্বাভাবিক নয়..? 

অনিলের দাবি ছিল, তাঁর বাবা নিয়মিত ডায়েরি লিখতেন। সেখানে অনেক খুঁটিনাটি কথা লেখা থাকত। কিন্তু লালবাহাদুরের মৃত্যুর পর থেকে ওই ডায়েরিরও কোনও হদিশ মেলেনি। যেমন খোঁজ পাওয়া যায়নি তাঁর সঙ্গে যে ফ্লাস্কটি ছিল সেটিরও। হতে পারে সেখানেই এমন কিছু মেশানো হয়েছিল যার জেরে লালবাহাদুরের মৃত্যু হয়। লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং সচিবও দুর্ঘটনার শিকার হন। দুইজনেরই দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু হয়। ওই দু’জনকেও তদন্ত কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দিতে হয়েছিল। দু’-দু’বার এমন সমাপতন খুবই আশ্চর্যজনক বলে মত দিয়েছিলেন অনিল।

ওই ঘটনার পর তাসখন্দের হোটেলে লালবাহাদুরের যে খানসামা ছিল, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনিও ছাড়া পেয়ে যান। পরে অনিলের মা তাসখন্দে গিয়ে সেই খানসামার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁকে নাকি জানানো হয়, ওই খানসামাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হোটেলে লালবাহাদুর যে ঘরে ছিলেন, সেই ঘরে তাঁর খাটের পাশেই একটা ছোট্ট টেবিলে সেই রাতে রাখা ছিল একটা থার্মোফ্লাস্কও। অনিলের কথায়, ‘‘বাবার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার আর এন চুঘ রাতে বাবাকে দেখতে গিয়ে টেবিলে ওই থার্মোফ্লাস্কটি দেখেছিলেন। বাবার রাতে গরম দুধ খেয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস ছিল। হয়তো সেই জন্যই ওই থার্মোফ্লাস্কটি রাখা হয়েছিল। কিন্তু, ওই থার্মোফ্লাস্কটিরও আর হদিশ পাওয়া যায়নি। তাই, ওই থার্মোফ্লাস্কে দুধই ছিল নাকি অন্য কিছু, এখনও পর্যন্ত আমরা তা জানতে পারিনি। আমার তো মনে হয়, বাবার মৃত্যু-রহস্যের কারণ লুকিয়ে রয়েছে ওই থার্মোফ্লাস্কেই!’’

প্রকৃত (ডামি নয়) সারদানন্দজী মহারাজ | তাসখন্দ ম্যান | দুই ক্ষেত্রেই কমন লিংক লাল বাহাদুর শাস্ত্রী |  তাহলে কি লাল বাহাদুর শাস্ত্রী চিনতে পেরেছিলেন তাদের আসল পরিচয় ? আর সেই চিনতে পারার জন্যেই কি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল লাল বাহাদুর শাস্ত্রী-কে ? প্রশ্ন অনেক, কিন্তু উত্তর হয়ত জানা কিংবা অজানা

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর