দিল্লিতে ইনট্যাক এর জাতীয় ১৭ তম কর্মশালা সম্পূর্ণ
*জাতীয় স্তরের ১৭ তম কর্মশালা শেষ হলো* :-
রাজধানী শহর দিল্লির লোদী রোডে অবস্থিত ইনটাক এর হেড অফিসে গত ৬ ই অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চারদিন ব্যাপী জাতীয় স্তরের ওয়ার্কশপ গতকাল ০৯ ই অক্টোবর অত্যন্ত সফল ভাবে সুসম্পন্ন হয়েছে ।
সারা ভারতবর্ষ থেকে প্রায় কুড়ি টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে পুরুষ মহিলা মিলিয়ে ৫৬ জন প্রতিনিধি এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। যারমধ্যে ছিল ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৯ জন মহিলা প্রতিনিধি। চারদিন ধরে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব, স্থাপত্য শিল্প, বস্তু শিল্প, প্রকৃতি, হেরিটেজ তকমা ভুক্ত জিনিসের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেগুলো কে খুঁজে বের করে তালিকাভুক্ত করা এটাই ছিল এই ওয়ার্কশপের মূল উদ্দেশ্য।
১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধীর হাত ধরে দিল্লি তে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ গঠণ হয় । তারপর থেকে তাদের কাজের বিস্তারের জন্য সারাদেশ ব্যাপি এখনো পর্যন্ত ২৪৫ টি শাখা তৈরী হয়েছে । এক একটি শাখা কে চ্যাপ্টার বলে । চ্যাপ্টারের মূল দায়িত্বে থাকেন থাকেন কনভেনর । কনভেনর মহাশয় এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় এমন আগ্রহী ব্যক্তি খুঁজে বের করে হেড অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে সদস্য পদ দেন । সদস্য আবার নানা ধরনের হয় যেমন লাইফ মেম্বার,অ্যাসোসিয়েট ইন্ডিভিজুয়াল মেম্বার ইত্যাদি। পশ্চিম বঙ্গে এখনো পর্যন্ত ছয়টি চ্যাপ্টার গঠণ করা হয়েছে । তারমধ্যে থেকে মুর্শিদাবাদ চ্যাপ্টারের দুজন পুরুষ সদস্য ও হুগলি চ্যাপ্টার থেকে একজন মহিলা সদস্য মোট তিন জন অংশগ্রহণ করেছিলেন।
অংশগ্রহণ কারি প্রতিনিধি বা সদস্য দের থ্রি স্টার হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং যাতায়াত বাবদ ভাড়াও দেওয়া হয়েছে । হোটেলের ডাইনিং রুমে তৃতীয় সন্ধ্যায় ইনটাক এর চেয়ারম্যান মহাশয়ের সঙ্গে সকলে নৈশভোজে সারেন এবং তার আগে চেয়ারম্যান মহাশয়ের অনুরোধে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য ঘরোয়াভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয় । সেখানে যে যাঁর রাজ্যের সংস্কৃতি তুলে ধরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন । মুর্শিদাবাদ চ্যাপ্টারের সদস্য সঞ্জয় কুমার মিশ্র মহাশয় বাংলা ভাষায় রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে সকল কে অভিভূত করে দেন । অন্য দুই প্রতিনিধির মধ্যে ডঃ জয়দেব বিশ্বাস মহাশয় বাংলা ভাষায় একটি কবিতা পাঠ করেন এবং তার ইংরেজি তর্জমাও করে দেন । হুগলি চ্যাপ্টারের ঐশী বিশ্বাস পুরনো দিনের হিন্দি গান গেয়ে সকল কে তাকে লাগিয়ে দেন ।
ওয়ার্কশপের শেষ দিনে যোগদান কারি সদস্য রা গত তিনদিন ধরে যে সমস্ত জিনিস শিখেছেন সেগুলো ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সামনে সুন্দর ভাবে তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন । সব শেষে প্রত্যেকের হাতে একটি করে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
ভোজন পর্ব শেষে বিদায় বেলায় সকলের মনে বিষাদের সুর । ইনটাক এর উদ্যোগে গত চারদিন ধরে চলা ওয়ার্কশপ যেন সত্যিই মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল এবং মনে পড়ছিল অতুলপ্রসাদ সেন মহাশয়ের কবিতার সেই লাইন - নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান ।
Comments
Post a Comment