বিজেপি পুজো উপহার
হোজাইয়ের বিজেপি কর্মীদের পুজোর উপহার : অনৈতিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা তহবিল থেকে চেক বিতরণ বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষের: তীব্র প্রতিক্রযা বিরোধী দলপতি দেবব্রত শইকীয়া'র ৷৷
--------------------------------------------
বিশেষ সংবাদদাতা, হোজাই, ৭ অক্টোবর : গরিব, অসহায়, দুর্দশাগ্রস্ত বা চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন এমন দরিদ্র ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ মুখ্যমন্ত্রী'র স্বাক্ষর সম্বলিত 'মুখ্যমন্ত্রী'র ত্রান তহবিল' ( সিএম রিলিফ ফান্ড) এর সরকারী কোষাগারের অর্থ হোজাই বিজেপি'র দলের পদাধীকারীদের মধ্যে বিতরন করে দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি'র উপরই প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিলেন স্বয়ং বিজেপি দলেরই হোজাইর বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষ ৷ বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে দলকে প্রায়ই বিপাকে ফেলে দেওয়া হোজাইর বিজেপি বিধায়কের এহেন কর্মকাণ্ডে স্তম্ভিত হোজাইর সচেতন মহল ৷ সদ্য অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া দুর্গাপূজার ঠিক আগে হোজাই জেলার বিজেপির মণ্ডল ও বুথ স্তরের মোট ৩৮৮ জন পদাধীকারি কর্মীকে বিশেষ দুর্গাপূজার উপহার হিসেবে ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকার 'চেক' ( মুখ্যমন্ত্রী স্বাক্ষর করা) বিতরণ করলেন হোজাইয়ের বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষ। তবে এই চেক বিতরণ ঘিরে হোজাই সহ সমগ্র রাজ্য জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। কারণ এই অর্থ এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা বা ত্রান তহবিল (সিএম রিলিফ ফান্ড- সিএমআরএফ) থেকে —যে সরকারি তহবিল মূলত গরিব,অসহায়, দুর্দশাগ্রস্ত বা চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ থাকে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে হোজাইর বিজেপি বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষ দ্বারা বিজেপি কর্মীদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী'র স্বাক্ষর সম্বলিত ত্রান তহবিলের 'চেক' বিতরণের এই ‘বাম্পার অফার’ গ্রহন করে এখন বিপাকে পড়েছেন অধিকাংশ তথাকথিত 'হিতাধীকারী' বা অনুগত দলীয় কর্মীরা।দলীয় মণ্ডল ও বুথ স্তরের প্রতিটি কর্মীকে ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলের চেক দেওয়া হয়েছে। মোট ৩৮৮ জন বিজেপি কর্মী এই ‘বিশেষ পুজোর উপহার’পেয়েছেন।
এই বিতরণ কার্যক্রমে একাধিক প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল। মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা তহবিল থেকে দেওয়া অর্থ যদি এই কর্মীদের দেওয়া হয়, তবে কি ধরে নেওয়া হবে এঁরা বা হোজাই বিজেপি'র প্রত্যেকজন (৩৮৮ জন)মণ্ডল ও বুথ স্তরের সভাপতি প্রত্যেকেই দুঃস্থ, অসহায়,বন্যাক্রান্ত,
রোগাক্রান্ত অথবা চিকিৎসার খরচ বহনে অক্ষম রোগী? প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলের টাকা কীভাবে দলীয় কর্মীদের বিতরণ করা হলো? বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষ দ্বারা মুখ্যমন্ত্রী'র সরকারি ত্রান তহবিলের 'চেক'বিতরণে কী মুখ্যমন্ত্রী'র সায় বা সমর্থন আছে? এমন অনেক প্রশ্ন হোজাইর সচেতন মহলে কাং পাতলেই শোনা যাচ্ছে এবং এই এই নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হয়েছে ৷ রাজ্য জুড়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করা অত্যন্ত অনৈতিক এই কান্ড সম্পর্কে বিধানসভার বিরোধী দলপতি দেবব্রত শইকীয়া'র মতামত জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদক জানান যে,বিগত চার বচোরের কার্যকালে তিনি (দেবব্রত শইকীয়া) তার বিধানসভা কেন্দ্রের (নাজিরা) দু:স্থ রোগীদের জন্য সাহায্য চেয়েও একটি 'কানাকড়ি'ও মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি ত্রান তহবিল থেকে পান নি ৷ আরটিই করেও উত্তর পান নি ৷হোজাইর বিজেপি বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষ কী করে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি ত্রান তহবিলের অর্থ বা মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা 'চেক' দু:স্থ,অসহায় এবং বিপদাপন্ন রোগীদের মধ্যে বিতরন না করে দুর্গপুজার আগে শুধুমাত্র ৩৮৮ জন দলীয় পদাধীকারি কর্মীদের মধ্যে নিজের সম্পত্তি ভেবে বিলিয়ে দিলেন সেই নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে বিরোধী দলপতি আরও বলেন,মুখ্যমন্ত্রী'র সনমতি ছাড়া তা সম্ভব নয় ৷এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করে না থেমে তিনি আরও বলেন, বিধানসভার আগামী অধিবেশনে এই নিয়ে ঝড় তুলবে কংগ্রেস দল ৷ হোজাই জেলা কংগ্রেসের সভানেত্রী ঝিল্লী চৌধুরী এই ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কথায় কথায় চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করা হোজাইর বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষ এই অর্থ প্রকৃত হিতাধীকারিদের বদলে স্রেফ দলীয় কর্মীদের কেন বিতরন করলেন?এই প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের উত্তরে জেলা কংগ্রেস সভানেত্রী জানান, দলের হাই-কমান্ডের সাথে আলোচনা করে বিধায়কের এই অনৈতিক বা নীতি বহির্ভুত এই কর্মকান্ড নিয়ে 'মামলা' করা নিয়ে অতি সত্বর সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন ৷ এদিকে সচেতন মহলে বিজেপি দলের অতি প্রশংশিত 'সবকা সাথ সবকা বিকাশ আউর সবকা বিশ্বাস' কী তাহলে হোজাইর বিজেপি বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষের ঔদ্ধ্যত্বের কাছে হার মেনে স্রেফ ' বিজেপি কা সাথ, বিজেপি কা বিকাশ আউর বিজেপি কা বিশ্বাস'য়ে পরিনত হল কী না সেই নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে ৷যদিও এই প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়ার কেই নেই ৷ এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষের। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী দলনেতারা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি দল, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং হোজাইয়ের বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে।অন্যদিকে,মুখ্যমন্ত্রী'র স্বাক্ষর করা সরকারি ত্রান তহবিলের চেক দুর্গাপুজা'র 'বাম্পার অফার' বা উপহার হিসাবে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা একাংশ বিজেপি কর্মীরা যেমন তাদের নিজ নিজ বেংক একাউন্টে জমা করে তাঁরা বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষ ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই ‘উপহারের’ জন্য৷ ঠিক তেমনই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাংশ দলীয় পদাধীকারি/হিতাধীকারী ঐ 'চেক' নিজ নিজ বেংক একাউন্টে জমা দেওয়ার পর বিধায়ক দ্বারা তাদেরকে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাংশ দলীয় পদাধীকারি/হিতাধীকারী) বা দলকে বিপাকে বা চরম অস্বস্তিতে ফেলার জন্য বিধায়ককে 'দোষারোপ' করেছেন ৷তারা মূখ্যমন্ত্রী'র ত্রান তহবিলের 'অর্থ' তারা সন্মান সহকারে ফিরিয়ে দেবেন বলেও এই প্রতিবেদককে জানান ৷রাজ্যজুড়ে তুমুল বিতর্কের ঝড় তোলা এখন এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী তার ও সরকারের স্বচ্ছ ভাবমুর্তী বজায় রাখতে কী প্রতিক্রিয়া দেন বা ব্যবস্থা গ্রহন করেন এবং দলই বা কী অবস্থান নেয়—সেটাই হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বা লক্ষ্যনীয়।২০২৬এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে হোজাইর বিজেপি বিধায়ক রামকৃষ্ণ ঘোষের এই কর্মকান্ড নিশ্চিতভাবে বিজেপি বিরোধী দলগুলির কাছে এক বিরাট ' ইস্যু' হতে পারে ৷পাশাপাশি হোজাই বিজেপি'র জন্যও অশনি সংকেত বলে মনে করছে সচেতন মহল ৷৷
Comments
Post a Comment