বিশ্বের জনসংখ্যা ৭৭২ কোটি , খ্রিস্ট ধর্মের মানুষের সংখ্যা ২৪০ কোটি,ইসলাম ধর্ম ২৪০ কোটি

বিশ্বজনসংখ্যা রিপোর্ট অনুযায়ী–
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭৭২ কোটি।

এর মধ্যে খ্রিস্টধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২৪০ কোটি (৩১%)। ইসলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৯০ কোটি (২৫%)। হিন্দুধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১২০ কোটি (১৬%)। বৌদ্ধধর্মের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ কোটি (৮%)। নাস্তিকতাবাদ, মুক্তমনা, ইহবাদ ও ধর্মহীন জনসংখ্যা প্রায় ১৩০ কোটি (১৭%)।

এসব তথ্য জানার দরকার কী?

আপনি যদি খ্রিস্টান হোন, তাহলে আপনার জানা দরকার– পৃথিবীর ৬৯% মানুষ আপনার ধর্মটিকে মিথ্যা বলে মনে করে। আপনি মুসলিম হলে মনে রাখবেন– পৃথিবীর ৭৫% মানুষ আপনার ধর্মটিকে মিথ্যা বলে মনে করে। আপনি যদি হিন্দু হোন, তাহলে আপনার জানা দরকার– পৃথিবীর ৮৪% মানুষ আপনার ধর্মটিকে মিথ্যা বলে মনে করে। আর কোনো ধর্মকেই সত্য মনে করে না, এমন মানুষের সংখ্যা খ্রিস্টান আর মুসলিম ছাড়া অন্য যেকোনো ধর্মাবলম্বীর চেয়ে বেশি।

এমনকি ধর্মহীন ও মুক্তচিন্তার মানুষদের সংখ্যা এখন বাড়ছে দ্রুতগতিতে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, জাপান, কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে। এসব দেশের মানুষগুলো ধর্মের মধ্যে নয়; বরং নৈতিকতা, বিজ্ঞান, মানবতা ও যুক্তিবোধের ভিত্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ও শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করছে।

প্রতিটি ধর্মই প্রমাণহীন, যুক্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিকভাবে শুধুমাত্র বিশ্বাসের উপর টিকে আছে। ধর্মীয় কাহিনী, অলৌকিক দাবি কিংবা দেবত্বের ধারণাগুলো কোনো বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ে টেকে না। তবুও কিছু মানুষ তাদের অজ্ঞতা, এজেন্সি ডিটেকশন বায়াস, প্যাটার্ন রিকগনিশন বায়াস, কনফার্মেশন বায়াস, টেলিওলজিক্যাল বায়াস, অথরিটি বায়াসের কারণে ধর্মকে বিশ্বাস করে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন কেউ নিজের বিশ্বাসকে অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। যখন কেউ মনে করে– "আমার ধর্মই সত্য, আর বাকিগুলো ভুল" বা "দোজখে যাবে"– তখনই জন্ম নেয় ধর্মীয় বিদ্বেষ, ঘৃণা, সহিংসতা ও যুদ্ধ।

মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রায় সব বড় যুদ্ধ, নিপীড়ন ও গণহত্যার পেছনের কারণ ধর্মীয় উগ্রতা। ক্রুসেড যুদ্ধ (খ্রিস্টান-মুসলিম সংঘর্ষ), ইনকুইজিশন (ধর্মবিরোধীদের হত্যা), ভারত বিভাজন (ধর্মীয় ঘৃণার ফল), মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত– সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ধর্ম যখন রাজনীতির হাতিয়ার হয়েছে, তখন রক্ত ঝরেছে।

তাই নিজের ধর্মকে সত্য ও শ্রেষ্ঠ মনে করে অন্য ধর্মকে খাটো করে দেখা, কটাক্ষ করা, ব্যঙ্গ করা এবং একটি রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিজের ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন, জবরদখল, উগ্রতা, অসহিষ্ণুতা, অরাজকতা, জোরজবরদস্তি করাটা চরম পর্যায়ের নোংরামি, ইতরামি ও অসভ্যতামি। এমন কিছু করা উচিত নয়, যার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মূর্খ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অপরাধী ও ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে আপনি পরিচিত হয়ে উঠবেন এবং আপনার ধর্মটি ফোবিয়া ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর