মা সবার অন্তরের কথা শোনেন
অন্তর্যামী মা
শ্রীশ্রীমা ছিলেন অন্তর্যামী। সকলের অন্তরের কথা তিনি বুঝতে পারতেন। মায়ের কাছে মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে হত না।মা তাঁর সন্তানদের অন্তরের কথা বুঝে নিয়ে সেগুলো পূরণ করে দিতেন , তাঁর তাঁর ভক্ত সন্তানরা অবাক হয়ে ভাবত মা কেমন করে জানলেন! সুহাসিনী দেবীর একবার মনে হল , মায়ের কাছে তো যাই কিন্তু তাঁর পাদসেবা করার সুযোগ কোনোদিন হল না!! মনে মনে তিনি একটা কষ্ট অনুভব করেন। তিনি মনে মনে ভাবতে লাগলেন,” একটা দিনও যদি মায়ের পায়ে একটু হাত বুলিয়ে দিতে পারতাম!” গোলাপ মায়ের ভয়ে তাঁর এই মনোবাসনার কথা মুখ ফুটে কোনোদিন বলতে পারেন নি। মাকে মুখ ফুটে বললে মা নিশ্চই সে অধিকার দিতেন ! কিন্তু মুখ ফুটে আর বলা হল না! সুহাসিনী দেবীর কথায়,” মনের ইচ্ছা মনেই চেপে কাঁদতাম আর মনে মনে বলতাম, মাগো , ঠাকুরকে তো দেখিনি, তোমার যায় তোমাকে দেখলাম! তোমার কথা শুনলাম! তোমার চরন স্পর্শ করলাম! আবার মাথায় মুখে তোমার স্পর্শ পেলাম, কিন্তু সংসারী বলে কি আমার একটু সেবা নেবে না? তোমার পায়ে একটু হাত বুলিয়ে দেবার অধিকারও কি আমার নেই? “
এরপর একদিন তিনি মায়ের কাছে গেছেন । সেদিন শান্তি ছিলেন তাঁর সঙ্গে। ঘরে ঢুকে সুহাসিনী দেবী দেখলেন মা শুয়ে আছেন। দু-তিনজন ভক্ত মেঝেতে মাদুরের উপর বসে আছে। তিনি দূর থেকে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে মাকে প্রণাম করলেন। মা সস্নেহে বললেন, “ এসেছো মা ,বোসো। শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। শরৎ , গোলাপ, যোগিন, সরলা সবাই ব্যতিব্যস্ত আমাকে নিয়ে । আমার নিজেরই লজ্জা লাগছে। তবে কি মা , দেহধারণ করলে দেহের ভোগ তো করতেই হবে। “ মা চুপ করলেন। কিছুক্ষণ পর সুহাসিনী দেবীর দিকে তাকিয়ে মা বললেন, “ বুড়ো হয়েছি, বাতে ধরেছে, হাতে পায়ে বাতের ব্যথা! টিপে দিলে একটু আরাম হয়!। তুমি একটু টিপে দেবে? “ একজন ভক্ত মহিলা তৎক্ষণাৎ বলে উঠলেন, “ মা আমি দিচ্ছি।” মা সস্নেহে তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, “ তুমি বোসো মা, তুমিতো সেদিন কতক্ষণ দিলে। আজ সুহাস দিক।” সুহাসিনী দেবীর মন আনন্দে বিগলিত হয়ে গেল। তাঁর দুচোখ আনন্দে ভরে গেল। তিনি পরম যত্নে মায়ের পা দুখানি কোলের মধ্যে তুলে টিপে দিতে লাগলেন। 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
#highlighteveryonefollowers
Comments
Post a Comment