বেঙ্গল ফাইলস নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেননি বাঙালি চিত্র পরিচালকরা

১৯৪৬-এ সত্যজিৎ রায়ের বয়স ২৫(জন্ম ১৯২১)। ১৯৪৬-এ ঋত্বিক ঘটকের বয়স ২১(জন্ম ১৯২৫)।‌১৯৪৬-এ মৃণাল সেনের বয়স ২৩(জন্ম১৯২৩)। এঁরা জগৎ বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক।‌ এঁদের মধ্যে ঋত্বিক ঘটক দেশভাগের যন্ত্রণায় জর্জরিত ছিলেন, ছবিও নির্মাণ করেছেন এই নিয়ে, যেমন 'মেঘে ঢাকা তারা'(১৯৬০) 'কোমল গান্ধার'(১৯৬১), 'সুবর্ণরেখা'(১৯৬২), এছাড়া 'তিতাস একটি নদীর নাম'। এই ছবিগুলোয় দেশভাগ ও পরবর্তীকালে জীবনযন্ত্রণা মুখ্য উপজীব্য ছিল। ঋত্বিক ঘটকের ওপর দেশভাগের প্রভাব ছিল ভয়ংকর।‌ 
   কিন্তু সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন? তাঁরা কেন বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন? ক্যালকাটা কিলিঙের দিনগুলোয় তো তাঁরা প্রায় প্রত্যক্ষদর্শীর মতোই, যুবা। এত বড় ঘটনাটি তাঁদের মধ্যে কোনো প্রভাব বিস্তার করল না? কী আশ্চর্য!
    সত্যজিৎ রায় তো "হীরক রাজার দেশে"-তে উদয়ন পণ্ডিতের পাঠশালায় দুটি মুসলমান বালককে(একটির নাম আলম, অন্যটির মনে নেই) হাঁটু অব্দি ছোট ধুতি পরিয়ে "ধর্মনিরপেক্ষ" সিনেমা বানালেন। একবারও ভাবলেন না, ব্রাহ্মণের চতুষ্পাঠী বা টোলে ওইভাবে মুসলমান শিশু পড়ার উদাহরণ বিরল। বরং রাজা রামমোহন রায় মাদ্রাসায় পড়েছিলেন, এই তথ্যে চমকে ওঠার মতো কিছু নেই। সৈয়দ মুজতবা আলি সরকারি স্কুলে আরবি-ফারসি না নিয়ে সংস্কৃত নিয়েছিলেন, এটা সম্ভব। কিন্তু টোলে চতুষ্পাঠীতে ধুতি পরা মুসলমান বালক অলীক কল্পনা। সেটাও সত্যজিৎ রায়ের মতো মানুষ করেছিলেন। কিন্তু দেশভাগ বা কলকাতা-নোয়াখালি দাঙ্গা নিয়ে ছবি করার কথা ভাবেননি।‌ মৃণাল সেনও না।
    এইসব কথা ভাবলে "বেঙ্গল ফাইলস" তো বিরাট দুঃসাহস! অন্তত ইতিহাস কথা কইছে এতে। তাই নয় কি? 
    দেরি না-করে দেখুন সিনেমাটি। এরপর ভালোমন্দ বিচার আপনার। 
    পশ্চিমবঙ্গে সিনেমাটি "নিষিদ্ধ" ঘোষণা করে ভালোই করেছে মমতা সরকার।‌ এতে লোকে পার্শবর্তী রাজ্যে গিয়েও দেখছে। কাটিহার, দেওঘর বা ওড়িষ্যা। ভালোই হলো, এতকাল ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক যেত পশ্চিমবঙ্গ থেকে, এখন পরিযায়ী দর্শক যাচ্ছে!!
     চুপিচুপি বলে রাখি, যদি সিনেমা হল-এ গিয়ে দেখার সৌভাগ্য না-হয়, তাহলে চুপচাপ একটু ইনবক্স করবেন তো। তবে হ্যাঁ, কাকপক্ষীতেও যেন টের না-পায়।
    হে ক্ষমতাময়ী, "তোমারে বধিবে যে, গোকূলে বাড়িছে সে"।
•••
প্রশান্ত চক্রবর্তী

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর