শিলচর শহরে নেতাজির প্রতিমূর্তি উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

‎ আসামের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মহাশয় গতকাল,৩১ সে আগষ্ট '২৫ রবিবারে আসামের ঐতিহাসিক শহর শিলচরের রঙ্গিরখাড়ি  তিন আলীর মুড়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সেনানী, ব্রিটিশ ত্রাস আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক, অবিভক্ত ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ব্রোঞ্জের একটি পূর্ণাবয়ব সুবৃহৎ প্রতিমূর্তি জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে উন্মোচন করেন। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ভারত বাসীর বিশেষ করে বিশ্ব বাঙালির হৃদয়ের মণি।
‎ তাঁর প্রতি মূর্তি স্থাপন ও উম্মোচন অতি পবিত্র কাজ। সেই মূর্তি উম্মোচন করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী একটি পুণ্য কাজ করায় হোজাই নেতাজী মূর্তি সুরক্ষা সমিতির হয়ে আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
‎       ভারতের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র মোদী মহাশয়ও ২০২২ সনে দেশ স্বাধীনের ৭৫ বর্ষ পূর্তি ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ জন্ম বর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানী দিল্লীর ঐতিহাসিক পীঠস্থান ইন্ডিয়া গেটের সন্নিকটে ব্ল্যাক গ্রেনাইট পাথরের একটি পূর্ণবয়ব নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি মূর্তি স্থাপন ও উম্মোচন করে অনুরূপ পূণ্য অর্জন করেছেন। তিনি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর পুণ্য জন্ম তিথিকে পরাক্রম দিবস বলে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে আপামর বাঙালির হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
‎    কিন্তু দুঃখের বিষয়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম শত বার্ষিকী কে অনুরূপ ভাবে স্মরণীয় করে রাখতে, হোজাইর নেতাজী প্রেমীদের আবদারকে সম্মান জানিয়ে ১৯৯৪  সনে আসামের তৎকালীন মন্ত্রী তথা বিধায়ক, নেতাজী প্রেমী ডাঃ অর্ধেন্দু কুমার দে হোজাই শহরের প্রাণ কেন্দ্র পুলিশ পয়েন্ট তিন আলীতে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ব্রোঞ্জের একটি বৃহৎ পূর্ণাবয়ব প্রতি মূর্তি স্থাপন করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়া দ্বারা উম্মোচন করিয়ে হোজাই বাসীকে উপহার দিয়েছিলেন। মূর্তিটি স্থাপনের পর এই স্থানটি নেতাজী কর্নার নামে নামা করণ করা হয়। হোজাই বাসীর কাছে জায়গাটি বড় পবিত্র। কিন্তু, রেল বিভাগ,স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার ইচ্ছাকৃত, অপরিকল্পিত ও বিবেক হীনতার জন্য মূর্তিটি সৌরব,গৌরব ও পবিত্রতা অনেকাংশে ক্ষুন হয়েছে। মূর্তিটির পবিত্রতা সসম্মানে অক্ষুন্ন রাখার জন্যে আমরা রেল কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে একটি জন বহুল দৃষ্টি নন্দন স্থানে মূর্তিটি স্থানান্তরিত করার বারবার অনুরোধ জানিয়েও তাঁদের মনের কোনো সাড়া পাইনি। হোজাই পৌর সভাও পৌর এলাকায় দৃষ্টি নন্দন স্থানে মূর্তিটি স্থানান্তরিত করতে মাটি প্রদানে অক্ষমতা প্রকাশ করেছে। হোজাই শহরে রেলের প্রচুর উদ্ধৃত মাটি থাকা সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষও মাটি দিতে অস্বিকার করেছে। জিলা প্রশাসনের ভূমিকা নির্বিকার। হোজাইর মাননীয় বিধায়ক শ্রী রামকৃষ্ণ ঘোষ মহাশয় সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত কিন্তু তিনিও নির্লিপ্ত। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি মূর্তির এহেন অবস্থা দেখে হোজাই বাসীও মর্মাহত, লজ্জ্বিত।
‎  এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মহাসয়ের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে আমরা e mail করেছি। কিন্তু উত্তর পাইনি।
‎   আগামী কাল মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আমাদের হোজাই শহরে একাধিক সরকারি কার্যসূচিতে অংশ গ্রহণে আসবেন।
‎  আশা করছি তিনি মূর্তিটির স্থানান্তরের বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।
‎ ইতি 
‎বিজয় চক্রবর্তি 
‎ সাধারন সম্পাদক 
‎  হোজাইর নেতাজী মূর্তি সুরক্ষা সমিতি।
‎   

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর