আমরা বাঙালির প্রতিবাদ মুখ্যমন্ত্রীকে


তারিখ : ৩০ আগস্ট, ২০২৫ 
 স্থান : শিলচর
আজ “আমরা বাঙালি”র  পক্ষ থেকে ই মেল যোগে আসামের  মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, শ্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার কাছে একটি  স্মারকলিপি পেশ করেছে। এতে সুপ্রাচীন কাছাড় জেলার অন্তর্গত লক্ষীপুর মহকুমার ১৯টি গ্রামকে জেলার মানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে ডিমাহাসাও জেলার সঙ্গে যুক্ত  করার সরকারি সিদ্ধাতের প্রতিবাদ করে বলা হয়েছে যে, ডিমা নেশন্যাল লিবারেশন আর্মি এবং অন্যান্যদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এ ধরনের পদক্ষেপ অসাংবিধানিক এবং  জনস্বার্থের  পরিপন্থী, ইতিহাসবিরোধী এবং বৈষম্যমূলক। 
লক্ষীপুর মহকুমার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে এ স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে  অষ্টাদশ শতকে (১৭৪৫-৫০) উত্তর কাছাড়ের মাইবং থেকে ডিমাসা রাজধানী সমতলে নামিয়ে আনার পূর্ব থেকেই এই গ্রামগুলিতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে বৃহৎ সংখ্যক বাঙালি বসবাস  করে আসছে এবং  কৃষি-অর্থনীতি,  শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খাসপুরকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক ভাবে ডিমাসা রাজত্ব প্রতিষ্ঠা হলে ডিমাসা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থানে কাছাড়ের একটি উজ্জ্বল ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হয়। কাছাড়ের জনসাধারণের ভাষাকেও ডিমাসা রাজসভা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রাজকীয় নথিপত্র, সনন্দ, দণ্ডবিধি, মুদ্রা  সবকিছুতেই বাংলাভাষার প্রয়োগ নিশ্চিত করেন। রাজসভার পৃষ্ঠপোষোণায় উন্নত সাহিত্যও সৃষ্টি হয় বাংলা ভাষায়। 
   প্রেস বার্তায় আরও বলা হয়েছে  ১৮৩২ সালে কাছাড়ে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার পরও নূতন পরিস্থির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিমাসা  ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতায় অঞ্চলের শিক্ষা সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক বিকাশে বাঙালি নিজস্ব ভূমিকা পালন করে গেছে।  বিশেষ উল্লেখ্য,  ১৯২১ সাল থেকে লক্ষীপুরের বিশিষ্ট জননেতা গঙ্গাদয়াল দীক্ষিতের নেতৃত্বে অঞ্চলের মানুষ স্বদেশী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাছাড়া  গত শতকের প্রথম দশকে  লক্ষ্মীপুরের মৌজাদার, তৎকালীন বিধান পরিষদের সদস্য  রায়বাহাদুর বিপিনচন্দ্র দেবলস্করের  আমন্ত্রণে আসামের গভর্নর আর্চডেইল আর্ল এখানে স্বয়ং এসে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একখণ্ড জমি এবং নগদ অর্থের সংস্থান  করে যান,  যে প্রতিষ্ঠানে বাঙালি সহ বিভিন্ন ভাষিকগোষ্ঠীর পড়ুয়ারা আজও শিক্ষালাভ করছে।   
   ১৯৬০-সালে ভাষা আন্দোলনে এ অঞ্চলের ডিমাসাভাষী সহ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বিভিন্ন  জনগণ অংশগ্রহণ করেছেন। এই সুন্দর সৌভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজে জনগণের মতামতের অপেক্ষা না করে একতরফা এ সিদ্ধান্ত নিদারুণ আঘাত হেনেছে বলে জনগণের অভিমত। 
 এ মহকুমা থেকে   ১৯টি গ্রামকে কাছাড় থেকে বিচ্ছিন্ন করা মানে—
• ঔপনিবেশিক ধারাবাহিকতায়  divide and rule নীতি অনুসরণ করে জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করা, বিশেষ করে ডিমাসাদের বাঙালিদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা, যা কারও কাছেই কাঙ্ক্ষিত নয়।  
• কয়েকটি সংগঠনের পরামর্শে যে-প্রশাসনিক মানচিত্র পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে  এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে  সেই বাঙালি জাতিগোষ্ঠী (সঙ্গে মণিপুরি, হিন্দিভাষী, খাসি, রাজবংশী এবং অন্যান্যরা)  যাদের সত্তার সঙ্গে  অন্তর্লীন হয়ে রয়েছে ভারতবর্ষের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য।  এদেরই নিজ জেলা থেকে উৎখাত করে ৬ ষ্ঠ তপশিলের অন্তর্গত  একটি পার্বত্য জেলার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যেখানে ভিন্নতর ভূমি  আইন প্রচলিত—এটা অগণতান্ত্রিক, অমানবিক এবং বাঙালিদের প্রতি বিশেষ আক্রোশ মূলক। এতে এটা স্পষ্ট হয়েছে এই ভারতীয় নাগরিক অচিরেই নিজ জমির অধিকার-হারা হয়ে  নিজবাসভূমে পরবাসী হয়ে যাবার পথে।  
• এধরনের পদক্ষেপে পুরো এলাকার প্রাচীন সামাজিক পরিমণ্ডল ভেঙে দেওয়া এবং একটি সামাজিক হানাহানির পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।
আমরা বাঙালির দাবি
1. অবিলম্বে ১৯টি গ্রামকে পুনরায় কাছাড় জেলার অন্তর্ভুক্ত করা 
2. বাঙালি জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া
3. প্রশাসনিক পদক্ষেপে কোনও  সম্প্রদায়কে বঞ্চিত করা থেকে বিরত থাকা।  
4. নীতি প্রণয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া
সংগঠনের অবস্থান
আমরা বাঙালি  মনে করে, সরকারের এই পদক্ষেপ ঔপনিবেশিক আমলের divide and rule নীতির পুনরাবৃত্তি। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব ও অধিকারকে বিপন্ন করার অপচেষ্টা।
সতর্কবার্তা
আগামী কাল নেতাজি সুভাষচন্দ্রের মূর্তির আবরণ উন্মোচচন করতে আসা মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা বাঙালি  বিনীত ভাবে অনুরোধ করছে  নেতাজির স্বভাষীর প্রতি বিদ্বেষমূলক এ পদক্ষেপ   অবিলম্বে প্রত্যাহার করে যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। অন্যথায় জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে দল  বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে ।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর