অসমের সরাইঘাট সেতুর ইতিহাস

**সরাইঘাট সেতুর ইতিহাস।*

আসামের ব্রহ্মপুত্রের ওপর প্রথম রেল–কাম–রোড সেতু ‘সারাইঘাট ব্রিজ’ (১৯৬২)–এর নকশা ও নির্মাণে এক বাঙালি প্রকৌশলীর ঐতিহাসিক অবদান আছে—তিনি ছিলেন নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বঙ্কিমচন্দ্র গাঙ্গুলি (Bankim Chandra Ganguli)। রেলওয়ের অধীনে তাঁর তত্ত্বাবধানেই সারাইঘাট সেতুর সামগ্রিক নকশা, নির্মাণ সমন্বয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়। 

সারাইঘাট ব্রিজ: ইতিহাস, নকশা ও নির্মাণ।

ধারণা ও সিদ্ধান্ত: ব্রহ্মপুত্রের ওপর সেতু নির্মাণের ভাবনা ১৯১০-এ উত্থাপিত হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিকল্পনা গতি পায়। ১৯৫৮ সালে সংসদের বাজেট বক্তৃতায় নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়। 

নির্মাণকাল ও উদ্বোধন:--- ১৯৫৮–৫৯-এর শুষ্ক মরসুমে কাজ শুরু; ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে রেল চলাচল-উপযোগী হয়,
 ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম ইঞ্জিন সেতু পার হয়; সড়ক পথ খোলে ১৯৬৩ সালের মার্চে; জওহরলাল নেহরু ৭ জুন ১৯৬৩-এ সেতুর নামকরণ করেন। প্রকল্পব্যয় ছিল আনুমানিক ₹১০.৬৫ কোটি। 

নকশা ও কাঠামো: প্রায় ১.৫ কিমি (১৪৯২–১৫০০ মিটার) দীর্ঘ এই সেতু ডাবল-ওয়ারেন ট্রাস স্টিল গার্ডার ব্যবহারে নির্মিত; রেল-সড়ক একত্রে চলাচলের জন্য উচ্চতা স্বাভাবিক বন্যা স্তর থেকে ~৪০ ফুট রাখা হয়। ফাউন্ডেশন ও পিয়ার নির্মাণ করে হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (HCC) এবং গার্ডার নির্মাণ করে ব্রেথওয়েট, বার্ন অ্যান্ড জেসপ (BBJ)। 

প্রকল্প নেতৃত্বে বাঙালি প্রকৌশলী: “প্রকল্পের প্রথম চিফ ইঞ্জিনিয়ার” হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র গাঙ্গুলির সরাসরি তত্ত্বাবধানের উল্লেখ সরকারি পত্রিকা Yojana (জুন ১৯৬৩)–এ আছে; পরে তিনি এন.এফ. রেলের জেনারেল ম্যানেজার হন। 

*আসামের উন্নয়নে প্রভাব।*

উত্তর–পূর্ব ভারতের ‘লাইফলাইন’: সারাইঘাট সেতু গুয়াহাটি–উত্তর গুয়াহাটি সংযোগ স্থাপন করে সমগ্র উত্তর–পূর্বের সঙ্গে মূল ভারতের পরিবহন-ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে; ১৯৬২-র ভারত–চীন যুদ্ধকালে লজিস্টিক সহায়তায় সেতুটির ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখিত। 

পরবর্তী সেতু–নির্মাণের নজির: সারাইঘাটের সফলতার পর ব্রহ্মপুত্রে ধারাবাহিকভাবে আরও সেতু—কোলিয়া ভোমোরা সেতু (তেজপুর, ১৯৮৭), নারায়ণরায়ণ সেতু (জোগিঘোপা, ১৯৯৮), ভূপেন হাজরিকা সেতু/ঢোলা–সাদিয়া (২০১৭), বোগীবিল (২০১৮), নিউ সারাইঘাট (২০১৭)—ইত্যাদি নির্মিত হয়; এগুলো আঞ্চলিক বাণিজ্য, চিকিৎসা-শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও পর্যটনে গতি এনেছে। 

চলমান সম্প্রসারণ:-- গুয়াহাটি–নর্থ গুয়াহাটি ৬-লেন এক্সট্রাডোজড সেতু ও পালাশবাড়ি–সুয়ালকুচি ৪-লেন সেতু–সহ নতুন প্রকল্পে বহুপাক্ষিক তহবিল অনুমোদিত—আসামের বুনিয়াদি পরিকাঠামো আরও শক্ত হচ্ছে। 

*সংক্ষেপে ‘বাঙালি ব্যক্তির’ অবদান:---*

বঙ্কিমচন্দ্র গাঙ্গুলি, এক বাঙালি রেলওয়ে প্রকৌশলী, সারাইঘাট সেতুর প্রকল্পপ্রধান/চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নকশা–নির্মাণে নেতৃত্ব দেন—যা আসামের আধুনিক সংযোগব্যবস্থার যুগান্তকারী সূচনা করে। পরবর্তী দশকে যে বহুসেতু–নির্মাণ হয়েছে, তার পথিকৃত ছিল এই প্রকল্প।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর