বাঙালি জাতির ইতিহাস সাত হাজার বছরের পুরোনো :প্রদীপ দত্ত রায়
বাঙালি জাতির ইতিহাস প্রায় ৭ হাজার বছরের পুরোনো। বিশ্বখ্যাত বাংলা ভাষার ইতিহাসকার আচার্য সুকুমার সেন, আচার্য মোহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে চর্যাপদকে বাংলা ভাষার আদিরূপ ধরলে বাংলাভাষা হাজার –বারশো বছরের পুরনো। অধ্যাপক নীহার রঞ্জন রায় থেকে আজকের আন্তর্জাতিক স্তরের ভাষা বিশেষজ্ঞ ও আসাম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্যের মতে বাংলা ৫/৬ শতকের ভাষা (সুতনূকা প্রত্নলিপি সহ নানা নিদর্শনের সূত্র তিনি উল্লেখ করেছেন ) অর্থাৎ দেড় হাজার মাত্র নয় প্রায় ৪ হাজার বছর আগের ভাষা বাংলা । আর বাঙালির অস্তিত্বের কথা উঠলে তার প্রত্ন ইতিহাস খ্রিস্ট পূর্বাব্দের ৭ম/৮ম শতকের বলে বহু তথ্য সূত্রেই বাঙালির প্রত্ন তাত্ত্বিক নিদর্শন মেলে। চর্যাপদকে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদে যে বাংলা কাব্যভাষা প্রকাশিত হয়েছে, নিশ্চয়ই তার আগে গদ্য বাংলার প্রচলন ছিলো। তার সন্ধানের জন্য নানা মুখী অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রখ্যাত গবেষক প্রবোধ বাগচির উল্লেখ সূত্রে তারা একটি চীনা- সংস্কৃত অভিধানের সন্ধান পান যার সংকলক ৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে। ঐ অভিধানে অন্তত ৫০টা বাংলা শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালিদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কারণ আন্দামানের সেলুলার জেলে গেলে দেখা যাবে সেখানে যে তালিকা রয়েছে এর মধ্যে ৮০ শতাংশই বাঙালি বিপ্লবী। বাঙালিদের এই বিশাল অবদান প্রকারান্তরে চাপা দিয়ে রাখার জন্য বারবার ভিন্ন ভিন্ন চিত্রনাট্য রচনা করে আসা হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জনসংখ্যার নিরিখে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য ছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। আন্দামানে তিনি স্বাধীন ভারতের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিলেন। তিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন এটা প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম থেকে রাষ্ট্রশক্তির বয়ানে বলা হয় তাইওয়ানে তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য আজও উন্মোচিত হয়নি। নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনে কয়েকটি কমিশন গঠন করা হলেও কমিশন এ কাজে সফল হয়নি। সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে বাঙালিদের অবদান এতটাই যে অন্য কোন জাতির কাছে এটা এক প্রকার ঈর্ষার বিষয়। তাই, হিন্দি বলয়ের বরাবরই একটা লক্ষ্য হলো বাঙালিকে কোনঠাসা করে রাখা। একসময় জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং উঠেপড়ে লেগেছিলেন। কিন্তু তাতে নানা মহল থেকে বাগড়া দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে প্রণব মুখার্জির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে তাকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করা হয় পিভি নরসিংহ রাওকে। এরপরেও আরেকবার প্রণব মুখার্জির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো সুযোগ তৈরি হলে কংগ্রেস মনমোহন সিংহকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে। প্রণব যাতে ভবিষ্যতে কখনো প্রধানমন্ত্রীর দাবিদার হয়ে উঠতে না পারেন সেজন্য তাকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করে রাজনীতির ময়দান থেকে আলবিদা জানানো হয়।
Comments
Post a Comment