অষ্টধাতুর কালো পাঁচ মুখি শিব ভারতে আর দ্বিতীয়টি নেই,আছে শুধু মুর্শিদাবাদে
অমল গুপ্ত ,কান্দি জেল রোড,১৯ জুলাই, ,মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ একদিন বাংলা বিহার উড়িষ্যা র রাজ ধানী ছিল। আদি হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম সংস্কৃতি ধারক ও বাহক এই জেলাতেই। ভারতের আদি সাংস্কৃতিক উজ্জ্বল পরম্পরা লুকিয়ে আছে জঙ্গলের গভীরে । ভক্ত প্রাণ মানুষ এই ঠিকানা খুঁজে পান নি।আজ আমরা সেই আদি অকৃত্রিম উজ্জ্বল পরম্পরা ক ষ্টিক কালো পাথরের তিন ফুটের পাঁচ মাথার শিব মূর্তি খুঁজে পেলাম। সারা ভারতে একমাত্র নেপালের পশুপতি মন্দিরের পর ,এই ভারতে দ্বিতীয়টি নেই।নেপালের পঞ্চ মুখি শিব মূর্তি ভারতের থেকে ছোট বলে পুরোহিত সুমিত রায় চৌধুরী জানালেন।মুর্শিদাবাদ জেলার সদর সহর বহরমপুর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরবর্তী কান্দি মহকুমা শহর থেকে টোট তে জেমো বাঘডাঙ্গা নামে গ্রামাঞ্চলে যেকেউ বললেই দেখিয়ে দেবে ১৩ টি শিব মন্দির নিয়ে পঞ্চ মুখি শিব মন্দিরের পবিত্র স্থান।এই পঞ্চ মুখি শিব কে রাতে পাহারা দেন পুলিশ। রাজ্যের পুরাতত্ত্ব বিভাগ মন্দির টিকে নানা জটিলতার জন্যে অধিগ্রহণ করেনি।কান্দি পৌর সভা এক কোটিরও বেশি টাকা মঞ্জুর করেছিল কিন্তু কতটুকু কাজ হয়েছে প্রশ্ন গ্রামবাসীর। আজ ১৯ জুলাই ভোরবেলায় বিশ্বরূপ সেনগুপ্ত কে পাশে নিয়ে মন্দির পরিক্রমা করেছি। দেশের অন্যতম পবিত্র শিবমন্দির আরও উন্নতির শিখরে পৌঁছে যেতে পারত
অবেলার অন্ধকারে নিমজ্জিত। ঢিল ছোড়া দূরত্বে বিশাল পুকুর পাড়ে অস্টি ধাতুর দুর্গা মূর্তি সারাবছর পুজো হয়। বর্তমান বাংলদেশে নাটোর রাজবাড়ীর রাণী এরকম দ্বিতীয় দুর্গা মুতি গড়িয়ে ছিলেন বলে পুরোহিত অমি তেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী জানালেন।বলেন এই দুর্গা মূর্তি টি দুষ্কৃতী রা সামনের সদর ঘটে ফেলে দিয়েছিল। আগের মূর্তিটি আর পাওয়া যায়নি। এই মন্দিরের পিছনে আদি দ্বাপর যুগের রাধা কৃষ্ণ মন্দির এর ভগ্ন স্তূপ জঙ্গলে ভরে আছে। এই জঙ্গলের গভীরের এক শিব মন্দিরে সন্ধ্যার পুজো অর্চনার প্রদীপ জ্বলতেই সারা গ্রাম সেই আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠতে দেখেছে গ্রামবাসী। মন্দিরের পাশে ভিতরের ঘরে রাধাকৃষ্ণ সঙ্গে জগন্নাথ, সুভদ্রা ,বলরাম। পূজিত হচ্ছেন।পিছন দিকে বিশাল জঙ্গলে উজ্বল অতীত চাপা পরে গেছে।ওখানে ও দুর্গা পুজো হত। এখন ধাতুর দুর্গাপুজো পূজিত হচ্ছে। কান্দি বাঘ ডাঙ্গার অনগ্রসর অঞ্চল অন্ধকার আজও আলোর মুখা দেখেনি। উজ্জ্বল অতীত স্মৃতি রোমন্থন করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।
Comments
Post a Comment