ত্রিপুরা দৈনিক সংবাদের অন্তমসারথি প্রদীপ দত্ত রায় চলে গেলেন

দৈনিক সংবাদ-এর অন্যতম সারথি শ্রী প্রদীপ দত্ত ভৌমিক পরলোকগমন করেছেন। 
দিল্লির AIMS - এ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, গতকাল গভীর রাতে।
ঘাত-প্রতিঘাতের সিঁড়ি বেয়ে দৈনিক সংবাদের উত্তরোত্তর সাফল্যের এক দুর্নিবার সেনাপতি ছিলেন তিনি।
পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক প্রয়াত ভূপেন দত্ত ভৌমিকের সুযোগ্য ভ্রাতুষ্পুত্র প্রদীপবাবুই ছিলেন পত্রিকার প্রাণভোমরা। 
খবর নির্বাচন, পত্রিকার কলেবর সাজানো, সাংবাদিক সহযোদ্ধাদের দায়িত্বে নিয়োজিত করা, দূর- দূরান্তের  সংবাদদাতাদের অভাব- অভিযোগ শোনা, সর্বোপরি রাজনীতি সংক্রান্ত খবরের বাইরেও বিশ্লেষণমূলক, বিতর্কিত যেকোনও খবর সংশোধন করার কাজে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত।
শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ভূপেনদার সঙ্গ ছাড়েননি কোনওদিন। মন খারাপ হলেও  নিজে মেজাজ হারাননি।
কাকু ভূপেনবাবুর তর্জুনি হেলনে সরকারি চাকুরি থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রদীপদা দৈনিক সংবাদে সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শ্রী মানিক সাহার বিশেষ তদারকিতে দিল্লিতে চিকিৎসা চলছিল প্রদীপ বাবুর ।
সেখানে তাঁর চিকিৎসা সেবার কাজে একজন ওএসডি নিয়োগ করা হয়েছিলো সর্বক্ষণের জন্য, মুখ্যমন্ত্রীর বদান্যতায়।
তাঁর অকাল প্রয়াণ ত্রিপুরার সমগ্র সংবাদপত্র  জগৎ - এর কাছে এক নক্ষত্র পতন।
সকালে সবার আগে সংবাদ ভবন পৌঁছনো,সবার শেষে বাড়ি ফেরা ছিলো তাঁর রোজ নামচা। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা এসব পাত্তাই পেতোনা তাঁর কাছে।
আমারও সৌভাগ্য হয়েছিলো তাঁর অধীনে সাংবাদিকতার পাঠ নেওয়ার। সোনালী সেই দিনগুলি আজ মনে পড়ছে একে একে।
ভূপেনদার রক্তচক্ষু শাসন, দিনের কর্ম মুখরতার মধ্যেও সংবাদ ভবনে বিরাজ করতো অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।
ব্যতিক্রম ছিলো শুধু  সংবাদসংস্থা ইউআইএন - র টেলিপ্রিন্টার মেশিনটি । সেই নীরবতায় মেশিনটি বাদ সাধতো অনেকটা উপহাস ছলে।
নির্দিষ্ট সময়ান্তরালে প্রদীপদা টেলিপ্রিন্টারের তাজা খবরে চোখ রাখতেন। পাতা ছিঁড়তেন আর বাংলায় অনুবাদের জন্য সহযোগী সাংবাদিকদের টেবিলে পাঠিয়ে দিতেন।  
রাজ্য কিংবা বহির্বিশ্বের সব ফ্যাক্স, ফোনের আথিত্য দেখাতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি।
তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।🕉️ শান্তি:🙏

-বিপ্লব ভূষণ ধর,
গুয়াহাটি।

Comments

Popular posts from this blog

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে প্রকাশ পাবে বাংলা শারদ সংখ্যা নয়া ঠাহর